অবশেষে পরীক্ষার অনুমতি পেল গণস্বাস্থ্যের কিট

শুক্রবার, ০১ মে ২০২০ | ১১:৪০ অপরাহ্ণ | 276 বার

অবশেষে পরীক্ষার অনুমতি পেল গণস্বাস্থ্যের কিট

অবশেষে দেশীয় প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস নির্ণয়ক র‌্যাপিড ডিট ব্লট টেস্টিং ‘কিট’-এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখার অনুমতি দিয়েছে সরকারের ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) অথবা আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশে (আইসিডিডিআর,বি) কিটটির পরীক্ষা করাতে হবে। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ইতোমধ্যে গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিএসএমএমইউর উপাচার্য এবং আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর আগে কিট নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র সংবাদ সম্মেলন করে পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করে।

ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, বিএসএমএমইউ বা আইসিডিডিআরবি কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার পর অনুমোদনের সুপারিশ করলে তারা কিটটি বিপণনের অনুমতি দেবেন। অর্থাৎ গণস্বাস্থ্যকে আর নিয়ম অনুযায়ী কন্ট্র্যাক্ট রিসার্চ ফার্মের (সিআরও) দ্বারস্থ হতে হচ্ছে না। তিনি বলেন, আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি, তৃতীয় কোন পক্ষের মাধ্যমে ওই কিটের কার্যকারিতার পরীক্ষা করতে হবে। বিএসএমএমইউ অথবা আইসিডিডিআর,বিতে সেই পরীক্ষা করাতে গণস্বাস্থ্য রাজি হয়েছে। কার্যকারিতা পরীক্ষাটি দুই জায়গাতেই হতে পারে, তবে যে কোন একটি সংস্থার তত্ত্বাবধানে তা হতে হবে। সেখানে কার্যকারিতা পরীক্ষা হবে। সেই ট্রায়ালের রিপোর্ট বিএসএমএমইউ বা আইসিডিডিআর,বি আমাদের কাছে জমা দেবে। ট্রায়ালে উত্তীর্ণ হলে পরে আমরা রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় যাব।

ঔষধ প্রশাসন অধিদঢতরের চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এখন আমরা বিএসএমএমইউ‘র সঙ্গে বসে একটা পরিকল্পনা করে তাদের আমাদের কিটটা দেব। তারা কিট পরীক্ষা করে ওষুধ প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন। কার্যকারিতা পরীক্ষার অনুমতি পাওয়ার মধ্য দিয়ে গণস্বাস্থ্যের কিটের অনুমতি পাওয়ার বিষয়টি এখন ‘দ্বিতীয় ধাপে’ গেল। আগামী সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেই তারা বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসবেন বলে জানান ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

এদিকে, গত ২২ এপ্রিল থেকে কিটটি নিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সঙ্গে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের টানাপোড়ন চলে। গত শনিবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র আনুষ্ঠানিকভাবে করোনা শনাক্তকরণ কিট সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে চেয়েছিল। তবে ওই অনুষ্ঠানে সরকারের কোন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। পরে অনুমোদনের জন্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে নিয়ম অনুযায়ী কন্ট্র্যাক্ট রিসার্চ ফার্মের (সিআরও) সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। এতেই বেঁকে বসেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এ নিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনও করে।

গত ১৭ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের পরীক্ষার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণায় কিট উৎপাদনের কথা জানায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। পরে ১৯ মার্চ কিট উৎপাদনের সরকারী অনুমোদন পায় প্রতিষ্ঠানটি। করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের ‘জিআর র‌্যাপিড ডট ব্লট ইমিউনোএ্যাসি’ কিট তৈরির জন্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষক দলের নেতৃত্ব দেন ড. বিজন কুমার শীল। অন্য গবেষকরা হলেন, ড. নিহাদ আদনান, ড. মোহাম্মদ রাঈদ জমিরউদ্দিন, ড.ফিরোজ আহমেদ ও সিঙ্গাপুরের একজন গবেষক। ৫ এপ্রিল চীন থেকে কিট তৈরির কাঁচামাল আমদানি করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

সূত্রঃ জনকন্ঠ।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com