বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার দেওয়া হবে : কৃষিমন্ত্রী

শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০১৯ | ২:৫২ অপরাহ্ণ | 765 বার

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার দেওয়া হবে : কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বন্যার ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাষিদের বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হবে। পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় এই সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের আলু গবেষণা কেন্দ্র তৈরি করা হবে। আন্তর্জাতিক আলু কেন্দ্র বর্তমানে পেরুতে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে ‘সাউথ এশিয়া রিজিওনাল সেন্টার অব ইন্টারন্যাশনাল পটেটো সেন্টার ইন বাংলাদেশ’এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। আন্তর্জাতিক আলু কেন্দ্রের (আইপিসি) আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ইউ এস সিং-এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।

কৃষিমন্ত্রী ড. রাজ্জাক বলেন, আমাদের খাদ্যের কোনও সংকট নেই। সরকারী গুদামগুলোতে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ফলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাদ্য সহায়তায় কোন সমস্যা হবেনা। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ৩০ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, এ মুহূর্তে বড় কোনো ফসল মাঠে নেই। রবি মওসুমের শাক-সবজিসহ বীজতলার ক্ষতি হয়েছে। পটল, বেগুন ছাড়াও নিচু এলাকায় যেসব শাক-সবজি ছিল সেগুলোর ক্ষতি হয়েছে। ফলে শাক সবজির দাম বাড়তে পারে।

বীজতলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে ড. রাজ্জাক বলেন, এজন্য নতুন কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আমরা নতুন বীজতলা তৈরি করবো। এছাড়া চাষিদের বীজ ও সার দেওয়া হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আগস্টে আরেকটি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। সে বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের কাজ করতে হবে। সেজন্য সরিষা, আলু, শাক-সবজিসহ এ ধরনের রবি ফসলের জন্য পুনর্বাসন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। ইতোমধ্যে আমাদের যে অর্থ রয়েছে তা বিভিন্ন জেলায় দিয়ে দেওয়া হয়েছে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সহায়তা দেওয়া হবে। এজন্য ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। প্রয়োজনে তা বাড়ানো হবে।

আন্তর্জাতিক মানের পটেটো স্টেশন হবে বাংলাদেশে
কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ইন্টারন্যাশনাল পটেটো সেন্টার দক্ষিণ এশিয়ায় একটি পটেটো স্টেশন করতে চায়। আমরা চাচ্ছি এটা যেন বাংলাদেশে হয়। বৈঠকে সেটা কীভাবে করা যাবে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

সেখানে আমরা জমি ও লজিস্টিক সাপোর্ট দেবো। বাকিগুলোর মধ্যে গবেষণাগার নির্মাণ, বিজ্ঞানীদের প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন গবেষণার যন্ত্রপাতি তারা দেবে। এই গবেষণা সেন্টারের সঙ্গে আফগানিস্তানসহ সাউথ এশিয়ার সব দেশ জড়িত থাকবে।

তিনি বলেন, নানা দিক বিবেচনা করে এ আন্তর্জাতিক পটেটো সেন্টার বাংলাদেশে করবে এ সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই সাউথ এশিয়ার দেশগুলোর কৃষিমন্ত্রী ও সচিবদের নিয়ে একটি বৈঠক করে কিভাবে করা যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ড. রাজ্জাক বলেন, পেরুতে আন্তর্জাতিক আলু সেন্টারের সাথে আমরা দীর্ঘদিন কাজ করেছি। তারা আমাদের বিজ্ঞানীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য অনেক সহযোগিতা করেছে। বাংলাদেশে আলুর উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বছর এক কোটি ১০ লাখ টন আলু উৎপাদন হয়েছে- যা দেশের চাহিদা পূরণ করে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টন উদ্বৃত্ত হবে। কিন্তু আমাদের সমস্যা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ঠিকমতো আলু সরবরাহ করতে পারিনি।

মন্ত্রী বলেন, আমরা ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে যে পণ্যগুলো উৎপাদন করছি সেটা আন্তর্জাতিক মানের হচ্ছে না। সেজন্য যে পণ্যের চাহিদা আছে আমরা সেগুলো উৎপাদনে যাবো। এজন্য ভারত, নেদারল্যান্ডস ও পেরু থেকে ভালো জাতের আলু এনে চাষিদের দিয়ে উৎপাদন বাড়িয়ে তা রফতানি করা হবে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com