করোনা আটকাতে পারেনি কৃষকবন্ধু উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২০ | ৫:২১ অপরাহ্ণ | 1855 বার

করোনা আটকাতে পারেনি কৃষকবন্ধু উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে গত ২৬ মার্চ ২০২০ খ্রি. থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষনা করা হয়। দেশের অধিকাংশ জেলা এখন লকডাউনের আওতায়। প্রায় সকল পেশার মানুষ সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে এবং আত্মরক্ষার্থে নিজ ঘরে অবস্থান করছেন। এই প্রতিকূল অবস্থাতেও থেমে নেই বাংলাদেশের কৃষি। চারিদিকে যখন থমথমে অবস্থা, তখন কৃষকের কর্মতৎপরতা ও কৃষির চাকা সচল রাখতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা/সমমান পদধারী ডিপ্লোমা কৃষিবিদগণ ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটছেন কৃষকের বাড়ি বাড়ি। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি কৃষকদের নিরলসভাবে কৃষি সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

এই করোনাভাইরাসের সময়ে সাধারণ ছুটি ও পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের মাঝেও সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক স্বাভাবিক রয়েছে কৃষি সেক্টরের সকল কার্যক্রম। কৃষকের নিকট মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা দিনরাত ছুটছেন জরুরি সেবা নিয়ে। আগাম বন্যার পূর্বাভাসে হাওর অঞ্চলের ধান উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা দেখা দেওয়ায় সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোর দিয়েছেন আউশ উৎপাদনের দিকে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে লোকসমাগম নিষিদ্ধ হওয়ায় এবার প্রণোদনা কার্যক্রমের বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ চলছে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাগণের নেতৃত্বে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ প্রধানমন্ত্রীর উপহার আউশ প্রণোদনা পৌঁছে দিচ্ছেন কৃষকের দোরগোড়ায়। করোনা মহামারীকালীন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ।

করোনা পরবর্তী সময়ে খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে যত দ্রুত সম্ভব কৃষকদের আউশের বীজতলায় নিয়ে যেতে হবে। তাই সাধারণ ছুটি থাকলেও সপ্তাহের অন্যান্য দিনের মতো শুক্রবার ও শনিবারেও পূর্ণভাবে চলমান রয়েছে কৃষি সেবা কার্যক্রম।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে এবং আগামিতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক জাতির এই ক্রান্তি লগ্নে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা/সমমান পদধারী ডিপ্লোমা কৃষিবিদগণ মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে কাজ করে যাচ্ছেন। চলমান আউশ প্রণোদনার সকল উপকরণ (জনপ্রতি ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার এবং ৫ কেজি উফশী আউশ বীজ) বিতরণ, বোরোধান কর্তন, গম ক্রয়ের কৃষক তালিকা তৈরি, বিভিন্ন প্রকল্পের প্রদর্শনী বাস্তবায়ন, পতিত জমি চাষের আওতায় আনা, বসতবাড়িতে, ছাদে, টবে সবজি চাষ, সার ও বালাইনাশক দোকান পরিদর্শণ এবং দন্ডায়মান সকল ফসলের বালাই ব্যবস্থাপনাসহ কৃষি ও কৃষকের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সার্বক্ষনিক সেবা কৃষকদের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছেন।

প্রাণঘাতী করোনা তাদের দমাতে পারেনি বরং তাদের কর্মব্যস্ততা বাড়িয়েছে। নিজের প্রাণনাশের আতঙ্ক থাকলেও কৃষি সেবা নিয়ে ছুটে চলেছেন ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে। বিস্তীর্ণ মাঠে ঢেউখেলানো সবুজ ধানের শীষের হাসিতে সে কথা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সোনালী স্বপ্ন দেখা বাংলার কৃষকের সাথে ডিপ্লোমা কৃষিবিদগণ দেশের খাদ্য নিরাপত্তার সম্মুখ যোদ্ধা।

উল্লেখ্য, বিভাগীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ত্রাণ বিতরণ ও ভিজিএফ, ভিজিডি, টিআর, খোলা বাজারে ১০ টাকা কেজির চাল বিক্রিসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে ট্যাগ অফিসার ও করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে বিভিন্ন কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কৃষকদের নিয়মিত সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার পরামর্শ প্রদান করছেন কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তাগণ।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অনেক পদ শূন্য থাকায় কোথাও কোথাও একজন কর্মকর্তা নিজ কর্মস্থল ছাড়াও একটি বা দুইটি কর্মস্থলের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন বছরের পর বছর। এতে দেয়া হয় না কোনো অতিরিক্ত দায়িত্বভাতা বা ভ্রমণ ভাতা। জানা যায় যে, বহুমূখী দায়িত্ব পালনকারী এ কর্মকর্তাদের মাসিক নির্ধারিত ভ্রমণ ভাতা মাত্র ২০০ টাকা। এতে করে অনেকের নিজ বেতনের প্রায় ২০ ভাগ অর্থ খরচ হয়ে যায় মাঠেই। মাস শেষে অর্থকষ্টে দিন পার করতে হয় তাদের। তবুও দায়িত্ব পালনে কখনও পিছ পা হন না কৃষকবন্ধু ডিপ্লোমা কৃষিবিদ কর্মকর্তাগণ।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com