ধানের খোল পোড়া রোগের লক্ষন ও দমন ব্যবস্থাপনা

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২০ | ১০:৫৫ অপরাহ্ণ | 1376 বার

ধানের খোল পোড়া রোগের লক্ষন ও দমন ব্যবস্থাপনা

রোগের নামঃ

ধানের খোল পোড়া রোগ(Sheath Blight Of Rice)

webnewsdesign.com

রোগের কারনঃ ছত্রাক (Rhizoctonia solani )

রোগ পরিচিতিঃ
এই রোগের বিস্তার সকল মৌসুমে হতে পারে তবে, আউশ ও আমন মৌসুমে বেশি হয়। মাটি ও পরিত্যক্ত খড়কুটায় ছত্রাক বেঁচে থাকে। বেশি তাপমাত্রা ও আর্দ্রতায় এ রোগের প্রকোপ বেশি হয়। অতিরিক্ত পরিমাণে ইউরিয়া সারের ব্যবহার করলে এবং ঘন ঘন বৃষ্টিপাত ও জমিতে পানি জমে থাকলে ও এ রোগের আক্রমণ বাড়ে।

লক্ষণঃ
কুঁশি স্তরে পাতা খোলে গোলাকার ও লম্বাটে পানি ভেজা ধূসর রংয়ের দাগ হয়।
ধীরে ধীরে দাগ উপরের দিকে সম্পূর্ণ খোল ও পাতায় ছড়িয়ে পড়ে।
আক্রান্ত খোল গোখরা সাপের চামড়ার দাগের মতো দেখায়।

প্রতিকারঃ
১) সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে এবং গাছ ভেজা অবস্থায় জমিতে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করা যাবে না।
২) রোগের আক্রমন হলে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ বন্ধ রাখতে হবে।
৩) জমির পানি বের করে দিতে হবে।
৪) ধান কাটার পর জমির নাড়া পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
৫) আক্রমণ হ‌ওয়ার সাথে সাথে বিঘাপ্রতি ৫ কেজি এম‌ওপি সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।
৬) সঠিক দূরত্বে ও সঠিক বয়সে চারা রোপণ করতে হবে এবং লোগো পদ্ধতি/এস‌আরাই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
৭) আক্রমণের মাত্রা তুলনামূলক বেশি হলে {ট্রাইসাইক্লাজোল( ট্রুপার ৭৫ডব্লিউপি) ০.৭৫ গ্রাম/ লিটার}
অথবা
{ট্রাইসাইক্লাজোল+
প্রোপিকোনাজল( ফিলিয়া ৫২৫ এসই) ২মিঃলিঃ/লিটার}
অথবা
{থায়োপেনেট মিথাইল
টপসিন এম ৭০ ডব্লিউপি) ২ গ্রাম/লিটার}
অথবা {টেবুকোনাজল+ট্রাইফ্লক্সিস্ট্রবিন( নাটিভো)০. ৫০গ্রাম/ লিটার}
অথবা {এজোক্সিস্ট্রবিন+ডাইফেনোকোনাজল(এমিস্টার
টপ)১মিঃলিঃ/লিটার পানি ১০-১৫ দিনের ব্যবধানে স্প্রে করা}।
অথবা
{হেক্সকোনাজল ৫ ইসি( পিলার্ট/কনটাফ/ ফলিকুর /হেকোনাজল) যেকোন একটি ১ মিঃলিঃ/ লিটার পানি স্প্রে করা।}

কৃষি বিষয়ক যেকোন পরামর্শ পেতে নিকটস্থ “কৃষক তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্র (ফিয়াক)” অথবা”উপ সহকারী কৃষি অফিসার” এর সাথে যোগাযোগ করুন।

সোহেল রানা
উপ সহকারী কৃষি অফিসার
উপজেলা কৃষি অফিস
ঈশ্বরগঞ্জ,ময়মনসিংহ।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com