বাংলার হারানো ঐতিহ্য,কাটারিভোগ ধান

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২০ | ২:৩০ অপরাহ্ণ | 429 বার

বাংলার হারানো ঐতিহ্য,কাটারিভোগ ধান

দিনাজপুরের স্বর্ণ প্রসূত লাল মাটি আর প্রকৃতির অকৃপণ দান এলাকাবাসীকে যেন স্নেহভরে তুলে দিয়েছিল এক বিশেষ সম্পদ “কাটারিভোগ” ধান। এ জেলার ঐতিহ্যবাহী “ কাটারিভোগ ধান” বাংলাদেশের যে কোন ধানের চেয়ে গুণগত মানের দিক থেকে উন্নত। খেতে সুস্বাদু ও সুগন্ধ ছড়ানো এই জাতের ধানের তুলনা হয় না।তবে, কাটারীভোগ ধান ছাড়াও এ জেলায় আরো নানা জাতের সুগন্ধি ধান জন্মে। তার মধ্যে বিধান-৩৪, জিরা কাটারী (চিনিগুঁড়া), ফিলিপিন কাটারী, চল্লিশা জিরা, বাদশা ভোগ, কালোজিরা, জটা কাটারী, চিনি কাটারী, বেগুন বিচি ও ব্রিধান-৫০ উল্লেখযোগ্য।এগুলোর মধ্যে সব থেকে আলোচিত ও প্রসিদ্ধ কাটারীভোগ।

ছবিঃ নাজমুল ইসলাম (একজন সৌখিন কৃষক ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র)

কখন কিভাবে দিনাজপুরে কাটারিভোগ ধানের উৎপাদন শুরু হয়েছিল তা” সঠিকভাবে জানা যায়নি, তবে বিভিন্ন ভাবে সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায় যে, কাটারিভোগ দিনাজপুরের আদি ও অকৃত্রিম ধান, ইতিহাস থেকে জানা যায় আর্যদের এ দেশে আগমনের পূর্ব থেকেই এ অঞ্চলে এ ধানের উৎপাদন হতো এবং তখন থেকেই মাটি ও মাটির উর্বরতা বিশেষে সুগন্ধি যুক্ত কাটারিভোগ ধানের উৎপাদন শুরু হয়েছিল। কাটারিভোগকে ঘিরে রয়েছে অনেক কিংবদন্তী, লোককথা, লোকগাঁথা ও কাহিনী গল্প। খেতে সুস্বাদু এই কাটারিভোগ চাল মাথার দিকে ছুরির মতো একটুখানি চোখা ও বাঁকা। সাধারণত চিড়ার রং ফ্যাকাশে ধূসর হলেও এ ধানের চিড়া হালকা সাদা রঙের হয়। চাল তো বটেই, কাটারিভোগের চিড়ায়ও মিষ্টি সুগন্ধ থাকে। কথিত আছে যে, এই উন্নত ধানের চাল দিয়েই দেবতাকে ভোগ দেওয়া হতো বলেই এর নামকরণ করা হয়েছে “কাটারীভোগ”।

আবার আরো কথিত আছে, দিনাজপুরের রাজা প্রাণ নাথের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে রাজাকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের দরবারে। রাজা প্রাণ নাথ সম্রাটের সঙ্গে দেখা করতে হীরা, পান্না, স্বর্ণমুদ্রা ছাড়াও কাটারিভোগ চাল সঙ্গে নিয়ে যান। সম্রাট হীরা, পান্না উপঢৌকন হিসেবে পেয়ে যতটা না খুশি হয়েছিলেন, তার চেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলেন কাটারিভোগ চাল পেয়ে। এই খুশিতে সম্রাট প্রাণ নাথকে ‘মহারাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন।বর্তমান সময়েও এ জেলার মানুষ আত্মীয়-স্বজনকে খুশি করতে উপঢৌকন হিসেবে “ কাটারিভোগ চাল” ও “চিড়া” পাঠাতে ভুল করেন না।

