ছাদে বীজতলা

রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ | 258 বার

ছাদে বীজতলা
ছাদে বীজতলা

শখ করে ছাদে বাগান করেন অনেকে। কেউ কেউ সবজি চাষও করেন। তবে ঝিনাইদহের খবির আহমেদ করেছেন বীজতলা। দেখতে গিয়েছিলেন সাইফুল মাবুদ।

খবির আহমেদ শৈলকুপা বেসরকারি মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ। পাশাপাশি নিজের সাত-আট বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেন।

জমি তৈরি, রোপণ ও কাটা মাড়াই সব শ্রমিকের মাধ্যমেই করেন। কিন্তু ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মজুরি দিয়েও অনেক সময় শ্রমিক পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়েই বিকল্প কিছু খুঁজছিলেন তিনি।

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যন্ত্র ব্যবহার করে ধান আবাদের সিদ্ধান্ত নেন। যোগাযোগ করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সঙ্গে। শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্চয় কুমার কুণ্ডু তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে কৃষিযন্ত্র ব্যবহার করে জমি তৈরি, রোপণ-মাড়াইসহ সব করা যায়। কৃষি অফিস থেকে তাঁকে সব রকমের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।

এমনকি বাড়ির ছাদে ধানের বীজতলা তৈরি সম্ভব, এমন পরামর্শও তিনি কৃষি বিভাগ থেকেই পান। তখন থেকেই তাঁর মাথায় আসে ছাদে ধানের বীজতলা তৈরির ভাবনা।
ছাদে ধানের বীজতলা কিভাবে তৈরি করতে হয় হাতেনাতে শিখিয়ে দেন উপসহঃ কৃষি অফিসার মসলেম উদ্দিন। বীজতলা তৈরির জন্য এক ফুট চওড়া ও ২ ফুট লম্বা আকারের প্লাস্টিকের ৩৩০টি ট্রে দেওয়া হয়। সেই ট্রেতে বাড়ির ছাদে বীজতলা তৈরি করেছেন খবির আহমেদ। তিনি বললেন, ‘এখন বীজতলা তৈরির জন্য আর শ্রমিক লাগছে না। মজুরি দেওয়া লাগছে না। বাড়ির লোকেরাই পরিচর্যা করতে পারছে। ’

একই পদ্ধতিতে বাড়ির উঠানেও অনেকে বীজতলা করছেন। শৈলকুপা উপজেলার ব্রহ্মপুর গ্রামের আমজাদ হোসেন ও জাহিদুল ইসলাম, গোসাইডাঙ্গা গ্রামের মিতুল হোসেন ও সাহেব আলী ও নুরুল ইসলাম এবং ভাটবাড়িয়া গ্রামের রবিউল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম সবাই বীজতলা তৈরি করছেন বাড়ির উঠানে। ভাটবাড়িয়া গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, ‘আধুনিক পদ্ধতিতে উঠানে ট্রেতে বীজতলা করে ধানের চারা তৈরি করা যাচ্ছে।

এ পদ্ধতিতে খুব সহজে ভালো চারা হয়। এর চারা থেকে ধানের ভালো ফলনও পাওয়া যাচ্ছে। বোরো মৌসুমে আমি এক একর জমিতে ধান রোপণের জন্য জমি তৈরির কাজ শুরু করেছি। উঠানে ১০০টি ট্রেতে বিআর-৫৮ জাতের ধানের বীজতলা তৈরি করেছি। গত আউশ মৌসুমে এই পদ্ধতিতে বিআর ৪৮ জাতের ধান রোপণ করে ভালো ফলন পেয়েছি। দুই বিঘা জমিতে ধান পেয়েছি ৪০ মণ। এই ট্রে পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করলে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের মাধ্যমে চারা রোপণ করতে হয়। খুব কম খরচে এবং খুব কম সময়ে চারা রোপণ করা যায়। চারাভর্তি ট্রেগুলো মেশিনে সেট করে দিয়ে চালু করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমিতে চারা রোপণ হতে থাকে।

মেশিনে এক বিঘা জমির রোপণ করতে খরচ মাত্র ৪০০ টাকা। সময় লাগছে মাত্র ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা। অথচ শ্রমিক দিয়ে একবিঘা জমি রোপণ করতে খরচ হয় ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। সময়ও লাগে একদিন। ’

তথ্যসূত্র: কালের কন্ঠ

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Development by: webnewsdesign.com