সেপ্টেম্বরে ১ কোটি, বাকি দেড় কোটি পরবর্তী মার্চের আগে

আড়াই কোটি কৃষক পাবেন কৃষি স্মার্টকার্ড

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২০ | ১১:৪৩ অপরাহ্ণ | 542 বার

আড়াই কোটি কৃষক পাবেন কৃষি স্মার্টকার্ড

কৃষকদের প্রণোদনা ও উপকরণ সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ২ কোটি ৫০ লাখ কৃষককে দেয়া হবে ‘কৃষি স্মার্টকার্ড’। দুই ধাপে কৃষকদের হাতে তথ্যবহুল ডিজিটাল এই স্মার্টকার্ড প্রদান করবে কৃষি মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে এক কোটি এবং বাকি দেড় কোটি কার্ড দেয়া হবে ২০২১ সালের ১৭ মার্চের আগে তথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীর উদযাপনের সময় অতিক্রমের আগেই।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মো: আবদুল মুঈদ খান গতকাল বিকেলে নয়া দিগন্তকে বলেন, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে আমরা ২ কোটি ৫০ লাখ ডিজিটাল ‘কৃষি স্মার্টকার্ড’ তৈরি করব। তবে আপাতত আগামী সেপ্টম্বরের মধ্যে চাচ্ছি এক কোটি স্মার্টকার্ড তৈরি করতে। এর মধ্যে ৮২ লাখ কৃষকের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে আমাদের কাছে। এই পরিমাণ স্মার্টকার্ড তৈরির জন্য আমরা প্রস্তুত। এর সাথে আরো ১৮ লাখ কৃষকের বিস্তারিত তথ্য বাতায়নে সংরক্ষণ করে ১ কোটি স্মার্টকার্ড সেপ্টেম্বরের মধ্যেই কৃষকের হাতে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই ধরনের একটি প্রস্তাব কৃষি মন্ত্রণালয়কে দেয়া হয়েছে বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার কৃষকদের প্রণোদনা ও উপকরণ সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ‘কৃষি কার্ড প্রস্তুত ও বিতরণ সংক্রান্ত’ একটি অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় কিভাবে দ্রুত কৃষকদের হাতে কৃষি কার্ড তুলে দেয়া যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (প্রোগ্রামার, আইসিটি উইং) মো: আজম উদ্দীন কৃষকদের কৃষি কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে তথ্য বাতায়নে সংরক্ষিত কৃষকদের তথ্য সংবলিত স্মার্ট কার্ডের নমুনা শেয়ার করেন। বর্তমানে কৃষকদের বিস্তারিত তথ্য সংবলিত যে তথ্য রয়েছে তা ছোট স্মার্ট কার্ডে রূপান্তরিত করলে কিক দিলেই সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। এই তথ্য সহজেই আপডেটও করা যাবে বলে জানান আজম উদ্দীন। এ বিষয় কথা বলেন, সভার সঞ্চালক কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) হাসানুজ্জামান কল্লোল ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো: আবদুল মুঈদ খান। কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব তন্ময় দাসসহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বিভাগীয় জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারাও এতে অংশ নেন।


বৈঠকে দুই ধাপে কিভাবে কৃষকদের হাতে কৃষি স্মার্টকার্ড পৌঁছানো যায় তা গুরুত্বসহকারে আলোচনা করা হয়। সে ক্ষেত্রে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এক কোটি কৃষককে ‘কৃষি স্মার্টকার্ড’ প্রদান করা সম্ভব কি না তা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (প্রোগ্রামার, আইসিটি উইং) মো: আজম উদ্দীনের কাছে জানতে চান কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসানুজ্জামান কল্লোল। মো: হাসানুজ্জামান কল্লোল বলেন, এটা সম্ভব। কত টাকা খরচ হতে পারে এ নিয়েও কথা বলেন হাসানুজ্জামান কল্লোল। জবাবে আইসিটির দায়িত্বে থাকা আজম উদ্দীন জানান সেটা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।
বর্তমান যে প্রক্রিয়ায় কৃষি কার্ড দেয়া হয় তা সাধারণ কাগজে প্রিন্ট কপি। এটা বৃষ্টি বা নানা কারণে সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। কৃষি কার্ডকে ফলপ্রসূ করতে হলে স্মার্টকার্ডে যাওয়ার ওপর মত দেন সভার অংশীজনেরাও। এমতাবস্থায় সভাপ্রধান কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসানুজ্জামান কল্লোল কৃষি স্মার্টকার্ডে যাওয়ার বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাবনা দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান।


সভায় কৃষি স্মার্টকার্ড তৈরির ব্যাপারে সিদ্ধান্তের কথা স্বীকার করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো: আবদুল মুঈদ খান নয়া দিগন্তকে বলেন, সভার সিদ্ধান্তের আলোকে আমরা মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাবনা দেবো। এটা চূড়ান্ত হলে স্মার্টকার্ড তৈরির কাজ শুরু হবে।


তিনি বলেন, ২০০৯ সালে কৃষকদের প্রণোদনা বা কৃষি উপকরণ সহায়তা কৃষি কার্ডের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে প্রায় ২ কোটি ৬ লাখ কৃষি কার্ড ভুক্ত কৃষক রয়েছেন। ২০১৪ সালে সর্বশেষ প্রিন্টিং কার্ড দেয়া হয়েছে। যেহেতু এটি লেমেনেটিং করা যায় না তাই নষ্ট হয়ে যায়। আবার অনেক কৃষক মারা যায়, আপডেট করা যায় না। এই কার্ড বাতিল হয় না। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি কৃষি বাতায়ন প্লাটফরমে সব তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। কেউ মারা গেলে বাদ দিয়ে দেবো। আবার নতুন করে কৃষকের কৃষি কার্ড করে দেয়া হবে।


ড. মো: আবদুল মুঈদ খান বলেন, অনলাইনে কৃষকদের তথ্য আপডেট করা হচ্ছে। কিউআর কোড সংবলিত কৃষকদের কৃষি স্মার্টকার্ড হবে। এটা হবে কৃষকের পরিচিতি কার্ড। কৃষি যান্ত্রিকীকরণে প্রকল্পে হাওর এলাকায় ৭০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকায় ৫০ শতাংশ ভর্তুকি পান কৃষক। এই ভর্তুকি নিতে কৃষি কার্ড লাগবে। এ ছাড়া ব্যাংক থেকে কৃষিঋণ, সরকারি প্রণোদনা, কৃষি উপকরণ নিতে এই কার্ড লাগবে। যখন খাদ্য অধিদফতর ধান বা যেকোনো ফসল ক্রয় করবে, তখনো এই কার্ডের প্রয়োজন হবে। কৃষি কার্ড ছাড়া কোনো কিছুই পাবেন না কৃষক।

সংবাদসূত্রঃ নয়া দিগন্ত।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com