বিলুপ্তপ্রায়- ফল চুকাই

বুধবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৮ | ৬:৩৫ অপরাহ্ণ | 1429 বার

বিলুপ্তপ্রায়- ফল চুকাই

শাহ পারভেজ
চুকাই বাংলাদেশের বিলুপ্তপ্রায় ফলগুলোর একটি।উপগুল্মজাতীয় এ উদ্ভিদের পাতা ও ফল টক স্বাদযুক্ত ও ফল গাঢ় লাল বর্ণের।ইংরেজি নাম Rosella বা Sorrel. এটি অপকৃত ও বিদারী ফল।পাকলে ফেটে যায় ও বীজ চারদিকে ছড়িয়ে পরে।

পরিচিতিঃ
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি বিভিন্ন নামে পরিচিত।যেমনঃসিলেটে হইলফা,খুলনায় অম্বলমধু,ঢাকা ও মানিকগঞ্জে চুকুল,কুমিল্লায় মেডস নামে পরিচিত।এছাড়া চুকুর,চুকা চুকিকা,টেঙ্গাপাতা,চুকাপাতা ইত্যাদি নামেও পরিচিত।দেশে বিদেশে সবজি হিসেবে এর চাহিদা রয়েছে।মায়ানমারের সবচেয়ে জনপ্রিয় সবজিগুলোর একটি চুকাই।

ব্যবহারঃ
টক স্বাদের কারনে জ্যাম,জেলি ও আচার তৈরিতে এই ফল ব্যবহার করা হয়।দেশে বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে এর পাতা ও ফল দিয়ে টক বা খাট্টা রান্না করে খাওয়া হয়।এর মধ্য “পেকটিন” আছে বলে জ্যাম তৈরিতে আলাদাভাবে পেকটিন মেশাতে হয়না।অস্ট্রেলিয়া, বার্মা,ত্রিনিদাদে জ্যাম তৈরিতে ব্যাপকভাবে এই ফলের ব্যবহার লক্ষ করা যায়।এই গাছের আঁশকে পাটের আঁশের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়।চুকাই এর বীজ থেকে ২০% ভোজ্যতেল উৎপাদন করা যায়।

ঔষধি গুণাগুণঃ
ইতালি,আফ্রিকা,থাইল্যান্ডে চুকাই পাতার ভেষজ চা খাওয়া হয়।রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন, মূত্রবর্ধক, মৃদু কুষ্ট নরমকারী,হৃদরোগ, ক্যান্সার ও স্নায়ু রোগের চিকিৎসায় দীর্ঘকাল যাবত এর ব্যবহার লক্ষ করা যায়।চুকাইয়ের পাতা ও ফলে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন, কেরোটিন,ক্যালসিয়াম,ভিটামিন ও অন্যন্য খাদ্য উপাদান রয়েছে।

জাতঃ
স্থানীয় জাত ছাড়াও বাংলাদেশ পাঠ গবেষণা ইনস্টিটিউট ২০১০ সালে ভিএম-০১ নামে একটি জাত অবমুক্ত করেছে।

চাষাবাদ কৌশলঃ
জমির প্রকারভেদ অনুযায়ী ২-৩ টি চাষ মই বা কোদাল দিয়ে কুপিয়ে জমি তৈরি করতে হবে।প্রতি শতকে গোবর ৮ কেজি,ইউরিয়া ২৫০ গ্রাম,টিএসপি ১০০ গ্রাম,এমওপি ১৫০ গ্রাম সার ব্যবহার করতে হতে। বীজ বপনের ১ মাস পর শতকপ্রতি ২৫০ গ্রাম ইউরিয়া উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

বীজ বপনঃ
ফাল্গুন-শ্রাবণ মাসে বীজ বপন করতে হয়।শতকপ্রতি ৫০ গ্রাম বীজ বুনতে হয়।এ ফসল পানি সহ্য করতে পারেনা বিধায় পর্যাপ্ত নালা রাখতে হবে।

ফলনঃ
১৩০-১৪০ দিনের মধ্যেই ফুল আসতে শুরু করবে।প্রথমাবস্থায় টক(খাট্টা)হিসেবে কচি পাতা ব্যবহার করা যেতে পারে।গাছ প্রতি ৫০-৬০ টি ফল,শতক প্রতি ৫-৭ কেজি ফল ও ২৫-৩০ কেজি পাতা ফলে থাকে।
ফল পাকলে ফেটে যায়।তাই রোদে শুকিয়ে লাঠি দিয়ে হালকা পিটিয়ে বীজ সংগ্রহ করতে হবে।

সম্ভাবনাঃ
টক খাওয়া হয় এমন ফল যেমনঃ সাতকরা,জলপাই,আমরা,ডেফল,টমেটো ইত্যাদির বিকল্প সবজি হিসেবে এর ফল ও পাতা ব্যবহার করা যেতে পারে। জ্যাম ও জেলি তৈরির কারখানা গড়ে ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশ ঘটতে পারে।যেহেতু এর আঁশ ব্যাবহার উপযোগী তাই পাটের বিকল্প হিসেবে চাষ করা সম্ভব।
তাছাড়া বাড়ির আঙ্গিনায় খুব সল্প পরিশ্রমে এর চাষের বুবস্থা হলে একদিকে যেমন পুষ্টির নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে তেমনি বাড়তি সবজি ও মহিলাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পাবে বিলুপ্তপ্রায় একটি ফল।

লেখকঃ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা
উপজেলা কৃষি অফিস, সদর, ছাতক।।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com