জমিতে চুনের গুরুত্ব ও প্রয়োগ পদ্ধতি

রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১০:১৯ অপরাহ্ণ | 1684 বার

জমিতে চুনের গুরুত্ব ও প্রয়োগ পদ্ধতি

।।এমরান নয়ন।।

মানুষের মতো মাটিরও
এসিডিটি বা অম্লতার সমস্যা হয়ে থাকে।
বৈজ্ঞানিকভাবে এটা পিএইচ
দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
সাধারণভাবে মাটির পিএইচ মান ৬.০
এর নিচে গেলে তাকে এসিড বা অম্লীয়
মাটি বলা হয়। আর অম্লতা দূরীকরণ
আবশ্যক। বাংলাদেশের বির্স্তীণ অঞ্চলের
মাটিতে বিভিন্ন মাত্রার অম্লতা লক্ষ্য
করা যায়। বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুরসহ
দেশের উত্তর-পশ্চিম এলাকার মাটি তীব্র
থেকে অতিমাত্রায় অম্লীয় (পিএইচ মান
৪.৮ থেকে ৫.৭ এর নিচে)। দেশের মোট আবাদযোগ্য
জমির অর্ধেকেরও বেশি বিভিন্ন মাত্রায়
অম্লতা সমস্যাযুক্ত।

অম্ল মাটিতে কী কী সমস্যা হতে পারে-

ফসফরাস ব্যবস্থাপনা : অম্লীয়
মাটিতে প্রয়োগকৃত ফসফরাস সার উদ্ভিদ
কর্তৃক গ্রহণযোগ্য অবস্থায় আসতে পারে না।
ফলে যথেষ্ট পরিমাণ ফসফরাস সার
ব্যবহার করেও ফসফরাসের অভাবে ফসলের
উৎপাদন ব্যাহত হয়।

পুষ্টি উপাদানের অসমতা : অম্লীয়
মাটিতে ক্ষারীয় ক্যাটায়ন
যথা ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের
ঘাটতি দেখা যায়, তাই ফসলের ফলন
কমে যায়। তীব্র অম্ল মাটিতে বোরন ও
মলিবডেনামের ঘাটতির কারণে চিটাসহ
মারাত্মক শস্যহানি ঘটতে পারে।
অন্যদিকে লৌহ, অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ,
কপার প্রভৃতি উপাদানের
সহজলভ্যতা বেশি হওয়ায় ফসলের ওপর এদের
আধিক্যজনিত বিরূপ প্রভাব পড়ে।

জৈবিক ক্রিয়া : অধিক অম্লীয়
মাটিতে ব্যাকটেরিয়া কর্তৃক নাইট্রিফিকেশন
এবং সিমবায়োসিসের মাধ্যমে নাইট্রোজেন
উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
এভাবে উপকারী অনুজীবের
কার্যাবলি ব্যাহত হওয়ায় ফসল
উৎপাদনে খারাপ প্রভাব পড়ে।
অন্যদিকে ছত্রাকের বৃদ্ধি দ্রুততর হওয়ায়
ছত্রাক রোগের বিস্তার ঘটে। ফসলের রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং বিভিন্ন
ধরনের রোগের প্রতি গাছ সংবেদনশীল
হয়ে পড়ে।

বীজের অঙ্কুরোদগম ও শেকড়ের বৃদ্ধি : অধিক
অম্লীয় মাটিতে অঙ্কুরিত
চারা এবং শেকড়ের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
বর্ধনশীল শেকড়ের ওপর অম্লতার ক্রিয়ার
প্রভাবে শেকড়ের বিস্তার
মারাত্মকভাবে কমে যায়, ফলে গাছের
বৃদ্ধি ও ফলন কমে যায়।

মাটির অম্লতা দূরীকরণে চুন প্রয়োগের
পদ্ধতি-
* প্রতি তিন থেকে পাঁচ বছর পর পর চুন
প্রয়োগ করে মাটির অম্লতা নিয়ন্ত্রণ
করা যায়। সাধারণত রবি মৌসুমে বীজ
বা চারা লাগানোর মাস খানেক
আগে জমিতে সমভাবে চুন প্রয়োগ করে চাষ
দিয়ে মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হয়।
তাই মাটির অম্লতা নিরসনে চুন প্রয়োগের
এখনই উত্তম সময়। বাংলাদেশে ডলোচুন
নামে যে চুন বাজারজাত হচ্ছে,
তা ডলোমাইট গুঁড়া, যা জমির
অম্লতা দূরীকরণের পাশাপাশি মাটির
ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের
ঘাটতি দূর করতে সহায়তা করে। চুনের
ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম
মাটি কণার হাইড্রোজেন
আয়নকে প্রতিস্থাপন করে পানি উৎপন্ন করে,
ফলে মাটির অম্লতা প্রশমিত হয়।

* অম্লতা দূরীকরণের জন্য পরিমিত পরিমাণ
চুন প্রয়োগ আবশ্যক। প্রয়োজনের তুলনায় কম
প্রয়োগ করলে যেমন মাটির অম্লতা প্রশমিত
হয় না; আবার অত্যধিক মাত্রায় প্রয়োগ
করলে মাটি ক্ষারীয় হয়ে পড়ে।

* জমির বিভিন্ন স্থানের ০ থেকে ছয়
ইঞ্চি গভীরতায় মাটি সংগ্রহ
করে একত্রে মিশিয়ে মাটির নমুনা কাছের
মৃত্তিকা গবেষণাগারে পরীক্ষা করে অথবা উপজেলা কৃষি অফিসের
সহায়তায় মাটির বুনট ও পিএইচ নির্ণয়
করে প্রয়োজনীয় পরিমাণ চুন প্রয়োগ করতে হবে।
চারা রোপণ বা বীজ বপনের মাস
খানেক আগে কর্ষিত জমিতে সমানভাবে চুন
ছিঁটিয়ে দিতে হবে। মাটি শুষ্ক হলে চুন প্রয়োগের
পর হালকা সেচ দিতে হয়, যাতে জমি ১০
থেকে ১৫ দিন ভেজা থাকে।

চুন প্রয়োগে সতর্কতা-
* ঢালাওভাবে চুন প্রয়োগ
না করে মাটির পিএইচ
পরীক্ষা করে চুনের মাত্রা নির্ণয়
করতে হবে।

* চুন প্রয়োগের পর চুনের ক্রিয়ায় প্রচুর
তাপ উৎপন্ন হয়, তাই চুন প্রয়োগের দুই
সপ্তাহের মধ্যে বীজ বপন
বা চারা রোপণ করা যাবে না।

* চুন প্রয়োগের পর প্রথম ফসলে ইউরিয়া ও
ফসফেট সার ২৫ শতাংশ কম
এবং পটাশ সার ২৫ শতাংশ
বেশি ব্যবহার করে উচ্চ ফলনের জন্য ফসলের
ঢলে পড়াজনিত ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।
মাটির অম্লতা ও বুনটভেদে চুন
প্রয়োগমাত্রা (কেজি/শতক)।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

কৃষি মন্ত্রনালয়ে ১১-২০তম গ্রেডে বিভিন্ন পদে নিয়োগ
শম্ভুগঞ্জ এর মোমেনশাহী এটিআই এ প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পূনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ১০৮১ জন নিয়োগ
সারাবছর চাষযোগ্য পেঁয়াজ বারি-৫, ফলন তিনগুন বেশি

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com