বোরো বীজতলায় চারাপোড়া বা ঝলসানো রোগ

মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১১:০২ অপরাহ্ণ | 618 বার

বোরো বীজতলায় চারাপোড়া বা ঝলসানো রোগ

রাসেল মাহবুব

বোরো ধানের বীজতলা করা হয় সাধারনত ভূ-প্রকৃতির অবস্থান অনুযায়ী নভেম্বারের মাঝামাঝি হতে ডিসেম্বারের শেষ পর‍্যন্ত। আর এ সময় আমাদের দেশে কুয়াশা সহ মোটামুটি ভাল ঠান্ডা পড়ে। বীজতলায় অঙ্কুরিত বীজ দেয়া পর ২ থেকে ৩ পাতা হওয়ার পরে অনেক সময় দেখা যায় যে স্থানে স্থানে চারা পোড়ার মত দেখায় বা ঝলসে যাওয়ার মত দেখায়। এটা মূলত বীজ বাহিত ছত্রাক জনিত রোগ। তবে ঠান্ডা ও কুয়াশা জনিত কারনে এর প্রকোপ বাড়ে। এ রোগের কারনে বীজতলায় ২৫-৩০ ভাগ চারা নস্ট হতে পারে।

লক্ষণঃ

* বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার পর আক্রান্ত চারা আস্তে আস্তে লালচে হলদেটে হয়ে শুকিয়ে যায় যা পরবর্তীতে পুড়ে যাওয়ার মত দেখায়।
* শিকড় ও চারার গোড়ার দিকটা কালচে রঙের হয়। অনেক সময় সাদা ছত্রাক চারার কান্ডের গোড়ায় দেখা যায়।
* সাধারনত উঁচু জমিতে শুকনো ও কম ভেজা মাটিতে এ রোগের প্রকোপ বেশি হয়।

কারনঃ

ছত্রাক আক্রান্ত মাটি, নাড়া, আগাছা, পচা আবর্জনা ও আক্রান্ত বীজ এ রোগের জন্যে দায়ী।

প্রতিকার বা দমন ব্যবস্থাপনাঃ

# এজোক্সিস্ট্রবিন২০%(এমিস্টার টপ, পাওয়ার ব্লাস্ট৩২৫ইসি) বা পাইরাক্লোস্ট্রবিন৫%+ মেটিরাম৫৫%(কার্বিও টপ) প্রতি লিটার পানিতে ২মিঃলি মিশিয়ে ১৬-২০ঘন্টা ভিজিয়ে বীজ শোধন করা।
# বেশি ঠান্ডায়/শীতে বীজতলায় বীজ বপন না করা।
# বেশি কুয়াশায় বা শৈত্যপ্রবাহে এবং রাতে পলিথিন সিট দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখ।
# রোগে আক্রান্ত হয়ে গেলে বীজতলায় পানি জমিয়ে রাখা।
# আক্রান্তের প্রারম্ভে এজোক্সিস্ট্রবিন২০%(এমিস্টার টপ, পাওয়ার ব্লাস্ট৩২৫ইসি) বা পাইরাক্লোস্ট্রবিন৫%+ মেটিরাম৫৫%(কার্বিও টপ) প্রতি লিটার পানিতে ২মিঃলি মিশিয়ে বীজতলায় স্প্রে করে দেয়া।

@ rasel mahbub
SAAO, Khaliyajuri,Netrokona.

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Development by: webnewsdesign.com