আসলেই কি চুরি হয়েছিল কাজী নজরুল ইসলামের নোবেল?

শনিবার, ০১ জুন ২০১৯ | ৪:১৪ অপরাহ্ণ | 161 বার

আসলেই কি চুরি হয়েছিল কাজী নজরুল ইসলামের নোবেল?

বাংলা সংস্কৃতি ও সাহিত্যকলায় রবীন্দ্রনাথ আর নজরুল ছাড়া আমরা কিছু ভাবতেই পারি না। আমাদের কোন সাংস্কৃতির অনুষ্ঠান শুরু হয়না, শেষও হয়না রবীন্দ্রনাথ আর নজরুল ছাড়া। তবুও একটা সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী আছে যারা রবীন্দ্রনাথ আর নজরুলকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ফায়দা লুটতে চায়। যারা আদতে জানেও না সাহিত্য, নোবেল, ইত্যাদি সম্পর্কে; যারা জানেনা রবীন্দ্রনাথ আর নজরুলের ঘনিষ্ঠতা সম্পর্কে। একটা গুজব অনেকেই শুনেছেন যে- গীতাঞ্জলি আদতে নজরুলেরই লেখা, রবীন্দ্রনাথ সেটি চুরি করে নোবেল বাগিয়ে নিয়েছেন। অথচ গীতাঞ্জলির জন্য রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পুরষ্কার পান তখন নজরুলের পক্ষে গীতাঞ্জলী লেখা সম্ভবই ছিল না। কী বিশ্বাস হচ্ছে না! চলুন জেনে নেই কমন সেন্স কাহাকে বলে! রবীন্দ্রনাথের জন্ম ১৮৬১ সালে। নজরুলের জন্ম ১৮৯৯ সালে। রবীন্দ্রনাথ ১৯১৩ সালে যখন নোবেল পুরস্কার পান, আমাদের বিদ্রোহী কবি নজরুল তখন সবেমাত্র ১৪ বছরের বালক। তিনি তখন আসানসোলে দিনের বেলা এক রুটির দোকানে কাজ করে রাতের বেলা পুলিশের দারোগা রফিক উদ্দিনের বাসার সিঁড়ির নিচে ঘুমান। বলাবাহুল্য, ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যাওয়ার পূর্বে নজরুলের কবি বলে কোন পরিচয় ছিলনা। তাহলে বলুন তো, কীভাবে নজরুলের গীতাঞ্জলি রবীন্দ্রনাথ চুরি করেন!


বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলামের আচমকা আবির্ভাব ছিল কালবৈশাখী ঝড়ের মতো। তিনি বাংলাভাষা ও সাহিত্যকে নানা দিক দিয়ে করেছেন সমৃদ্ধ এবং মজবুত। কলম যে বন্দুকের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হতে পারে তা তিনি প্রমাণ করেছেন তার ক্ষুরধার আগুনঝরা লেখনীর দ্বারা। কিন্তু বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত কাজী নজরুল ইসলাম কেন নোবেল পেলেন না? তার নোবেল কি আসলেই চুরি হয়েছিল? আসলেই কি রবীন্দ্রনাথ নজরুলের লেখা চুরি করে নোবেল পেয়ে গিয়েছিলেন? এরকম অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খেয়েছে, খাচ্ছে অনেকের মনেই। সঠিক উত্তরটা আমার কজনই বা জানি। চলুন আলোচনা করা যাক এসব নিয়েই।

নজরুলও নোবেল পেতে পারতেন তার নিজস্ব সাহিত্য দিয়ে। কেননা, কাজী নজরুল ইসলাম চির জাগরণের কবি, শিকল ভাঙার কবি, প্রকৃতির কবি। তাঁর আগুনঝরা লেখনীই ছিল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন এবং একাত্তরের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতাকামী মানুষের প্রেরণার উৎস। শুধু যুদ্ধই নয়, জীবনের প্রতিটি যুদ্ধে তাঁর কবিতা, তাঁর গান দেশ-জাতি-সমাজ ও ব্যক্তিকে সামনে চলার পথকে শক্তি যোগায়-সাহস যোগায়। তাঁর বিষের বাঁশি, ভাঙার গান, প্রলয় শিখা, অগ্নিবীনা, যুগবাণী, চন্দ্রবিন্দু, সর্বাহরা, ফনীমনসা, রুদ্রমঙ্গল গ্রন্থগুলো ব্রিটিশ শাসকদের ক্ষমতার ভীত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। তাঁর এই কাব্যগুলো যদি রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলির মতো কেউ ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করে নোবেল কমিটিতে জমা দিতো, সে কাব্যগুলো যদি পৌঁছে যেত পৃথিবীর আরও অনেক মানুষের কাছে তাহলে হয়তো নজরুলও নোবেল পেতে পারতেন। কিন্তু নজরুলের ভাষা, অহম, অলঙ্কার ইংরেজিতে অনুবাদ করতে কী পরিমাণ দুঃসাহস লাগতো ও কষ্টসাধ্য হতো তা সহজেই বোধগম্য। পৃথিবীজুড়ে শোষণের প্রতিবাদ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারতো নজরুলের কবিতা। কিন্তু আজও কটি কবিতা আমরা অনুবাদ করতে পেরেছি নজরুলের।

অগ্নিবীণা
রাজবন্দীর জবানবন্দী
সঞ্চিতা
কাব্য আমপারা​

একটি নোবেল দিয়ে কাজী নজরুল ইসলামকে, তাঁর কাব্যপ্রতিভাকে, তাঁর প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে বিচার করা যাবে না বরং নোবেলের চেয়ে তাঁর জন্য যথাযথ স্বীকৃতি হতে পারতো গণমানুষের ভালোবাসা। যেটি আজ এসব বাজে গুজব ও অস্বীকৃতির ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে। কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বিদ্রোহী এক কবি নন বরং প্রতিটি বাঙালির ভেতর সুপ্ত থাকা প্রতিবাদী এক কণ্ঠ। নজরুলের লেখার মধ্যে সমীকৃত হয়েছিলো বক্তব্যের দাহ আর সৌন্দর্যের তৃষ্ণা। পরস্পরলিপ্ত এই দুই চাপের একটি সহনশীল ঝিনুকের ভিতরে জন্ম নিয়েছিলো তাঁর কবিতার মুক্তো। যে মুক্তো দেখে আমরা মুগ্ধ হই প্রতিনিয়ত।

সৌজন্যেঃ রকমারি.কম

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

কৃষি মন্ত্রনালয়ে ১১-২০তম গ্রেডে বিভিন্ন পদে নিয়োগ
শম্ভুগঞ্জ এর মোমেনশাহী এটিআই এ প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পূনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ১০৮১ জন নিয়োগ
উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে বাছাই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