জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু টাইগারদের

সোমবার, ০৩ জুন ২০১৯ | ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ | 157 বার

জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু টাইগারদের

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ দল। ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ৩৩০ রানের পাহাড় গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২১ রানে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে বিশ্বকাপের ১২তম আসর।

দুর্দান্ত! বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচের জয়কে এক শব্দে ব্যাখ্যা করার জন্য এই শব্দটিই যথেষ্ট। শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২১ রানের দুর্দান্ত জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যদিয়ে বিশ্বকাপে শুভ সূচনা করলো মাশরাফির টাইগার বাহিনী।

শুরু থেকেই ব্যাটিং-বোলিংয়ে অপ্রতিরোধ্য ছিল বাংলাদেশ দল। রেকর্ড ২৫০তম উইকেট ও ব্যাট হাতে ৭৫ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা সাকিব আল হাসান।

বিশ্বকাপে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর শুরুটা হয়েছে যাচ্ছেতাই। প্রথমে ব্যাট করে এশীয় দেশগুলো রান করতে নাকানি-চুবানি খেয়েছে। সেখানে নিজেদের প্রথম ম্যাচে উল্টো পথেই হেঁটেছে বাংলাদেশ।

টসে হেরে ব্যাট করতে নেমেই ওভালের ব্যাটিং স্বর্গে রানের নেশায় মেতে উঠে টাইগাররা। বাংলাদেশ গড়ে নিজেদের ওয়ানডে ও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।

তামিম- সৌম্যের দুর্দান্ত সূচনার পরে তামিম ব্যক্তিগত ১৬ রান করে ফিরে গেলেও সৌম্য অপর প্রান্তে ছিলেন সাবলীল। দলীয় ৭৫ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৪২ রানে সৌম্যও ফিরে যান সাজঘরে। এর পরে রেকর্ড জুটি গড়েন মুশফিক-সাকিব। দুজনের তৃতীয় উইকেটের ১৪২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বড় সংগ্রহের ভীত পায় বাংলাদেশ। সাকিব নিজের জার্সির সাথে মিল রেখে ৭৫ রান করে ফিরে যায়। তার কিছুক্ষণ পরেই মুশফিকও ৭৮ রান করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন।

শেষ দিকে মোসাদ্দেককে নিয়ে মাহমুদউল্লাহর ৬৬ রানের ঝোড়ো পার্টনারশিপ বাংলাদেশকে তিনশো পেরোতে সাহায্য করে।

মোসাদ্দেক ২৬ রান করে ফিরে গেলেও মাহমুদউল্লাহ শেষ পর্যন্ত ৩৩ বলে ৪৬ রানে অপরাজিত থাকেন। আর তাতেই বাংলাদেশ পায় ৩৩০ রানের বিশাল সংগ্রহ। বাংলাদেশ শেষ দশওভারে তোলে ৮৬ রান।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ক্রিস মরিস, ইমরান তাহির ও ফেলুকওয়ায়ো দুইটি করে উইকেট লাভ করেন। ৩৩১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা বেশ ভালো হলেও প্রথম তাদের আঘাত হানেন মুশফিকুর রহিম। ডি ককের বোকামির সুযোগে তাকে রান আউটের ফাঁদে ফেলেন মুশফিক।

এর পরে দক্ষিণ আফ্রিকা বেশ কয়েকটি বড় পার্টনারশিপ গড়লে কিছুটা ভয়ে পড়ে বাংলাদেশ। কিন্তু ৪৫ রান করা মার্করামকে বোল্ড করে সে ভয় কাটিয়ে ওঠার হুংকার ছাড়েন সাকিব। এ উইকেটটি সাকিবের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২৫০তম উইকেট।

ভয়ংকর হয়ে ওঠা ফাফ ডু প্লেসিকেও সরাসরি বোল্ড করে ব্রেক থ্রু এনে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ফিরে যাওয়ার আগে প্রোটিয়া অধিনায়ক করেন ৫৩ বলে ৬২ রান।

এর পর মাঝে মাঝে মনে হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা জিততে পারে। কারণ তখনও যে পিচে আছেন ডেভিড মিলার, ডুসেনের মতো তারকারা।

দলীয় ২০২ রানের মাথায় ডেভিড মিলার কে মিরাজের হাতে দারুণ এক ক্যাচে পরিণত করেন মোস্তাফিজ। প্রোটিয়াদের রানের চাকা সচল রাখা ডুসেনকে দারুন এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন সাইফউদ্দীন। ডুসেন ২২৮ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৪১ রান করে ফেরত যান।

এরপর ডুমিনি যা একটু লড়েছেন। মোস্তাফিজের বলে ফিরে যাওয়ার আগে ডুমিনি করেছেন ৩৭ বলে ৪৫ রান। বাকিরা ছোট ইনিংস খেললেও তা তাদের জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিলো না।

নির্ধারিত ৫০ ওভার ব্যাট করে শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা তুলতে পারে ৮ উইকেটে ৩০৯ রান। আর বাংলাদেশ পায় ২১ রানের জয়।

বাংলাদেশের হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান ৬৭ রানে ৩ উইকেট লাভ করেন। এছাড়া সাইফুদ্দিন দুটি এবং মিরাজ ও সাকিব একটি করে উইকেট লাভ করেন।


মন্তব্য করতে পারেন...

comments

কৃষি মন্ত্রনালয়ে ১১-২০তম গ্রেডে বিভিন্ন পদে নিয়োগ
শম্ভুগঞ্জ এর মোমেনশাহী এটিআই এ প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পূনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ১০৮১ জন নিয়োগ
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার জালালপুরে কৃষক সমাবেশ ও কীটনাশক বিতরণ অনুষ্ঠিত