ফ্রান্সের সোনালি প্রজন্মের হাতে উঠল সোনালি ট্রফি

সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮ | ৪:২৪ অপরাহ্ণ | 61 বার

ফ্রান্সের সোনালি প্রজন্মের হাতে উঠল সোনালি ট্রফি

এ যেন পিকাশোর তুলিতে আঁকা অনুপম কোনো চিত্র। যার শেষটা নানা রঙের ছটায় নতুন রুপ পাওয়া স্বপ্নের কোনো দিগন্ত। যে দিগন্তে কেবলই বেজে যাচ্ছে ফ্রান্সের জয়ধ্বোনি। লুঝনিকি স্টেডিয়ামের আকাশে-বাতাসে বিজয়ের ঘ্রাণ। যে ঘ্রাণে মিলেমিশে একাকার বিশ্ব জয়ের কোরাস। ফরাসিদের মাথায় উঠল বিশ্ব সেরার মুকুট। রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে সোনালি ট্রফিতে চুমু বসিয়ে দিলেন ফ্রান্সের সোনালি প্রজন্মের যোদ্ধা এমবাপ্পে, গ্রিজম্যান, পগবারা।

আগামী চার বছরের জন্য ফুটবল সাম্রাজ্যের সিংহাসনটি দখলে নিয়ে নিল জিনেদিন জিদান-দিদিয়ের দেশমের অনুজরা। ফরাসি সৌরভে মুখরিত এখন গোটা ফুটবল দুনিয়া। যে সৌরভে মিশে থাকল ফরাসিদের রাজত্ব। শিরোপা ঘরে তোলার লড়াইয়ে ফ্রান্সের বিপক্ষে পাত্তাই পেল না ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের হারের প্রতিশোধও নেওয়া হলো না ক্রোয়েশিয়ার। একই গল্প লিখে এবার শিরোপা উৎসবে মাতল দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা ফ্রান্স।

২০ বছরের মধ্যে দুটি বিশ্বকাপ জেতা ফ্রান্সের নাম বসে গেল দিয়েগো ম্যারাডোনার দেশ আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পাশে। এই তিন দলই দুটি করে বিশ্বকাপ জিতেছে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে শিরোপা উৎসব করেছিলেন জিদান-দেশমরা। এবার বিদেশের মাটিতেও ফরাসিদের বিজয় কেতন উড়ল। যেখানে জিদান-দেশমদের ভূমিকায় থাকলেন এমবাপ্পে, গ্রিজম্যান, পগবারা।

শিরোপা জয়ের লড়াই। অতি সাবধানী শুরু করেছে দুই দল। ম্যাচের শুরুতে প্রতিপক্ষকে বোঝার চেষ্টা করেছে ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া। যে কারণে প্রথম আট মিনিট সেভাবে আক্রমণে যেতে দেখা যায়নি কোনো দলকে। ১১ মিনিটে প্রথম আক্রমণটি করে ক্রোয়েশিয়া। বেশ দূর থেকেই ইভান পেরিসিচের উদ্দেশে বল পাঠান ইভান রাকিটিচ। কিন্তু ফ্রান্সের ডি বক্সে পৌঁছে যাওয়া পেরিসিচ বল নিয়েন্ত্রণে নিয়ে শট নিতে পারেননি।

এর পর আরও কয়েক মিনিট বলের নিয়ন্ত্রণে দাপট দেখায় ক্রোয়েশিয়া। প্রথম ১৫ মিনিট বলা যায় ক্রোয়েশিয়াই শাসন করেছে। কিন্তু আসল কাজটি করে প্রথমে এগিয়ে গেছে ৯৮’র চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সই। ১৮ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে অ্যান্তনিও গ্রিজম্যানকে ফেলে দেন ব্রোজোভিচ। এই ফাউলেই নিজেদের বিপদ ডেকে আনেন ক্রোয়েশিয়ার এই মিডফিল্ডার। দারুণ সেট পিস করেন গ্রিজম্যান। ফরাসি ফরোয়ার্ডের সেট পিস থেকে দলকে বাঁচাতে গিয়ে উল্টো নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন মারিও মানজুকিচ। এটাই বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসের একমাত্র আত্মঘাতী গোল।

