ডিপ্লোমা কৃষিবিদ কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন সময়ের দাবী

রবিবার, ১৭ মে ২০২০ | ৫:১৩ অপরাহ্ণ | 414 বার

ডিপ্লোমা কৃষিবিদ কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন সময়ের দাবী

সড়ক দুর্ঘটনায় গত ১১ মে জনাব হারুনুর রশিদ ও ১৩ মে জনাব নিতাই পদ হাজরা কর্মরত অবস্থায় মারা গিয়েছেন। দুজনেই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ছিলেন। এছাড়াও ১১ তারিখের দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন জনাব ফিরোজ আহমেদ।
এই দুটি দূর্ঘটনা ডিপ্লোমা কৃষিবিদ মহলে নাড়া দিয়েছে। কারন এই তিনজনই আমাদের অতি কাছের।


সবচেয়ে আফসোস এর বিষয় এই, যে দুজন মারা গেলেন তাদের সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে চাকুরীকাল খুবই অল্প সময়ের। হারুনুর রশিদের দুই বছর আর নিতাই হাজরার পাঁচ বছরের কিছু কম। স্ব স্ব কর্মস্থলে ও বন্ধু মহলে দুজনেই ছিলেন খুবই প্রিয় ভাজন।
এই মুহূর্তে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা জানানো ছাড়া আর করার কিছুই নেই।


এদিকে এই দুজন মারা যাওয়ার সাথে সাথে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের পরিবার। এত সল্প চাকুরীকাল থাকায় কেউ বিশেষ কোন সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন বলে মনে হয়না।
কারন চাকরির বয়স পাঁচ বছর পূর্ণ হলেই একজন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অথবা তার পরিবার পেনশন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন। এছাড়া চাকরির বয়স ১০ বছরের কম হলে আনুতোষিক (গ্রাচুইটি) সুবিধা প্রতি এক টাকার বিপরীতে ২৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী নতুন বেতন স্কেলে একজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর চাকরির প্রথম ৫ বছর পূর্ণ হলে পেনশন পাবেন ২১ শতাংশ হারে। কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারী মৃত্যুবরণ করলে বা সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক স্থায়ীভাবে অক্ষম ঘোষিত হলে সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবী পেনশন পাবেন।

পেনশন যোগ্যতার আগে মৃত্যুবরণ বা অক্ষম হলে;
কোনো সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর চাকরির বয়স ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই স্বাস্থ্যগত কারণে অক্ষম বা মৃত্যু হলেও একটি বিধান রাখা হয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে। এতে বলা হয়েছে, চাকরির মেয়াদের প্রতি বছর বা তার অংশবিশেষের জন্য সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীর সর্বশেষ প্রাপ্য বেতনের তিনটি মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ সহায়তা হিসেবে পাবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা তার পরিবার।


তাহলে দেখা যাচ্ছে উক্ত দুজনেই সামান্য কিছু সহায়তা ছাড়া আর কিছুই পাচ্ছেন না।
ডিপ্লোমা কৃষিবিদ অধিকাংশই মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা। অনেকের আবার এই চাকুরীই একমাত্র উপার্জনের পথ। সেই পথ যদি এভাবেই হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায় তাহলে আমাদের কি তাদের পাশে দাড়ানোর প্রয়োজন নেই!

অবশ্যই আছে। পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে অনেকেই চাচ্ছেন এদের পাশে দাঁড়াতে। এজন্য চাই একটা প্লাটফর্ম। যে প্লাটফর্মে সবাই একসাথে দাঁড়াবো শোকা সন্তপ্ত পরিবারের পাশে।


এ ক্ষেত্রে যেটা করা যেতে পারে তাহলো একটা কল্যান ট্রাস্ট গঠন। যে ট্রাস্টের সদস্যরা সহযোগিতায় এগিয়ে আসবেন।


যেভাবে গঠন করা যেতে পারেঃ
১)উপজেলা ভিত্তিক, ২)জেলা ভিত্তিক, ৩)অঞ্চল ভিত্তিক ও ৪)জাতীয় ভাবে।
এভাবে করলে ১ ও ৪ নাম্বারে কিছু সমস্যা হবে। যেমনঃউপজেলায় সহকর্মীর সংখ্যা কম।তাই সহযোগিতার পরিমান চাইলেই বড় করা যাবেনা। জাতীয়ভাবে করলে কিছু মধ্যস্তত্বভোগী তৈরি হবে (ডিকেআইবির কল্যাণ তহবিল এদের কারনে কাজে আসেনা)।টাকা সংগ্রহ করাটাও দূরুহ হতে পারে।


সবচেয়ে ভাল হবে জেলা বা অঞ্চল ভিত্তিক ট্রাস্ট গঠন। এত অনেক বেশি সহকর্মী অল্প করে দিলেও সহায়তার পরিমান বেড়ে যাবে। প্রত্যেকের অল্প অল্প অর্থ একজনের জন্য অনেক বেশি হয়ে যাবে যা তার পরিবারের জন্য সত্যিই দরকার।
আমরা কি শুধুই টাকা ইনকাম করবো, না কি মানবিকও হবো?
আসুন আজই এক হই। একটা কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করি। যেখানে সবাই কিছু নিয়মের মাঝে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবব্ধ থাকবো। বিপদগ্রস্ত কারো পাশে দাড়াবো একসাথে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে।

আপনাদের সুচিন্তিত পরামর্শ প্রত্যাশা করি।
ভুল হলে ক্ষমা করবেন।

লেখক: উপসহকারী কৃষি অফিসার, ছাতক, সুনামগঞ্জ।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com