দেশি-বিদেশী বড় বড় মেহমান এবং রাষ্ট্র প্রধান ও কূটনীতিকরা এদেশে এলে কাটারিভোগ চালের পোলাও দিয়ে তাদের আপ্যায়ন করা হয়। পরিতৃপ্ত হয়ে অতিথিবৃন্দ সুগন্ধি চালের অকুণ্ঠ প্রশংসা করে থাকেন এবং চালের উৎস ও প্রাপ্তিস্থান সম্পর্কে কৌতুহল হয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে থাকেন। সুগন্ধি এবং মসৃণতার জন্য এখনও বিদেশে বিশেষ করে বৃটেন, আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে এর চাহিদা অপরিসীম। পোলাও ছাড়াও কাটারীভোগ চাল দিয়ে বিরানী, জর্দা পোলাও, পায়েশ, ফির্নী ও পিঠা সহ নানা প্রকার উপাদেয় খাবার তৈরি করা যায়। বাসমতি বা দাদখানি চালের চেয়ে উন্নত বলে সারা বিশ্বে এর চাহিদা রয়েছে ব্যাপক এবং এককালে এ চালের প্রধান বাজার ছিল কলকাতা।

ছবিঃ নাজমুল ইসলাম (একজন সৌখিন কৃষক ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র)

কাটারীভোগ ধান দিনাজপুরের ঐতিহ্য হলেও দিনাজপুরের সবখানেই এই ধানের চাষ হয় না। কাটারীভোগ ধান চাষের উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো হচ্ছে- সদর উপজেলার ফাঁসিলাহাট, চিরির বন্দরের কাঁউগা, করিমুল্লাপুর, খানপুর, সদর উপজেলার ছোট বাউল, বড় বাউল, চিরিরবন্দর উপজেলার বাউগাঁও, বিষ্টপুর, তালপুকুর, ভিয়াইল, পশ্চিম বাউল, দুর্গাডাঙ্গা এবং কাহারোল উপজেলার কয়েকটি এলাকায়। কাটারিভোগের জমিকে বার বার চাষ দিতে হয় এবং এই জমিতে মাত্র একবারই ফসল ফলানো সম্ভব। এই ঐতিহ্যবাহী ধানটির আরও বিশেষত্ব হলো এটা গোবর সার ছাড়া রাসায়নিক সারে হয় না। তবে আশার কথা হচ্ছে সৌখিন কৃষক ভাইয়েরা দেশের অন্যান্য এলাকায়ও উচ্চমূল্যের ও বিলাসী এ ধানসমূহ চাষ করে সম্প্রসারণ করছেন উচ্চমূল্যের কৃষির।।

তথ্যঃ সংগৃহীত।।

কৃষি পণ্য কিনুন “কৃষকের বাজার”র হতে (যেখানে কৃষক নিজের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি নিজেই বিক্রয় করে থাকে)কৃষি ও কৃষক বাঁচান

[কাটারিভোগ ও সাংলা জাতের প্রসিদ্ধ পোলাউয়ের চাউলগুলো চাষ থেকে শুরু করে প্রস্তুতি পর্যন্ত সব কিছু একেবারে নিজেদের তত্বাবধানে করা।এর গুণগত মান যেমন ভালো, খেতেও বেশ সুস্বাদু।বাজারে যে চাউলগুলো পাওয়া যায় সে চাউল থেকে এ চালের স্বাধ ও গন্ধ অতুলনীয়।] কাটারিভোগ ও সাংলা জাতের প্রসিদ্ধ পোলাউয়ের চাল ক্রয় করতে নিচে দেয়া নাম্বারে যোগাযোগ করুন। সারা দেশে কোরিয়ারে ডেলিভারি দেয়া যাবে।।

মো:নাজমুল ইসলাম
মেলান্দহ, জামালপুর।
যোগাযোগঃ০১৩০০৬৬৬৯১৬
(সৌখিন কৃষক ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র)
[বিজ্ঞপ্তি]

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com