হেড করে বল পরিষ্কার করতে চেয়েছিলেন ক্রোয়েশিয়ার এই উইঙ্গার। কিন্তু তার মাথা ছুঁয়ে বল জমা হয় ক্রোয়েশিয়ার জালেই। মানজুকিচ মাথা ছোঁয়ানোর কারণেই ধোঁকা খেয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ড্যানিয়েল সুবাসিচ। তবে সমতায় ফিরতে বেশি সময় নেয়নি ক্রোয়েশিয়া। ২৮ মিনিটে ফ্রান্সের ডি বক্সে আলতো করে ইভান পেরিসিচের দিকে বল বাড়িয়ে দেন ক্রোয়াট ডিফেন্ডার ডোমাগোজ ভিডা। দেরি করেনি আগের ম্যাচেও দারুণ খেলা পেরসিচ। বা পায়ের দারুণ শটে গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরান তিনি।

সমতায় ফিরে দারুণ ছন্দে খেলে যেতে থাকে বল দখলের লড়াইয়ে শুরু থেকেই এগিয়ে থাকা ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু দুর্ঘটনা যেন পিছু ছাড়ছিল না তাদের। ৩৮ মিনিটে বিপদ ডেকে আনেন ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরানো পেরিসিচ। ফ্রান্সের কর্নার কিক ফেরাতে গিয়ে হ্যান্ডবল করে বসেন তিনি। ভিডিও অ্যাসিসট্যান্ট রেফারির সাহায্য নিয়ে পেনাল্টির বাঁশি বাজার মাঠের রেফারি। স্পট কিক থেকে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেন গ্রিজম্যান। প্রথমার্ধে আর সমতায় ফিরতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া।
বিরতি থেকে গোলশোধে মরিয়া হয়ে উঠে ক্রোয়েশিয়া। অবিরতভাবে আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে তারা। ৫৯ মিনিটে গিয়ে উল্টো আরও পিছিয়ে পড়তে হয় ক্রোয়েশিয়াকে। ডি বক্সের মধ্য থেকে পল পগবাকে পাস দেন গ্রিজম্যান। পগবার নেওয়া প্রথম শটটি ফিরে আসে। ফিরে আসা বলে আবারও শট হাঁকান ফরাসি এই মিডফিল্ডার। এবার সুবাসিচকে ফাঁকি দিয়ে বল জড়িয়ে যায় ক্রোয়েশিয়ার জালে।

৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়া ক্রোয়েশিয়া তালগোল পাকিয়ে ফেলে। ৬৫ মিনিটে যেটার সুযোগ ভালোভাবে কাজে লাগান ফরাসি স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপ্পে। ডি বক্সের বাইরে থেকেই চোখ ধাঁধানো শটে গেল করে ফ্রান্সকে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর হয়ে ক্লাব ফুটবল খেলা তরুণ এই স্ট্রাইকার। তখনই হয়তো হার দেখতে পাচ্ছিল ক্রোয়েশিয়া।

কিন্তু খেই হারায়নি তারা। সুযোগ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে গেছেন রাকিটিচ, মদ্রিচ, পেরিসিচ, মানজুকিচরা। ৬৯ মিনিটে সেই সুযোগ পেয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। ফ্রান্সের গোলরক্ষক হুগো লরিসের ভুলকে কাজে লাগিয়ে গোল আদায় করে নেন মানজুকিচ। কিন্তু ২ গোলের ব্যবধান থেকেই যায়। বাকিটা সময় প্রাণপণে লড়ে গেছেন রাকিটিচ, মদ্রিচ, পেরিসিচরা। কিন্তু ব্যবধান আর কমাতে পারেননি। ৪-২ গোলের হার নিয়ে রানার্সআপ হওয়ার সান্ত্বনা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।

(প্রিয়.কম)

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Development by: webnewsdesign.com