উপসহকারী কৃষি অফিসার পদে নিয়োগের ভাইভা প্রস্তুতি

শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৭:৩৩ অপরাহ্ণ | 1244 বার

উপসহকারী কৃষি অফিসার পদে নিয়োগের ভাইভা প্রস্তুতি

ভাইভা বোর্ড:

সাধারণত চার সদস্য বিশিষ্ট একটি ভাইভা বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডে এর চেয়ে বেশি সদস্যও থাকতে পারেন। এবোর্ডে একজন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বপালন করেন।

ড্রেস কোড:

ভাইভা বোর্ডে আপনার পোশাক, অ্যাপিয়ারেন্স, এক্সপ্রেশন, এটিকেট, ম্যানার—এ বিষয়গুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রার্থীর এসব বিষয় বোর্ডের সদস্যরা খেয়াল করেন। তাই ভাইভার সময় নিজের জন্য উপযুক্ত পোশাক নির্বাচন করুন।

ছেলেদের ড্রেস:

শার্ট : সাদা ফুলশার্ট। সাদার ওপর যেকোনো স্ট্রাইপ হলেও চলবে। অন্য রঙের মানানসই শার্টও পরতে পারেন। পকেটে একটি কলম রাখবেন।

প্যান্ট : কালো রঙের ফরমাল প্যান্ট পরুন।

হাতঘড়ি, বেল্ট ও জুতা : চামড়ার ফিতার ফরমাল হাতঘড়ি, জুতা ও প্যান্টের সঙ্গে ম্যাচ করে কালো রঙের চামড়ার বেল্ট পরুন। কালো রঙের, রাবারের সোলযুক্ত ফরমাল জুুুতো পরিধান করবেন। টাই পরার প্রয়োজন নেই। যাঁরা পাঞ্জাবি-পাজামা পরতে চান, সাদা রঙের পরতে পারেন। ভাইভার পাঁচ-ছয় দিন আগে চুল কাটিয়ে নিন। ভাইভার দু-এক দিন আগে নখ ছোট করে নিন। ভাইভার আগের দিন বা ভাইভার দিন সকালে শেভ করে নিন।

মেয়েদের ড্রেস:

মার্জিত রঙের শাড়ি পরিধান করতে পারেন। তবে শাড়ি যেন অতিমাত্রায় কারুকাজের চকমকে না হয়, সেই দিকটা খেয়াল রাখুন। চাইলে সালোয়ার-কামিজও পরতে পারেন। তবে তা যেন মার্জিত রং ও ডিজাইনের হয়। অর্থাৎ শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজ যা-ই পরেন, যেন ম্যাচ হয়। স্বাভাবিক মাপের কানের দুল এবং চেন পরতে পারেন। চুল বেণি করে রাখবেন। পায়ের জুতা শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে ম্যাচ করাতে পারলে ভালো হয়। তবে হাই হিল না পরাই ভালো। হালকা মেকআপ এবং মার্জিত রঙের হালকা লিপস্টিক দিতে পারেন। সঙ্গে কালো কালির কলম রাখুন।

ভাইভার জন্য যা যা পড়বেন বা জেনে রাখবেন:

১. আপনার এবং আপনার মা-বাবার নামের অর্থ কী?

২. আপনার নামের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিখ্যাত ব্যক্তির নাম।

৩. আপনার বংশপরিচয় বা নামের সঙ্গে পদবি থাকলে সে সম্পর্কিত কিছু তথ্য।

৪. আপনার গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ইত্যাদির নাম, আদি নাম ও নামকরণের ইতিহাস জেনে রাখুন। (নিজ জেলা সম্পর্কিত তথ্য জানতে Google/উইকিপিডিয়ায় About home district লিখে সার্চ দিলেই পাবেন)

ইউ/পি চেয়ারম্যান এর নাম – কেননা উনি আপনার নাগরিক সনদে স্বাক্ষর করেন।৷

৫. আপনার জেলা বিখ্যাত কেন? জেলার বিখ্যাত স্থান, নদীর নাম, পণ্য, ঐতিহ্য ইত্যাদি জেনে রাখুন।

৬. আপনার জেলার শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্রে বিখ্যাত ব্যক্তি ও তাঁদের সৃষ্টিকর্ম ও অবদান।

৭. আপনি যে প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা/বিএসসি করেছেন, ওই প্রতিষ্ঠানের পুরো নাম, প্রতিষ্ঠাকাল, বর্তমান প্রিন্সিপালের নাম জেনে নিবেন।

৮. ভাইভার দিনের ইংরেজি, বাংলা ও আরবি তারিখ জেনে যাবেন। বিশেষ দিবস হলে সে সম্পর্কে জেনে যাবেন।

৯. ছোট ছোট ট্রান্সলেশন জিজ্ঞেস করতে পারে। তাই সেগুলো চর্চা করুন।

১০. সাম্প্রতিক বিষয়াবলি ও আপনার জেলা কেন বিখ্যাত সে বিষয়ে জেনে নেবেন।

১১. নিজের সম্পর্কে বলতে বলা এখন বেশির ভাগ ইন্টারভিউ বোর্ডের একটা কমন প্রশ্ন। তাই বাংলা ও ইংরেজিতে নিজের সম্পর্কে বলার প্র্যাকটিস করুন।

