একজন উপসহাকারী কৃষি কর্মকর্তার

মাননীয় কৃষি মন্ত্রীর কাছে খোলাচিঠি

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২০ | ৫:১২ পূর্বাহ্ণ | 1905 বার

মাননীয় কৃষি মন্ত্রীর কাছে খোলাচিঠি

বরাবর,
মাননীয় মন্ত্রী
কৃষি মন্ত্রণালয়
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

বিষয় : আপনার অধীনস্থ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাসিক বেতন, নির্ধারিত ভ্রমণভাতা এবং ঝুঁকি ভাতা প্রসঙ্গে।

মহোদয়,
১। আপনি অবগত আছেন যে, আপনার মন্ত্রণালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদেরকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখে দ্বিতীয় শ্রেণী তথা ১০ গ্রেডের কর্মকর্তা হিসেবে ঘোষণা করেন।
তারই দীর্ঘ ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে ১০ গ্রেডের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন হয়ে জিও(GO) জারি হয় এবং তখন থেকেই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ ১০ গ্রেডের মর্যাদা পেয়ে আসছেন কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা, মন্ত্রী পরিষদ ও সচিবালয়ের সমস্ত কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরেও কোন এক অদৃশ্য কারণে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ আজ পর্যন্ত সরকার ঘোষিত মর্যাদার বিপরীতে তাদের বেতন/ভাতা উত্তোলন করতে পারেনি। বর্তমানে দেশের প্রায় অর্ধশতাধিক উপজেলায় প্রায় ৬ (ছয়) মাস যাবত বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে। এমতাবস্থায় উক্ত উপজেলায় কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও তাদের পরিবার অর্থাভাবে মানবেতর জীবন অতিবাহিত করছে।

২। ১৮ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে মানুষের ৩ (তিন) বেলা খাবার যোগান দিয়ে যাচ্ছে এদেশের মেহনতী কৃষকসমাজ। কৃষকসমাজ তাদের উৎপাদন যাতে সঠিকভাবে করতে পারে সেজন্য তাদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, সহযোগিতা ও সেবা দিয়ে যাচ্ছে সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন। একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রতিদিন গড়ে প্রায় শতাধিক কৃষককে পরামর্শ সেবা দিয়ে থাকেন এবং মাইলের পর মাইল রাস্তা কখনো পায়ে হেঁটে কখনো বা রিক্সা, সিএনজি অথবা নৌকো যোগে যাতায়াত করতে হয়। বর্তমান প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সর্বনিম্ন রিক্সাভাড়া ১০ টাকা, একটু শহর অথবা শহরের কাছাকাছি হলে ২০ টাকার নিচে কোন রিক্সা ভাড়া হয়না। একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে মাঠ পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দিতে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা গাড়িভাড়া গুনতে হয় অথচ তাদের জন্য মাসিক নির্ধারিত ভ্রমণভাতা মাত্র ২০০ টাকা। তাদের জন্য সরকারি ভাবে কোন পরিবহন (বাইক) বরাদ্দ নাই। কৃষকের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রত্যেক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে প্রতিমাসে তাদের বেতনের টাকা হতে গড়ে প্রায় ৪৫০০ থেকে ৬০০০টাকা খরচ করতে হয়। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ তাদের দৈনন্দিন কাজের বাইরেও বিভাগীয় আরো নানান কাজ, প্রশাসনের বিভিন্ন প্রকল্পের ট্যাগ অফিসারের দায়িত্ব এবং আরো নানাবিধ কাজ করেন কোন প্রকার ভাতা অথবা বরাদ্দ ছাড়াই।

৩। বর্তমান বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পরা করোনা ভাইরাস ( কোভিড ১৯) মহামারী বাংলাদেশেও ব্যপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায়, সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এই সাধারণ ছুটিতে জনসেবা যেন বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য স্বাস্থ্য ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীসহ বিভিন্ন সেবা খাতে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এই দুর্যোগের সময় সেবা খাতে কর্মরত কর্মচারীগণ মৃত্যু ভয় উপেক্ষা করে, পরিবারের মায়া ত্যাগ করে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন। সরকারি কর্মচারীদের এহেন ত্যাগ বিবেচনা করে মানবতার মা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারি কর্মচারীদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনার ঘোষণা করেছেন।
মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারাও সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে পরিবার পরিজন ছেড়ে, মৃত্যু ঝুঁকি মাথায় নিয়ে মাঠ থেকে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রতিটি ওয়াডের্ সরাসরি দায়িত্বপালন করছেন। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর ঘোষনা অনুযায়ী ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে আউশ প্রণোদনা বিতরণ করছেন। অথচ তাদের জন্য আজও পর্যন্ত কোন প্রণোদনার ঘোষণা আসেনি।

অতএব মহোদয় সমীপে বিনীত আরজ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের উপরোল্লিখিত বিষয়য়াদি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মহোদয়ের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।

অজ্ঞতাজনিত ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন।

বিনীত নিবেদক
মোঃ মমিনুল হক
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা
নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com