কৃষক চায় সরকার এখনই কিনুক

দেরি হলেই ফড়িয়ার হাতে চলে যাবে ধান

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২০ | ১১:২০ পূর্বাহ্ণ | 342 বার

দেরি হলেই ফড়িয়ার হাতে চলে যাবে ধান

সুনামগঞ্জের কৃষকরা এখনই সরকার নির্ধারিত এক হাজার ৪০ টাকা মন দরে গুদামে ধান দিতে চায়। বিলম্ব হলে কৃষকের কাছে ধান থাকবে না, এই ধান চলে যাবে ফড়িয়া মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে—এমন কথা জানিয়েছেন কৃষক ও হাওর আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতারা। ঋণে জর্জরিত কৃষক এখনই ৫০০ টাকা মণে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। তবে জেলা ধান-চাল ক্রয়সংক্রান্ত কমিটি জানিয়েছে, আগামী ১০ মে লটারির পর কৃষকের তালিকা করে কৃষক পর্যায়ে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হবে। তবে এখনই কৃষক পর্যায়ে ধান সংগ্রহসহ লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে চাষিরা।

সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ চাষি পরিবার রয়েছে। এ বছর হাওরে দুই লাখ ১৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। গত রবিবার পর্যন্ত জেলায় গড়ে ৪৮ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। খাদ্য বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর জেলায় প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা স্থানীয় চাহিদা পাঁচ লাখ মেট্রিক টন মিটিয়ে আরো সাড়ে আট লাখ মেট্রিক টন উদ্বৃত্ত থাকবে। এদিকে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, ভারতের মেঘালয় ও বরাক উপত্যকায় মেঘ গতি বদলে পার্বত্য এলাকার দিকে চলে গেছে। তাই ভারি বৃষ্টিপাতের শঙ্কা নেই। এ সময়ে বৃষ্টি না হলে এক সপ্তাহের মধ্যেই জেলার পুরো ফসল কাটা শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

সুনামগঞ্জ খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় কৃষক পর্যায় থেকে ২৫ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। মিলাররা স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার শর্তে আরো ২৯ হাজার মেট্রিক টন চাল কেনা হবে। এ নিয়ে গত রবিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ধান-চাল সংগ্রহ জেলা কমিটির সভা হয়। এই সভায় কৃষি বিভাগ, খাদ্য বিভাগ ও উপজেলা তদারক কমিটিকে আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে কৃষকের খসড়া তালিকা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ৭ মে এর মধ্যে তালিকা যাচাই-বাছাই কাজ সম্পন্ন করে আগামী ১০ মে এর মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা লটারির মাধ্যমে উন্মুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ১০ মের পরই ধান কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে সভায়। তবে এ বছর যাতে মিলাররা বাইরের জেলা থেকে চাল না এনে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে গুদামে চাল দেন সে লক্ষ্যে কয়েকটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী মাস থেকে মিলারদের বিদ্যুতের মিটার যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে যেসব কৃষকের কাছ থেকে তাঁরা ধান কিনে চাল করবেন সেসব কৃষকের নাম, তালিকা ও মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসনের কাছে দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতারা বলেছেন, ফড়িয়ারা কৃষি বিভাগ, খাদ্য বিভাগ, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের কৃষকের তালিকায় যুক্ত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আঁতাত করে কৃষি কার্ড সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে। তাঁরা কৃষকদের কার্ড সংগ্রহ করে গুদামে ধান দিয়ে লাভবান হয়ে থাকেন। তা ছাড়া অনেক কৃষক এখনই জরুরি প্রয়োজনে ৫০০ টাকা দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। তারা এখনই সরকারের কাছে এক হাজার ৪০ টাকা মন দরে ধান কেনার আহ্বান জানিয়েছে।

খরচা হাওরের জগাইরগাঁও গ্রামের কৃষক ফুলমতি বেগম বলেন, ‘আমরা হাওরে ধান লাগানোর সময় সুদে টাকা এনে বীজ, সার ও শ্রমিকের খরচ জুগিয়েছি। এখন অর্ধেকের বেশি ধান কেটে ঘরে তুলেছি। জরুরি প্রয়োজনে এখনই ৫০০ টাকা মন দরে বিক্রি করছি। সরকার যদি এখনই আমাদের কাছ থেকে ধান কিনত তাহলে আমরা উপকৃত হতাম।’

হাওরের কৃষি ও কৃষক রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, ‘আমরা দাবি জানিয়ে আসছি ইউনিয়ন পর্যায়ে খাদ্য গুদাম করে খলা থেকেই কৃষকের ধান সংগ্রহের জন্য। এতে প্রকৃত কৃষকরা উপকৃত হতো। কোনো ফড়িয়ার লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকত না। বর্তমান প্রক্রিয়ার কারণে অনেক প্রকৃত কৃষক হয়রানির ভয়ে খাদ্যগুদামে এসে ধান দিতে পারে না।’

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ধান-চাল সংগ্রহ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, ‘আমরা রবিবার জরুরি সভা করে দ্রুততম সময়ে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা করে ধান সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কোনো ফড়িয়া যাতে কৃষকের নাম ভাঙ্গিয়ে ধান দিতে না পারে সেদিকে সতর্ক থাকব। পাশাপাশি মিলাররা যাতে এই জেলার কৃষকদের কাছ থেকেই ধান কিনে চাল করে গুদামে দেয় সে লক্ষ্যে তাদের মিলের বিদ্যুৎ মিটার যাচাই করা হবে। এবার ধান-চাল সংগ্রহে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

সূত্রঃ কালের কন্ঠ।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com