১২. কৃষি খাতের বর্তমান অর্জন, এসডিজি, অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব, উৎপাদনের দিক হতে বিভিন্ন ফসলের অবস্থান (dae/moa এর ওয়েবসাইটে সকল তথ্য পাবেন)। আপনার অঞ্চলে সর্বাধিক উৎপাদিত সবজি ও ফসল ইত্যাদি জানুন।

১৩. মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বিশদ ধারণা রাখুন।

১৪. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বর্তমান সরকারের সফলতা ও অর্জন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা রাখুন।

১৫. ডিএই (Department of Agriculture Extension) বিষয়ক তথ্য, ডিএই’র ভিশন, মিশন, সফলতা, কৃষি মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সচিব মহোদয় এর নাম, ডিএই’র উইং পরিচিত ডিএই’র মহাপরিচালক মহোদয় এর নাম ইত্যাদি খুটিনাটি। (dae/moa এর ওয়েবসাইটে সকল তথ্য পাবেন)

১৬. ভিশন ২০২১, ভিশন ২০৪১, মুজিববর্ষ, মেগাপ্রজেক্টস্, এসডিজি, এমডিজি ইত্যাদি দেখতে পারেন।

সহায়ক বই

১.উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ সম্পর্কিত বাজারে প্রচলিত ভালো মানের বই।

৩. কৃষি ডিপ্লোমার মেজর সাবজেক্টসমূহ।

৪. ইন্টারনেট।

৫. দৈনিক পত্রিকা (আপনার পাঠ করা পত্রিকার সম্পাদকের নামসহ) কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ইত্যাদি।

পরীক্ষার দিনের প্রস্তুতি:

১. নির্ধারিত সময়ের বেশ আগেই প্রস্তুতি সেরে ফেলতে হবে।

২. যেসব কাগজপত্র বোর্ডের সামনে পেশ করতে হবে সেগুলো, প্রবেশপত্র, সব সার্টিফিকেটের মূল কপি এবং অন্যান্য কাগজপত্র আগেই গুছিয়ে নিতে হবে।

৩. পরিপাটি হয়ে বোর্ডে উপস্থিত হবেন।

৪. নির্দিষ্ট সময়ের অন্তত ৩০ মিনিট আগে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছবেন।

৫. আপনার সিরিয়াল পরে থাকলে যাঁদের ভাইভা হয়ে যাবে, তাঁদের কাছ থেকে ধারণা নিতে পারেন। কোনো বিষয়বস্তু না জানা থাকলে ভাইভার আগ মুহূর্তে বই ঘাঁটাঘাঁটি করবেন না। কারণ আপনার কাছে ওই প্রশ্ন না-ও জানতে চাইতে পারে। তবে অন্য কেউ পারলে তাঁর কাছ থেকে সংক্ষেপে জেনে নিতে পারেন।

ভাইভা বোর্ডে করণীয়ঃ

১. ভেতরে ঢোকার অনুমতি নিয়ে একটু সামনে গিয়ে যাঁর যাঁর ধর্মীয় রীতিতে অভিবাদন জানাবেন। তারপর চেয়ারের পাশে দাঁড়াবেন। বসতে বললে ধন্যবাদ দিয়ে বসবেন। খেয়াল রাখবেন—চেয়ারে যেন শব্দ না হয়।

২. যিনি প্রশ্ন করবেন, তাঁর দিকে তাকিয়ে চোখে চোখ রেখে তাঁর প্রশ্নের উত্তর দেবেন। কথা বলার সময় অপ্রয়োজনীয় হাত-পা নাড়াবেন না।

৩. উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে অল্প কথায় এবং সঠিক পয়েন্টে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করুন। অপ্রাসঙ্গিকতা পরিহার করুন।

৪. কথা বলার সময় আঞ্চলিকতা পরিহার করবেন।

৫. ঘাবড়াবেন না, রাগবেন না, তর্ক করবেন না, বেয়াদবি করবেন না।

৬. জানা না থাকলে হাসিমুখে ‘দুঃখিত স্যার’ অথবা ‘জানা নেই স্যার’ বলুন।

৭. নাচ, গান, আবৃত্তি, অভিনয়—এগুলোতে আপনার দক্ষতা না থাকলে বিনয়ের সঙ্গে বলুন, ‘পারি না স্যার। ’ তবে আপনি পারেন—এমন কোনো কিছুর কথাও বিনয়ের সঙ্গেই বলবেন।

৮. আপনার ভাইভা শেষ হলে আপনাকে চলে যাওয়ার অনুমতি দিলে উঠে দাঁড়িয়ে সালাম দিয়ে চলে আসবেন।

লেখকঃ উপসহকারী কৃষি অফিসার।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com