ব্রি ধান ৮৯ জাত পরিচিতি ও চাষাবাদ ব্যবস্থাপনা

শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ | 1260 বার

ব্রি ধান ৮৯ জাত পরিচিতি ও চাষাবাদ ব্যবস্থাপনা

ব্রি ধান ৮৯ পরিচিতি ও চাষাবাদ ব্যবস্থাপনা

২০১৮ সালে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কতৃক উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল নতুন ধানের জাত হলো ব্রি ধান ৮৯, যা বোরো ধানের জাত। ব্রি ধান ৮৯ এর জীবনকাল ব্রি ধান ২৯ এর জীবনকালের চেয়ে ৩-৫ দিন কম কিন্তু ফলন বেশি। ফলন বেশি ও জীবনকাল কম হওয়ায় যেসব এলাকায় ব্রি ধান ২৯ চাষাবাদ করা হয় সেসব এলাকাতে সহজেই ব্রি ধান ৮৯ চাষ করা যাবে।

জাতের বৈশিষ্ট্যঃ

  • এই জাতের ধান গাছের কাণ্ড শক্ত, পাতা হালকা সবুজ ও ডিগ পাতা চওড়া।
  • পূর্ণ বয়স্ক গাছের উচ্চতা ১০৬ সেমি হয়ে থাকে।
  • এই জাতের ধানের ছড়া লম্বা হয়।
  • ধান পাকার সময় কাণ্ড ও পাতা সবুজ থাকে।
  • এই জাতের ১০০০ টি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২৪.৪ গ্রাম।
  • এ ধানে অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৮.৫%।
  • এ জাতের জীবনকাল ব্রি ধান ২৯ এর চেয়ে ৩-৫ দিন আগাম।

জীবনকালঃ ব্রি ধান ৮৯ এর জীবনকাল ১৫৪-১৫৮ দিন।

চাষ পদ্ধতিঃ এ ধানের চাষাবাদ অন্যান্য উফশী বোরো ধানের মতোই। তবে এটি সেচ নির্ভর চাষাবাদ এলাকার জন্য উপযোগী।

বীজতলায় বীজ বপনঃ বীজ বপনের উপযুক্ত সময় ১৭ কার্তিক থেকে ১ অগ্রাহায়ণ মাস অর্থাৎ ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত।

বীজতলায় বীজের পরিমাণঃ প্রতি বর্গমিটার বেডে ৮০-১০০ গ্রাম অঙ্কুরিত বীজ বেডের উপর সমানভাবে বুনে দিতে হবে। এছাড়া প্রতি হেক্টরে ২০ কেজি বীজ লাগে।

চারার বয়স ও রোপণ দূরত্বঃ এ জাতের ধানের ক্ষেত্রে ৪০-৪৫ দিন বয়সের চারা ২০X ২০ সেমি দূরে দূরে রোপণ করতে হবে।

চারা রোপণ ও চারার সংখ্যাঃ চারা ১৫ ই ডিসেম্বর থেকে ১৩ ই জানুয়ারি অর্থাৎ পৌষ পর্যন্ত রোপণ করা যাবে। প্রতি গোছায় ২-৩ টি করে চারা রোপণ করতে হবে।

সার ব্যবস্থাপনাঃ ( কেজি/বিঘা ) নিম্নে বর্ণিত সারের পরিমাণ অনুযায়ী জমিতে সার প্রয়োগ করতে হবে।

সারের নাম পরিমাণ(কেজি/বিঘা)

ইউরিয়া ৩৫-৪০কেজি

টিএসপি ১২-১৪ ”

এমওপি ১৫-২০ “

জিপসাম। ১২-১৫ “

জিংক সালফেট ১-১.৬ “

শেষ চাষের সময় সবটুকু টিএসপি, জিপসাম, জিংক সালফেট ও ২/৩ এমওপি প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সার সমান ৩ কিস্তিতে যথা- চারা রোপণের ১৫-২০ দিন পর ১ম কিস্তি, ২৮-৩০ দিন পর ২য় কিস্তি এবং ৪৫ দিন পর ৩য় কিস্তি প্রয়োগ করতে হবে। বাকি ১/৩ এমওপি ২য় কিস্তি ইউরিয়ার সাথে প্রয়োগ করতে হবে।

আগাছা দমনঃ চারা রোপণের ৪০-৪৫ দিন পর্যন্ত জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে।

সেচ ব্যবস্থাপনাঃ থোর আসা থেকে দুধ আসা পর্যন্ত জমিতে পর্যাপ্ত রস থাকতে হবে। জমিতে রসের পরিমাণ কম থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ প্রদান করতে হবে।

রোগ বালাই দমনঃ অন্যান্য প্রচলিত জাতের চেয়ে ব্রি ধান ৮৯ এ রোগ বালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়। তবে আক্রমণ দেখা দিলে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দমন করতে হবে। রোগ বালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ যদি বেশি পরিমাণে হয় তাহলে অনুমোদিত কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে।

ধান কাটার সময়ঃ ৫ বৈশাখ থেকে ২০ বৈশাখ অর্থাৎ ১৮ এপ্রিল থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ধান কাটার উপযুক্ত সময়।

ফলনঃ এ জাতের গড় ফলন ৮.০ টন/ হেক্টর। তবে উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে ৯.৭ টন/ হেক্টর পর্যন্ত ফলন হতে পারে।

তথ্যঃ সংগ্রহকৃত।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com