‘এলাচ’ সম্ভাবনাময় একটি মশলা ফসল

শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ | 770 বার

‘এলাচ’ সম্ভাবনাময় একটি মশলা ফসল
এলাচ

রাসেল মাহবুব

সম্পূর্ণ আমদানি নির্ভর একটি মশলা এলাচ। রন্ধন শিল্পে রসনা বিলাশে যার জুড়ি নেই। আশার কথা হচ্ছে আমাদের দেশের অবহাওয়া ও জলবায়ু এলাচ চাষের জন্যে উপযোগী। অনুৎপাদিত পতিত ছায়াযুক্ত বা বিভিন্ন কাঠ জাতীয় গাছের বাগান বা সামাজিক বনায়নের মাঝে বা সাথে কম খরচে বা নাম মাত্র খরচে এলাচ চাষ করে সহজেই স্বাবলম্বী হওয়া যাবে।

এলাচের জাতঃ
এলাচ ২ ধরনের হয়, বড় ও ছোট। উভয় জাতের এলাচ এশিয়া, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও প্রশান্ত মহা-সাগরীয় দীপপুঞ্জের নাতিশীতোষ্ণ এলাকায় হালকা ছায়া হালকা রোদ্র অথবা স্যাডো জায়গায় প্রচুর জন্মে। আবার ফুল ও ফল ধরার ধরনের ভিত্তিতে দু’ধরনের হয়। ১) ফুল ও ফল গাছে শাখায় ধরে ২) গাছের গোড়ার দিকে ধরে।তবে গোড়ায় ফুল ও ফল ধরা জাতই উত্তম ও লাভজনক জাত।

জমি তৈরী ও চারা রোপন পদ্ধতিঃ
ছায়াযুক্ত বেলে দোঁআশ মাটিতেই এলাচ ভাল জন্মে। এলাচ চাষে নিরপেক্ষ বা সামান্য অম্লীয় মাটিই উত্তম তবে মাটির অম্লীয় মান বেশী হলে মাটির সাথে পরিমান মত চুন/ছাই মিশাতে হবে।

চাষ ও সার প্রয়োগঃ
জমি চাষ দেয়া সম্ভব হলে হালকা ভাবে এক/দু’টি চাষ দিলে ভাল আর সম্ভব না হলে কুপিয়ে নিলেও চলবে। এলাচ চাষে সারের তেমন একটা প্রয়োজন নেই। তবে মাটিতে জৈব উপদানের পরিমাণ কম থাকলে পর্যাপ্ত পঁচা গোবর সার বা কেঁচো কম্পষ্ট সার ব্যবহার করলে ভাল হয়। এ ছাড়াও জমি তৈরীর সময় শেষ চাষে প্রতি শতকে টিএসপি ৫০০ গ্রাম, এমওপি ৫০০ গ্রাম প্রয়োগ করলে ভাল। তাছাড়া ফুরাডান বা কার্বফুরান যা দানাদার কীটনাশক ৩৩ শতক জমিতে ২ কেজি পরিমাণ করে দিলে ভাল হয়। জমিতে রসের অভাব মনে হলে চাষের পূর্বেই জমি সেচ দিয়ে নিতে হবে।

রোপন কৌশলঃ
এলাচ লাইনে রোপন করলে পরিচর্যা ও ফল আহরণ সহজ হয়। তাই লাইনে রোপনই উত্তম।লাইনে রোপনের ক্ষেত্রে লাইন বা সারি হতে সারি ৪ হাত (+-) ও চারা হতে চারার দুরুত্ব ৩ বা সারে ৩ হাত হওয়াই উত্তম।

জমি প্রতি চারা রোপনের হারঃ
১ বিঘায় চারা রোপন করা যায় ৪৬০(+-) টি । প্রতি শতকে লাগে ১৪(+-)টি ।

ফলনঃ
রোপনের ২য় বছরেই ফুল ও ফল আসা শুরু করে তবে ৩য় বছরের এসে পূর্ণ ফলনে আসে। গোড়ায় ফুল-ফল ধরা জাতে ৩৩ শতক জমি থেকে ৩ বৎসর পরে ফলন হবে ৯০০ থেকে ১০০০ কেজি বা ১টন। অর্থাৎ ১০ লক্ষ টাকার এলাচ বছরে উৎপাদন হতে পারে।

ফলন সংগ্রহঃ
বাংলায় আষাঢ় মাসে এই জাত গুলোর ফুল আসে এবং ভাদ্র ও আশ্বিন মাসের শেষের দিকে এলাচ পরিপক্ক হয়। তখন বাগান থেকে কাঁচা এলাচ সংগ্রহ করে রোদে শুকাতে হয় অথবা বেশী পরিমাণে উৎপাদন করলে ড্রায়ার মেশিনের সাহায্যে শুকাতে হয়। বর্ষায় হয় বলে এলাচ না শুকিয়ে ঘরে রাখলে পচন ধরবে। এলাচ ফল পরিপক্ক হলে ফলগুলো দেখতে কিছুটা সবুজের উপর লালচে হবে। পরিপক্ক এলাচের মান উন্নত হয়।

রোগ-বালাই ও পরিচর্যাঃ
একটি ভাল যে এলাচে তেমন কোন রোগ-বালাই নেই। যদি কখন কান্ড ছিদ্রকারী বা পাতা মোড়ানো পোকার আক্রমন দেখা দেয় তবে ম্যালাথিয়ন গ্রুপের কীটনাশক ২ মিঃলিঃ প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। আর বর্ষায় পানি জমে কিছু গাছের গোড়ায় পচন ধরতে পারে কদাচিৎ এতে ম্যানকোজ্যাব গ্রুপের ছত্রাক নাশক প্রতি লিটারে ২-৩ মিঃলিঃ হারে স্প্রে করে দিতে হবে।

অবাঞ্চিত আগাছা ও পুরাতন পাতা বা ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে দিতে হবে।

শীতকালে এলাচ গাছে ফুল ও ফল হয়না বিধায় শীতকালে মরা গাছ ও দূর্বল গাছ ছাটাই করা জরুরী।

এলাচের ঔষধি গুণাগুণঃ
এলাচ শুধু মশলা হিসাবেই নয়। এর রয়েছে বহুবিধ ঔষধী গুন। ক্যানসার প্রতিরোধে এলাচ ব্যবহৃত হয়। দাঁতের মাড়ি শক্ত করতে ও হজম শক্তি বৃদ্ধিতে এলাচ অদ্বিতীয়।

আসুন আমরা এলাচ চাষের মাধ্যমে পতিত জমির সদ্যবহার করে বেকারত্বের হ্রাস করি এবং নিজ ও দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনি।

লেখক: উপসহকারী কৃষি অফিসার

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Development by: webnewsdesign.com