ধানের গান্ধি পোকার পরিচিতি, ক্ষতির লক্ষন ও দমন ব্যবস্থাপনা

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২০ | ১১:০০ পূর্বাহ্ণ | 379 বার

ধানের গান্ধি পোকার পরিচিতি, ক্ষতির লক্ষন ও দমন ব্যবস্থাপনা

ধানের গান্ধি পোকা ( Rice Bug ):

বৈজ্ঞানিক নাম: Leptocorisa oratoria/Leptocorisa acuta

পরিচিতিঃ
গান্ধীপোকা এক ধরণের দুর্গন্ধ ছড়ায় যার ফলে এর নাম গান্ধীপোকা।

এ পোকা সরু লম্বা পা ও শুড় বিশিষ্ট, বাচ্চা সমূহ সবুজ থেকে বাদামী এবং পূর্ণবয়স্ক পোকা বাদামী থেকে হলদে সবুজ বর্ণের হয়ে থাকে।

জীবনকাল ৬০-৯০ দিনের হয়।

জীবনচক্রের স্তর ৩ টি। যথা-
১) ডিম ৩-৬ দিন
২)নিম্ফ ১৫-৩০ দিন
৩) পূর্ণবয়স্ক ৩০-৫০ দিন ।

এরা বছরে ৫ টি জেনারেশন দিতে পারে।
স্ত্রী পোকা পাতার উপর ২৪-৩০ টি গোলাকার খয়েরী রঙ এর ডিম সারি করে পাড়ে।

ক্ষতির লক্ষন সমূহঃ
গান্ধি পোকা পোকা পূর্ণ বয়স্ক ও নিস্ফ উভয় অবস্থায় ক্ষতি করে ।
ধানে দুধ আসা অবস্থায় ক্ষতি বেশি করে ।
ধানে ফুল আসার সময় আক্রমণ করে ধান পাকা পর্যন্ত গান্ধী পোকা ক্ষতি করে।
পূর্ন বয়স্ক গান্ধি পোকা ধানের পাতা ও শীষের উপর সারি করে ডিম পাড়ে।
ধানের দানায় যখন দুধ সৃষ্টি হয় তখন আক্রমণ করে বলেই ধানের গায়ে দাগ ও চিটা হয় ।
সবুজ রঙের বাচ্চা এবং পূর্ন বয়স্ক গান্ধি পোকার গা থেকে বিশ্রি দুর্গন্ধ বের হয়।
ধানের মান খারাপ হয়, মাড়াইয়ের সময় চাল ভেঙ্গে যায়।

গান্ধী পোকার দমন ব্যবস্থাপনাঃ
১) হাত জালের সাহায্যে গান্ধি পোকা সংগ্রহ করে মেরে ফেলতে হবে।
২) কেরোসিন ভিজানো দড়ি আক্রান্ত ক্ষেতে আড়াআড়িভাবে টেনে পোকা দমন করা যাবে।
৩) জমি থেকে ২০০-৩০০ মিটার দূরে দূরে আলোর ফাঁদ ব্যবহার করতে হবে।
৪) শামুকের মাংসের সংঙ্গে বালাইনাশক মিশিয়ে কাপড়ের পুটলিতে বেঁধে ধানের দুধ আসার সময় বিষ ফাঁদ হিসেবে ক্ষেতের বিভিন্ন স্থানে ব্যবহার করা ।
৫) প্রতি গোছায় ২-৩ টি গান্ধি পোকা দেখা দিলে অনুমোদিত কীটনাশক স্প্রে করতে হবে।

যেমন:
কার্বারিল( সেভিন ৮৫ এসপি ) ২ গ্রাম/লিটার পানিতে অথবা ম্যালাথিয়ন ফাইফানন, হিলথিয়ন) ৫৭ ইসি ২ মিলি/লিটার পানিতে অথবা আইসোপ্রোকার্ব ( মিপসিন ) ৭৫ ডব্লিউ ২ গ্রাম/লিটার পানিতে অথবা কার্বোসালফান ২ মিলি/লিটার পানিতে অথবা ডাইমেথোয়েট ( রগর, পারফেকথিয়ন ) ৪০ ইসি ২ মিঃলিঃ/লিটার পানিতে অথবা ফেনিট্রথিয়ন ৫০ ইসি ( ফেনিটক্স, ফলিথিয়ন ) ২ মিলি./লি.পানিতে অথবা ক্লোরোপাইরিফস (ডারসবান ২০ ইসি ) ২ মিলি/ লি. হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

প্রতি গোছায় একটি গান্ধি পোকার আক্রমণে প্রতি হেক্টেরে ২৮০ কেজি ধানের ফলন কমতে পারে। ফলে ফুল আসা অবস্থায় প্রতি ২-৩ টি গোছায় একটি গান্ধি পোকা দেখা গেলে তরল কীটনাশক প্রয়োগ করলে অর্থনেতিকভাবে লাভজনক হওয়া যাবে।

বিঃ দ্রঃ ধানে ফুল আসার সময় পোকা মাকড়ের আক্রমণ হলে সেই সময় তরল কীটনাশক প্রয়োগ করা যাবে। এতে ধানের চিটা হওয়ার সম্ভবনা নেই। তবে কীটনাশক বিকাল বেলায় প্রয়োগ করতে হবে।

কৃষি বিষয়ক যেকোন পরামর্শ পেতে নিকটস্থ “কৃষক তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্র (ফিয়াক)” অথবা “উপ সহকারী কৃষি অফিসার” এর সাথে যোগাযোগ করুন

লিখাঃ সোহেল রানা
উপ সহকারী কৃষি অফিসার
উপজেলা কৃষি অফিস
ঈশ্বরগঞ্জ,ময়মনসিংহ।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com