বোরো বীজতলায় চারাপোড়া বা ঝলসানো রোগ

মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১১:০২ অপরাহ্ণ | 2804 বার

বোরো বীজতলায় চারাপোড়া বা ঝলসানো রোগ

রাসেল মাহবুব

বোরো ধানের বীজতলা করা হয় সাধারনত ভূ-প্রকৃতির অবস্থান অনুযায়ী নভেম্বারের মাঝামাঝি হতে ডিসেম্বারের শেষ পর‍্যন্ত। আর এ সময় আমাদের দেশে কুয়াশা সহ মোটামুটি ভাল ঠান্ডা পড়ে। বীজতলায় অঙ্কুরিত বীজ দেয়া পর ২ থেকে ৩ পাতা হওয়ার পরে অনেক সময় দেখা যায় যে স্থানে স্থানে চারা পোড়ার মত দেখায় বা ঝলসে যাওয়ার মত দেখায়। এটা মূলত বীজ বাহিত ছত্রাক জনিত রোগ। তবে ঠান্ডা ও কুয়াশা জনিত কারনে এর প্রকোপ বাড়ে। এ রোগের কারনে বীজতলায় ২৫-৩০ ভাগ চারা নস্ট হতে পারে।

লক্ষণঃ

* বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার পর আক্রান্ত চারা আস্তে আস্তে লালচে হলদেটে হয়ে শুকিয়ে যায় যা পরবর্তীতে পুড়ে যাওয়ার মত দেখায়।
* শিকড় ও চারার গোড়ার দিকটা কালচে রঙের হয়। অনেক সময় সাদা ছত্রাক চারার কান্ডের গোড়ায় দেখা যায়।
* সাধারনত উঁচু জমিতে শুকনো ও কম ভেজা মাটিতে এ রোগের প্রকোপ বেশি হয়।

কারনঃ

ছত্রাক আক্রান্ত মাটি, নাড়া, আগাছা, পচা আবর্জনা ও আক্রান্ত বীজ এ রোগের জন্যে দায়ী।

প্রতিকার বা দমন ব্যবস্থাপনাঃ

# এজোক্সিস্ট্রবিন২০%(এমিস্টার টপ, পাওয়ার ব্লাস্ট৩২৫ইসি) বা পাইরাক্লোস্ট্রবিন৫%+ মেটিরাম৫৫%(কার্বিও টপ) প্রতি লিটার পানিতে ২মিঃলি মিশিয়ে ১৬-২০ঘন্টা ভিজিয়ে বীজ শোধন করা।
# বেশি ঠান্ডায়/শীতে বীজতলায় বীজ বপন না করা।
# বেশি কুয়াশায় বা শৈত্যপ্রবাহে এবং রাতে পলিথিন সিট দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখ।
# রোগে আক্রান্ত হয়ে গেলে বীজতলায় পানি জমিয়ে রাখা।
# আক্রান্তের প্রারম্ভে এজোক্সিস্ট্রবিন২০%(এমিস্টার টপ, পাওয়ার ব্লাস্ট৩২৫ইসি) বা পাইরাক্লোস্ট্রবিন৫%+ মেটিরাম৫৫%(কার্বিও টপ) প্রতি লিটার পানিতে ২মিঃলি মিশিয়ে বীজতলায় স্প্রে করে দেয়া।

@ rasel mahbub
SAAO, Khaliyajuri,Netrokona.

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

উপসহকারী কৃষি অফিসার দম্পতি সহ ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট কৃষি অফিসে আবার ৪জন করোনায় আক্রান্ত

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com