ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের বৈষম্যের শেষ কবে

সোমবার, ১৪ মে ২০১৮ | ১:৫২ অপরাহ্ণ | 3202 বার

ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের বৈষম্যের শেষ কবে

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড পরিচালিত প্রকৌশলী ডিপ্লোমা ও কৃষি ডিপ্লোমা কোর্স দুটি চার বছর মেয়াদি ও একই সমমানের। অথচ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদাসহ ১০ম গ্রেডের বেতন স্কেলে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। আর ডিপ্লোমা কৃষিবিদরা তৃতীয় শ্রেণির পদমর্যাদায় একাদশ গ্রেড বেতন স্কেলের সুযোগ-সুবিধায় চাকরিতে যোগ দেন। এ নিয়ে ক্ষোভ ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের দীর্ঘদিনের। কর্মবিরতি থেকে শুরু করে মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট, স্মারকলিপিসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। প্রধানমন্ত্রী ২০১৩ সালে ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের দশম গ্রেডের বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এখনও তা ঝুলে আছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার এসব ডিপ্লোমা কৃষিবিদ কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর, সংস্থায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। মাঠপর্যায়ে কর্মরত এসব কর্মকর্তা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে কৃষকদের নানাভাবে সহায়তা করে আসছেন। অথচ সমমান পদধারী একই কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চার বছর মেয়াদি প্রকৌশল ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করা প্রকৌশলীরা ১০ম গ্রেডে বেতন পেলেও তারা বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার। একই সঙ্গে একই সমমানের পড়াশোনা করে অন্য বন্ধুর চেয়ে এক গ্রেড নিচে চাকরি করা নিয়ে তাদের মধ্যে হীনমন্যতা দেখা দিয়েছে।

ডিপ্লোমা কৃষিবিদরা জানান, ২০১০ সালের ৮ ডিসেম্বর দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদসহ ১০ম গ্রেডে বেতন প্রদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি পত্র পাঠান তারা। প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ২০১২ সালের ১৯ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত একটি ফিরতি পত্র জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে পাঠান। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে আরেকটি পত্র পাঠানো হয় কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ২০১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি। ওই বছরের ১০ মার্চ মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশসহ অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে সম্মতি নিয়ে ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণের ব্যাপারে অনাপত্তি দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ডিপ্লোমা কৃষিবিদ নেতারা আরও জানান, ২০১৩ সালের ২৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী ফার্মগেটে কেআবি কমপ্লেক্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ডিপ্লোমা কৃষিবিদ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও সমমান পদধারীদের ১০ম গ্রেড বেতন স্কেল ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর কৃষি মন্ত্রণালয় ৩ নভেম্বর এ বিষয়ে বেতন নির্ধারণী সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশ গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অর্থ বিভাগকে অনুরোধপত্র দেন। পরে ২০১৪ সালের ২৮ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ জাতীয় বেতন ও চাকরি কমিশনে প্রেরণের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেয়। ১১ ডিসেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ বিভাগ চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের মতো কৃষি ডিপ্লোমাধারীদের একই মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানের বিষয়টি মূল্যায়ন করতে পারে- মর্মে জাতীয় বেতন ও চাকরি কমিশনে সুপারিশ করে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নের জন্য সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতি অর্থমন্ত্রীর কাছে বিষয়টির অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে পত্র দেন। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকেও এ বিষয়ে একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ২২ জানুয়ারি বেতন বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা আহ্বান করা হলেও অনিবার্য কারণে ওই সভাটিও স্থগিত হয়ে যায়। এর আগে ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর ও ২০১৪ সালের ২ জুলাই বেতন বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাও স্থগিত হয়ে যায়।

এ বিষয়ে ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের

উপসভাপতি ফিরোজ আখতার সমকালকে বলেন, আগে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পদবি ছিল ব্লক সুপারভাইজার। পদবি পরিবর্তন করা হলেও মান, এমনকি মর্যাদা ও বেতনক্রমের কোনো উন্নতি হয়নি। শিগগিরই সরকার এ সমস্যার সমাধান করবে বলে তিনি আশাবাদী।

এ বিষয়ে ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের মহাসচিব আবদুর রাশেদ খান সমকালকে বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্মরত প্রায় ৩০ হাজার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বেতন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার। ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদায় চাকরিতে যোগ দিয়ে পদোন্নতি পেয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রকৌশলী পর্যন্ত হচ্ছেন। অথচ ডিপ্লোমা কৃষিবিদরা কোনো পদোন্নতি ছাড়াই দীর্ঘ চাকরি জীবন শেষ করছেন। সরকার নিশ্চয়ই দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করবে।

সংবাদসূত্রঃ সমকাল।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com