বোরো আবাদে নতুন প্রযুক্তি ॥ বাঁচবে সময়, বাড়বে ফলন

শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২১ | ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ | 130 বার

বোরো আবাদে নতুন প্রযুক্তি ॥ বাঁচবে সময়, বাড়বে ফলন

বোরো ধান আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নীলফামারী সদরের তরণীবাড়ি গ্রামে সমলয়ে চাষাবাদ নামের নতুন এক পদ্ধতিতে সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচী চলছে। এ পদ্ধতিতে চাষাবাদের ফলে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষক স্বল্প সময়ে অধিক ফসল উৎপাদন করতে পারবে বলছেন কৃষি কর্মকর্তারা। ওই গ্রামে ৫০ একর জমিতে বোরো আবাদের জন্য সাড়ে ৪ হাজার ট্রে-তে বোরো বীজতলা তৈরি হয়েছে। এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে তুলনামূলক কম খরচে অধিক লাভ করবে কৃষক। এতে বোরো আবাদে আগ্রহ বাড়বে কৃষকের।

 

মঙ্গলবার তরণীবাড়ি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম রায় বলেন, সমলয় চাষ পদ্ধতির উপযোগিতা সম্পর্কে সনাতন পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি না করে প্লাস্টিকের ফ্রেম বা ট্রেতে বীজ বপণ করা হয়েছে। প্লাস্টিকের ফ্রেমের বা ট্রে-এর মধ্যে ৩:২ অনুপাতে মাটি ও গোবরের মিশ্রণ দিয়ে বীজতলা তৈরি করা হয়। এরপর বীজ ছিটিয়ে দিয়ে পুনরায় অর্ধেক মাটি ও গোবর মিশ্রণ দিয়ে সমতল জায়গায় রেখে পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখা হয়। বীজতলা তৈরির ৩ দিনের মধ্যে অঙ্কুর বের হয়ে যায়। ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে চারা উৎপাদন করে রোপণ করা সম্ভব। এখন বীজতলার বয়স চলছে ১৬ দিন। যা রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টারের মাধ্যমে ধানের চারা রোপণ করা হবে জমিতে। এতে কৃষক ভাল মানের চারা উৎপাদন করে অল্প সময়ের মধ্যে অধিক জমিতে ফসল আবাদ করতে পারবেন। তিনি জানান, এই ব্লকের পরীক্ষামূলকভাবে ৭৭ জন কৃষক সরকারের এই প্রণোদনার আওতায় এসেছে । এরমধ্যে ২২ জন নারী কৃষক রয়েছেন। তিনি বলেন, বোরো ধান সমলয় চাষাবাদের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ৪ হাজার ৫০০ ট্রে-তে বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নেয়। এটি অর্জনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়। সরকারের এ কার্যক্রমে সহজে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকদের অধিক ফলন ঘরে তোলা সম্ভাবনা তৈরি করছেন।

তরণীবাড়ি ব্লকের কৃষক মোস্তফা, নুর আমিন, বিধান চন্দ্র রায়, জাহাঙ্গীর আলম, সামছুল ইসলাম, নুরনাহারসহ অন্য কৃষকরা জানায়, পানি সেচের অভাবে সব জমিতে বোরো আবাদ করা যায় না। কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সমলয়ে চাষাবাদ নামে নতুন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছে। আমাদের কাছে এই পদ্ধতি সম্পূর্ণ নতুন। তারা বলছে, বেডের মধ্যে চারা উৎপাদন করে রাইস ট্রান্সপ্ল্যারেন্ট মেশিনের সাহায্যে চারা রোপণ করা হবে। সরকারের এই নতুন পরিকল্পনা পদ্ধতি অনুযায়ী আমরা ভাল চারা ও অধিক ফলন পাব এমন আশা করছি। এবার আমনের ধানের বাজার অনেক ভাল। তাই এলাকার সকল কৃষক বোরো ধান আবাদে বেশি মনোযোগী হয়েছে। এই পদ্ধতিতে স্থানীয় খাদ্য চাহিদা পূরণ করা ছাড়াও দেশের খাদ্য জোগানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর নীলফামারীর উপপরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল জানান, জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা মেটানোর জন্য ধান ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। সমলয়ে চাষাবাদের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারসহ বোরো ধানের উৎপাদন খরচ কমানো, শ্রমিক সঙ্কট নিরসন ও সময় সাশ্রয় সম্ভব। উপপরিচালক বলেন, সফলভাবে ফসল উৎপাদনের জন্য সমলয়ে চাষাবাদ পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর এবং কৃষি মন্ত্রণালয় বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। সেই লক্ষ্যে সদর উপজেলার তরণীবাড়ি ব্লকে ৫০ একর জমিতে প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। এই কর্মসূচীর আওতায় কৃষক বোরো বীজ সার ও ফসলের উপকরণ পাবে। প্রদর্শনীতে আবাদ ও উৎপাদনে সাফল্য পেলে এই অঞ্চলে বোরো আবাদে কৃষকের আগ্রহ আরও বেড়ে যাবে বলে আশা করেন তিনি।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com