ফসলে জাব পোকা ব্যবস্থাপনা

রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৪:৫৫ অপরাহ্ণ | 1422 বার

ফসলে জাব পোকা ব্যবস্থাপনা

জাব পোকা

জাব পোকা একটি ক্ষুদ্রাকার পোকা যা বিশেষ করে সবজি জাতীয় ফসলের গাছে বাহ্যিক ভাবে আক্রমন করে থাকে। একে ইংরেজিতে এফিড বলা হয়। এ পোকা বিশেষ করে গাছের পাতার নিচের দিকে, লতার ডগায়, কুঁড়ি, ফুল ও কচি ফলে আক্রমন করে একত্রে জড়ো হয়ে রস চুষে খায়। শিমজাতীয় সবজি সহ বরবটি, মরিচ ও অন্যান্য অনেক গাছেই আক্রমন করে থাকে।

পোকা চেনার উপায়ঃ অপুর্নাঙ্গঃ ছোট আকারের ডানা বিহীন। 

পূর্ণাঙ্গঃ ক্ষুদ্রাকারের হালকা হলুদ বা হালকা সবুজ থেকে গাঢ় সবুজ বর্ণের হয়ে থাকে এবং ডানাযুক্ত।

জীবন চক্র : এ পোকা কোন যৌন মিলন ছাড়াই ১০-১২ দিনের মধ্যে  ৮-৩০ টি নিম্ফ জন্ম দিতে পারে। নিম্ফ অবস্থা ৫-৮ দিন থাকে।  পাখা বিহীন জাব পোকা ২৪ ঘন্টার মধ্যে বাচ্চা দিতে পারে। এরা সারা বছর বংশ বিস্তার করে।

ক্ষতির ধরণঃ

♣পূর্ণবয়স্ক ও নিম্ফ উভয় পাতা, কচি কান্ড ও ফুলের রস চুষে খায়।

♣গাছ দুর্বল ও হলুদ হয়, পাতা কুঁকড়ে যায়,ফুলের কুড়ি ও কচি ফল ঝরে যায়।

♣পোকা ক্রনিক্যাল দ্বারা মধু রস নিঃসরণ করে,তাতে সুটিমোল্ড ছত্রাক জন্মে।

♣ জাবপোকা ভাইরাস ঘটিত রোগ ছড়ায়।

♣আক্রান্ত অংশ কালো দেখায়, কচি ডগা মারা যায়।

আক্রমণের পর্যায়ঃ বাড়ন্ত পর্যায়, চারা, সব

পোকার জীবনকালঃ পূর্ণ বয়স্ক, নিম্ফ।

পোকার যেসব স্তর ক্ষতি করেঃ পূর্ণ বয়স্ক , নিম্ফ।

ফসলের যে অংশে আক্রমণ করেঃ কাণ্ড , পাতা , ডগা , কচি পাতা , ফল , ফুল।

আক্রমনের অকুকুল পরিবেশঃ বাতাসে আদ্রতা বেশী ও মেঘলা আকাশ।

ব্যবস্থাপনাঃ
নিকটস্থ কৃষি তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্রে, উপজেলা কৃষি অফিস বা উপসহকারী কৃষি অফিসারের সাথে যোগাযোগ করুন,এবং তাদের পরামর্শ মত ব্যবস্থাপনা নিন।
রাসায়নিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কেবল মাত্র কৃষিবদ / ডিঃ কৃষিবিদ কর্তৃক প্রেসক্রিপশনকৃত কীট বা বালাইনাশক অনুমোদিত মাত্রায় যথাযত ভাবে ব্যবহার করুন। অনুমোদিত বালাইনাশক বিক্রেতার নিকট হতে বালাইনাশকের মেয়াদ যাচাই করে বালাইনাশক কিনুন।

দমন ব্যবস্থাঃ তিন ভাবে দমন করা যায়

ক) জৈবিক
১. হাত দিয়ে পিশে পোকা মেরে ফেলা
২. আক্রান্ত পাতা ও ডগা অপসারণ করা।
৩. পরভোজী পোকা যেমন : লেডি বার্ড বিটলের পূর্নাঙ্গ ও কীড়া (গ্রাব) এবং সিরফিড ফ্লাই এর কীড়া জাব পোকা খায় বিধায় এদের সংরক্ষণ ও সংখ্যা বাড়ানো।
জমিতে আ্যাফেলিনাস কোলেমনি ছাড়তে হবে যা ৭০% জাবপোকা ধ্বংস করতে সক্ষম।ক্রাইসোপেরলা কার্নিয়া ২০০০০ টি/একর ছাড়তে হবে।
৪. ডিটারজেন্ট পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা।
৫. আধাভাঙ্গা নিমবীজের পানি (১ লিটার পানিতে ৫০ গ্রাম নিমবীজ ভেঙ্গে ১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে ছেঁকে নিতে হবে) আক্রান্ত গাছে ১০ দিন পর পর ৩ বার স্প্রে করলে পোকা নিয়ন্ত্রন করা যায়। এছাড়াও তামাকের গুড়া (১০গ্রাম), সাবানের গুড়া (৫গ্রাম) ও নিমের পাতার রস প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়।

খ) যান্ত্রিক
একর প্রতি ৫-৭ টি হলুদ আঠালো ফাঁদ ব্যবহার করতে হবে।

গ) রাসায়নিক
★আক্রমণ বেশি হলে ইমিডাক্লোরোপ্রিড জাতীয় কীটনাশক (যেমন এডমায়ার অথবা টিডো ৭-১০ মিলিলিটার / ২মুখ) ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রতি ৫ শতকে ১০ দিন পরপর ২/৩ বার স্প্রে করতে হবে।কীটনাশক স্প্রে করায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

এছাড়াও
★থায়াক্লোপ্রিড ২১.৭ % এস. এল. ১ মিলি /৩ লিটার বা 
★অক্সিডিমেটন- মিথাইল ২৫ % ই. সি.  ২ মিলি /লিটার বা 
★থায়ামেথোক্সাম ২৫ % ডবলু.জি.  ১ গ্রাম/৫ লিটার বা 
★ডাইমিথোয়েট ৩০ % ই. সি.  ২ মিলি /লিটার বা 
★ক্লোথায়ানিডিন ৫০ % ডবলু. জি. ১ গ্রাম/১০ লিটার জলে গুলে স্প্রে করার সুপারিশ করা হয়। 
★আলু লাগানোর সময় ভেলীতে ফোরেট ১০ % জি.  ৪ কেজি/ একর হারে প্রয়োগ করা যেতে পারে। 

অন্যান্যঃ

  • পরিস্কার পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ ও আক্রান্ত অংশ পোকাসহ সংগ্রহ করে পুতে ফেলা।
  • সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার ও শস্য পর্যায় অবলম্বন করা।
  • বেডে লাইনে দূরত্ব বজায় রেখে চারা রোপন করা।

সর্বোপরি পোকা বা বালাই দমনের ক্ষেত্রে জৈবিক ও যান্ত্রিক দমন ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দিন,পরিবেশকে সুস্থ রাখুন, নিজে সুস্থ থাকুন।।

লেখকঃ উপসহকারী কৃষি অফিসার
উপজেলা কৃষি অফিস- খালিয়াজুরী, নেত্রকোণা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com