দেশে ভিআইপি সংস্কৃতির অবসান হোক

সোমবার, ০৫ আগস্ট ২০১৯ | ৩:৪৮ অপরাহ্ণ | 157 বার

দেশে ভিআইপি সংস্কৃতির অবসান হোক

পৃথিবীর প্রায় সব উন্নত দেশেই এমনকি মন্ত্রীরাও নিজেদেরকে ভিআইপি মনে করেন না। জানিনা, তাদের দেশের আইন কি বলে? কিন্তু তাদের যদি ভিআইপি তকমা থেকেও থাকে, তারা কখনো জনসমক্ষে ক্ষমতা জাহির করে, নিজেদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করেন না। এরা শিক্ষিত বিবেকবান মানুষ বলেই, শরীরে ধারনকৃত মূল্যবোধ দ্বারা তাড়িত হন । রাস্তায়, বাসে,রেলে, বিমানবন্দরে এরা এমনভাবে চলাফেলা করেন যাতে সাধারন জনগনের চলাচল কোনভাবে বিঘ্নিত না হয়।
অনেক দেশের প্রধানমন্ত্রীকেও দেখেছি অনেক সন্তর্পনে নীরবে নিভৃতে জনগনের যানবাহনে চলাফেরা করেন। এদের এই বিনয়ী আচরনকে আমরা সবসময়ই শ্রদ্ধা করি এবং সাধুবাদ জানাই।


কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে আমাদের দেশের চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে ভিআইপি সংস্কৃতি চালু হয়েছে বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই, আর এখন তা এমন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যে জনগনের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। জনগন এই অসহনীয় অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য ছটফট করছে। মন্ত্রীদের কথা বাদ দিলাম, এ দেশে একজন সরকারী আমলা, একজন সংসদ সদস্য, একজন রাজনৈতিক নেতা, কিম্বা একজন প্রবল ক্ষমতাধর ব্যাবসায়ী ভিআইপির লেভাসধরে যেভাবে তাদের দৌরাত্ম্য দেখাচ্ছেন, তাতে একজন সাধারন ট্রাফিক পুলিশ থেকে শুরু করে আইন শৃংখলা রক্ষাকারি পুলিশ এবং বিভিন্ন সংস্থায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মরত মানুষগুলি অবিরত এক দুর্বিষহ চাপের মধ্যে থাকেন।

সাধারন জনগন সেই প্রথম থেকে এই ভিআইপি সংস্কৃতির সমালোচনা করে আসছে। কিন্তু তাদের সেই সমালোচনা এবং প্রতিবাদ সবসময়ই অরন্যেরোদন।
যেই মানুষগুলি নিজেদেরকে VIP ( Very Important Person) বলে গন্য করেন, তারা কিন্তু সত্যিই VIP, কিন্তু তার অর্থ ভিন্ন আর সেটা হচ্ছে Very Ignorant Person. শিক্ষিত হয়েও ভীষনভাবে অশিক্ষিত।


অতিসম্প্রতি একজন তথাকথিত ভিআইপি দৌরাত্ম্যে, যে অমানবিক এবং ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে গেল, তা অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং জনমনে যথেষ্ট ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। একজন সরকারী আমলার জন্য তিন ঘন্টা দেরীতে ফেরি ছাড়ার কারনে যে একটি নিস্পাপ কচি ছেলের জীবনাবসান হোল, ছেলেটির মায়ের হাজারো অনুনয়বিনয়, আর্তনাদ ফেরী চালককে তার সিদ্ধান্ত থেকে নড়াতে পারলো না। কারন সেতো ভিইপির নির্দেশ ছাড়া একচুলও নড়বে না।

দেশের উচ্চ আদালত বলেছে প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউই ভিআইপি নয়।
সম্ভবতঃ Rule of Precedence অনুযায়ী এরা কেউ ভিআইপি নয়। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা জনগনের সেবক এবং সরকারের কর্মচারী। কিন্তু আমাদের দেশের এই মুষ্টিমেয় কিছু ক্ষমতাপ্রাপ্ত মানুষ নিজেদেরকে জনগনের সেবক না ভেবে, দেশের দন্ডমুন্ডের কর্তা ভেবে বসে আছেন। তারা ভাবছেন, তাদের প্রতিটি পদক্ষেপে ক্ষমতার দাপট দেখাবেন আর সুবিধা ভোগ করবেন। কিন্তু সমাজ সংস্কারে এই নিন্দনীয় মনোবৃত্তিকে অবদমিত করতেই হবে।
এ ব্যাপারে সরকারের একটি সঠিক সিদ্ধান্ত দেশে একটা সহনশীল ও স্বস্তিকর পরিবেশ বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। জনগন ভিআইপি সংস্কৃতির অপসারণ চাই।

লেখক- বীর মুক্তিযোদ্ধা

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com