নিতে পারবেন গৃহঋণও

জুন থেকে সবার বেতন ইএফটিতে

সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৭:২৮ অপরাহ্ণ | 533 বার

জুন থেকে সবার বেতন ইএফটিতে

আবুল কাশেম ও তোফাজ্জল হোসেন রুবেল

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কম সুদের গৃহঋণ সুবিধা এখনো পাচ্ছেন না সারা দেশে কর্মরত কয়েক লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী। প্রচলিত পদ্ধতিতে বেতনভাতা হওয়ার কারণে এ সুবিধা পাচ্ছেন না তারা। তবে তাদের জন্য সুখবর হলো যে, আগামী জুন থেকে সরকারের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতনভাতা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার বা ইএফটির আওতায় আসবে। তখন কম সুদের গৃহঋণ নিয়ে বাড়ি, প্লট ও ফ্ল্যাট নির্মাণ বা কিনতে পারবেন চাকরিজীবীরা।

এছাড়া বেসামরিক প্রশাসনে কর্মরত অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী মৃত্যুবরণ ও আহত হয়ে স্থায়ী অক্ষমতার কারণে সরকার থেকে দেওয়া আর্থিক অনুদানের টাকাও ইএফটির মাধ্যমে দেবে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে সময়মতো অনুদানের টাকা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে পৌঁছবে বলে জানান কর্মকর্তারা। এছাড়া কল্যাণ অনুদানের টাকাও ইএফটির মাধ্যমে দেওয়া হবে। এতে এসব অনুদানের টাকা সরাসরি উপকারভোগীর ব্যাংক হিসাবে চলে যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বর্তমানে নবম থেকে প্রথম গ্রেডে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনভাতা ইএফটির মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। আগামী জুন মাসের মধ্যে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতাও ইএফটির আওতায় দেওয়া হবে। এছাড়া বেসামরিক প্রশাসনের কর্মরত অবস্থায় কেউ মারা গেলে বা স্থায়ী অক্ষম হলে তাদের দেওয়া আর্থিক অনুদানও ইএফটির আওতায় আনা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গৃহনির্মাণ ঋণের নীতিমালা জারি করেছে সরকার। তবে যাদের ইএফটিতে বেতনভাতা হচ্ছে, শুধু তারাই এ ঋণের জন্য আবেদন করতে পারছেন।আইবাস প্লাসপ্লাস নামের একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে যেসব সরকারি চাকরিজীবী বেতনভাতা পান না, তারা ঋণের জন্য আবেদনই করতে পারছেন না। এ কারণে শুধু সচিবালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অল্প কিছু দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঋণের আবেদন করতে পারছেন।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ফ্ল্যাট ও প্লট কিনতে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গৃহনির্মাণ ঋণের নীতিমালা জারি হয় ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই, যা ওই বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী, জমি বা ফ্ল্যাট কিনতে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন তারা। যেকোনো সরকারি চাকরিজীবী ৯ শতাংশ সুদে এ ঋণ নিতে পারবেন। ২০ বছর মেয়াদি এ ঋণের ৫ শতাংশ সুদ ঋণগ্রহীতা পরিশোধ করবেন। বাকি ৪ শতাংশ সরকার মাসিক কিস্তিতে ভর্তুকি দেবে।

নীতিমালা জারির পর রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তি করে সরকার। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিজীবীদের এ ঋণ দেওয়ার কথা। নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো চাকরিজীবী ঋণ পাওয়ার জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের যেকোনো একটিতে আবেদন করবেন। ব্যাংক ওই আবেদন যাচাই-বাছাই করে ইএমআই শেষে আবেদনকারী কর্মকর্তা যে মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্মরত আছেন, ওই মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। ওই মন্ত্রণালয় থেকে তা অনুমোদন করে অর্থ বিভাগে ‘গৃহ নির্মাণ ঋণ কোষ’ শাখায় পাঠানো হবে। তখন এ শাখা থেকে প্রাথমিক জিও জারি করে তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে দেওয়া হবে। তার ভিত্তিতে ব্যাংক ঋণ দেবে।

ঋণ দেওয়ার পর অর্থ বিভাগ চূড়ান্ত জিও জারি করে আইবাস প্লাসপ্লাসে ওই কর্মকর্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যাতে প্রতি মাসে সুদের ভর্তুকির অর্থ স্থানান্তর হয়, সে ব্যবস্থা করবে। ঋণ নেওয়ার পর ২০ বছর বা ঋণগ্রহীতার পিআরএলের মধ্যে যেটি আগে হবে, ততদিন প্রতি মাসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভর্তুকির অর্থ পৌঁছে যাবে। নতুন বাজেটে গৃহনির্মাণ ঋণ খাতে সুদ ভর্তুকি বাবদ ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ঋণ বিতরণে গতি না আসায় ভর্তুকির এ অর্থ খরচ না হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ২০১৫ সালে তখনকার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আইবাস প্লাসপ্লাস সফটওয়্যার উদ্বোধন করেন। তারপর থেকে সচিবালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ ঢাকায় সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে হচ্ছে। ঢাকাসহ সারা দেশের বাকিদের বেতন হচ্ছে চেকের মাধ্যমে। যেহেতু এ ঋণের সুদ ভর্তুকির টাকা সরকার থেকে আইবাস প্লাসপ্লাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে দেওয়া হয়, তাই যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন এখনো এ সফটওয়্যারের আওতায় আসেনি, তারা এ ঋণ নিতে পারছেন না।

তিনি জানান, দেশের সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন দেওয়াসহ সরকারের সব ধরনের আর্থিক কর্মকাণ্ড আইবাস প্লাসপ্লাস সফটওয়্যারের আওতায় আনার কাজ চলছে। এজন্য পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট (পিএফএম) বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

নিয়ম অনুযায়ী, চাকরিজীবীর বেতন যে শাখার যে হিসাবে হবে, ওই হিসাব থেকেই ব্যাংক ঋণের কিস্তি কেটে রাখবে। আর সরকারের ভর্তুকিও ওই হিসাবে জমা হবে। কিন্তু যারা চেকের মাধ্যমে বেতন পান, তারা চেক কোন ব্যাংকের কোন হিসাবে জমা দেবেন, তার নিশ্চয়তা না থাকায় তাদের ঋণ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আবার সরকার ঋণগ্রহীতার ঋণের সুদের ভর্তুকি কোন হিসাবে দেবে, তারও ঠিক নেই।

এদিকে বেসামরিক প্রশাসনে চাকরিরত অবস্থায় কেউ মৃত্যুবরণ করলে এবং আহত হয়ে স্থায়ী অক্ষমতার কারণে আর্থিক অনুদানের টাকার চেক এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আবেদনকারী পর্যন্ত পৌঁছতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চেক পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পত্র যোগাযোগ, জেলা প্রশাসক কার্যালয় হতে কর্মকর্তা পাঠানো ও চেক গ্রহণ, জেলা প্রশাসক কার্যালয় হতে সংশ্লিষ্ট অফিসে চেক পাঠানো এবং সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে আবেদনকারীর কাছে চেক হস্তান্তরে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ইএফটির মাধ্যমে আবেদনকারীর ব্যাংক হিসাবে সরাসরি অর্থ পাঠাবে, এতে চেক হস্তান্তরের দীর্ঘসূত্রিতা দূর হবে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

কর্ণফুলী উপজেলায় উপসহকারী কৃষি অফিসার উত্তম রায় বিশ্বাস করোনায় আক্রান্ত

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com