আমন মৌসুমে আউশের বীজ বিতরণ!

বৃহস্পতিবার, ১২ জুলাই ২০১৮ | ২:২৯ অপরাহ্ণ | 1285 বার

আমন মৌসুমে আউশের বীজ বিতরণ!

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর উপজেলায় এখন আউশ ধানের বীজ বিতরণ করা হচ্ছে! যদিও আর মাসখানেক পর আউশ কাটা-মাড়াই শুরু হবে। আর এখন আমন ধানের বীজতলা প্রস্তুতে ব্যস্ত কৃষকরা। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা কৃষি অফিস অসৎ উদ্দেশ্যে বীজ রেখে দেয়ার কারণেই বীজ বিতরণে বিলম্ব হয়েছে।

জানা গেছে, বীজ উৎপাদনের জন্য কৃষকপর্যায়ে ব্রি ধান-৪৮ (আউশের জাত) এর বীজ সরবরাহ করার কথা। ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচটি উপজেলার মধ্যে চারটিতে সঠিক সময়েই এ বীজ বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কৃষকরা সময়মতো বীজ পাননি। ফলে তারা নিজেদের মতো করে বীজ সংগ্রহ করে ধান রোপণ করেছেন।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আব্দুল জলিল, রহমত আলী, হারুনসহ অনেক কৃষক অভিযোগ করেন, উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা অসময়ে বীজ বিতরণ করছেন। অথচ অনেক আগেই ধান রোপণ শেষ হয়ে গেছে। তারা আমন ধানের সঙ্গে আউশের বীজ বিতরণ শুরু করেছেন! যেখানে বাংলাদেশের ফসল পুঞ্জিকা অনুযায়ী, ১৬ মার্চ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত মূলত আউশের মৌসুম।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গীর পার্শ্ববর্তী রানীশংকৈল উপজেলায় আউশের বীজ বিতরণ করা হয়েছে জানুয়ারিতে। আর ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জ ও হরিপুর উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে মার্চে।

বালিয়াডাঙ্গীর কৃষকরা জানান, আউশ ধানের এক টন ধান বীজ গোপনে বিক্রির জন্য রেখেছিল কৃষি বিভাগ। গত ১৪ জুন কয়েক বস্তা বীজ পাচার করার সময় স্থানীয় ছয়-সাতজন যুবক হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ঠাকুরগাঁও কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালককে জানানো হয়। এ ঘটনার পর বীজ বিতরণ শুরু করে উপজেলা কৃষি বিভাগ।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান ও হরিপুর উপজেলা উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল খালেক বলেন, এখন ব্রি ধান-৪৮-এর বীজ বিতরণের সুযোগ নেই। কয়েকদিন পরেই এ ধান ঘরে উঠবে। এখন আমনের বীজ বিতরণ চলছে।
বীজধান পাচারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও আব্দুল মান্নান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে বলেছি। কারণ এটি তাদেরই বিষয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আফতাব হোসেন বিষয়টি স্বীকার করেন বলেন, ওই কৃষি কর্মকর্তা ভুল স্বীকার করে পরবর্তীতে এ রকম না করার অঙ্গীকার করেছেন। এ কারণে তাকে সতর্ক করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাফিয়ার রহমান। তার দাবি, এখনই আউশের বীজ বিতরণের উপযুক্ত সময়। এ সময় ধান লাগালে বেশি ফলন হবে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতি কেজি ব্রি ধান-৪৮ থেকে বীজ উৎপাদন হয় প্রায় তিন মণ। সে হিসাবে এক টন ধানে তিন হাজার মণ ধানবীজ উৎপাদন হওয়ার কথা। কিন্তু অসময়ে বীজ বিতরণ হওয়ার কারণে বিএডিসির আউশ ধানের বীজ উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বছর ঠাকুরগাঁও জেলায় ২০ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

সংবাদসূত্র: বণিকবার্তা

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com