মকবুল হোসেনের এক ধানে দুই চাল

সোমবার, ১৫ জানুয়ারি ২০১৮ | ৮:৩৬ অপরাহ্ণ | 615 বার

মকবুল হোসেনের এক ধানে দুই চাল

শাহরিয়ার আলম সোহাগ, ঝিনাইদহ

মকবুল হোসেনের এক ধানে দুই চাল
মকবুল হোসেন বাড়ির পাশের পতিত জমিতে বিভিন্ন ঔষধি গাছ লাগান। ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির একজন প্রশিক্ষকও তিনি। একই সঙ্গে তিনি তিনটি নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করেছেন।

তার মধ্যে এক ধানে দুই চাল বিশিষ্ট একটি নতুন জাত রয়েছে। মকবুল হোসেন জানান, একটি বিশেষ পদ্ধতিতে দুটি ধানের ক্রস করিয়ে এক ধানে দুই চাল, এই নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করেন।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মহেশ্বরচাঁদা গ্রামের মকবুল হোসেন ১৯৪৫ সালে গরিব কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। আর্থিক সংকটের কারণে পড়ালেখা করতে পারেননি। চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। বাবা মারা পর ১৫ বছর বয়সে তিনি শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৮ বছর থেকে রিকশা চালানো শুরু করেন। ১৯৮২ সালে গ্রামের উন্নয়নের জন্য কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৯৩ সালে বিভিন্ন গ্রামে শ্যালো মেশিন স্থাপনের কাজ শুরু করেন।

মকবুল হোসেন জানান, ২০০০ সালে ঢাকা থেকে ড. গুল হোসেন নামে একজন কৃষিবিদ আমাদের গ্রামে আসেন। তার পরামর্শ ও হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড এনজিওর সহযোগিতায় আমরা ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনের ওপর প্রশিক্ষণ নিই। এখন কালীগঞ্জে প্রায় ৪০ হাজার কৃষক ভার্মি সার তৈরি ও জমিতে ব্যবহার করেছেন। ২০১৭ সালে আট হাজার টাকা খরচ করে ২০ ঢিপি ভার্মি সার উৎপাদন করি। পরে তা বিক্রি করি ১৬ হাজার টাকায়।

তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত তিন ধরনের ধান উদ্ভাবন করেছেন। এর মধ্যে বিশেষ পদ্ধতিতে দুটি ধানের ক্রস করিয়ে একটি ধানে দুই চাল বিশিষ্ট নতুন জাতের ধানের জাত উদ্ভাবন উল্লেখযোগ্য। তিনি বাড়িতে ১০৮ ধরনের ঔষধি গাছ লাগিয়েছেন।

গ্রামের মানুষের বিভিন্ন রোগের ওষুধ ও গাছ বিনা টাকায় দেন। এক সময় তার কিছুই ছিল না। এখন দুই বিঘা জমি কিনেছেন। একটা ইটের বাড়ি তৈরি করেছেন। সৎভাবে আয় করে বেশ সুখি জীবনযাপন করছেন তিনি। এ পর্যন্ত ৩৩টি জেলায় ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরির ৩৩টি ফার্ম গড়ে তুলেছেন তিনি। তাদের গ্রামের ১৫১টি পরিবার এখন ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরি করে।
কালীগঞ্জের সরকারি নলডাঙ্গা ভূষণ স্কুলের শিক্ষক আলিম উদ্দিন জানান, মকবুল রোগীদের বিনামুল্যে ঔষধি গাছ দেন।

কালীগঞ্জ উপজেলার দাপনা গ্রামের সুখজান খাতুন জানান, তিনি মকবুল হোসেনের কাছ থেকে ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এখন সার বিক্রি করে ভালো উপার্জন করছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার জাহিদুল করিম জানান, এই উপজেলার একজন আদর্শবান কৃষকের নাম মকবুল হোসেন। তিনি খুব উদ্যোগী ও আন্তরিক মানুষ। তিনি তিন প্রজাতির ধান আবিষ্কার করেছেন।

তার আবিষ্কার করা ধান এলাকার কৃষকরা লাগাচ্ছেন। তার ধান লাগিয়ে কৃষকরা ভালো ফলনও পাচ্ছে। মকবুলের তৈরি একটি ধানের মধ্যে দুটো চাল থাকে। যদি বিআরআরআই এটা নিয়ে গবেষণা করে তাহলে, এ এলাকাসহ দেশের মানুষ উপকৃত হবেন।

ছবি ও সংবাদসূত্রঃ খোলাকাগজ

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Development by: webnewsdesign.com