মাস্ক না পড়লে ১ লাখ টাকা জরিমানা ৬ মাসের জেল

সোমবার, ০১ জুন ২০২০ | ১:২৫ অপরাহ্ণ | 233 বার

মাস্ক না পড়লে ১ লাখ টাকা জরিমানা ৬ মাসের জেল

বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ সংক্রমণের মধ্যে মাস্ক ছাড়া বের হওয়া বেআইনি  ঘোষণা করেছে সরকার। গতকাল সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কেউ মাস্ক না পরলে ৬ মাস জেল অথবা এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।

ঘোষণায় বলা হয় কেউ যদি মাস্ক না পরে বের হয় তবে তাকে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ এর ধারা ২৪ (১), (২) ও ধারা ২৫(১) (ক,খ) এবং ধারা ২৫(২) অনুযায়ী শাস্তি পাবেন। এই আইন বাস্তবায়ন করবে জেলা প্রশাসন বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ, বলা হয় ওই ঘোষণায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এই আদেশ অমান্য করার কারণে একই ব্যক্তি আরো তিন মাসের জেল এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার দণ্ডে পড়তে পারেন। এছাড়া অন্যান্য যেসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে তা অমান্য করলেও উপরোক্ত দুই শাস্তির আওতায় পড়তে হবে নাগরিকদের।

২৪ (১) বলা আছে “যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক জীবাণুর বিস্তার ঘটান বা বিস্তার ঘটিতে সহায়তা করেন, বা জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও অপর কোনো ব্যক্তি সংক্রমিত ব্যক্তি বা স্থাপনার সংস্পর্শে আসিবার সময় সংক্রমণের ঝুঁকির বিষয়টি তাহার নিকট গোপন করেন তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।” 

আর জেল-জরিমানার কথা উল্লেখ করে ধারা ২৪(২) এ বলা হয়েছে “যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ড, বা অনূর্ধ্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন। কেউ যদি এই কাজে বাধা বা অসহযোগিতা করে তাহলে আইন অনুযায়ী তিনিও শাস্তির শিকার হবেন ২৫ (১) ধারা অনুযায়ী। সেখানে বলা আছে যদি কোনো ব্যক্তি-

 (ক) মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তাহার উপর অর্পিত কোনো দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাধা প্রদান বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, এবং

(খ)  সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোনো নির্দেশ পালনে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।

এই অপরাধের শাস্তি ২৫(২) ধারা অনুযায়ী অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ড, বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

কৃষকের মাঠ থেকে বাজার-ঘাট সব জায়গাতেই মাস্ক পড়ে থাকতে হবে। মাস্কই এখন করোনা সংক্রমণ ঠেকানোর অন্যতম একটি বড় হাতিয়ার বলে মনে করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরেক অতিরিক্ত মহাপচিালক অধ্যাপক ডা. আবু ইউসুফ ফকির। তাঁর মতে অনেকেই বিশ্বাস  করেন এটি বিত্তবানদের রোগ, গরীব মানুষের কিছু হবে না। “আপনাকে মনে করতে হবে আপনার আশপাশে সবাই করোনা রোগী, কাজেই এদের থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য যেসব নির্দেশনা আছে তার সবই মনে চলতে হবে, আর তার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মাস্ক পড়া” বলেন ডা. আবু ইউসুফ। 

আইন সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, প্রথমেই আইন সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। দ্রুতই এই আইন প্রয়োগে মাঠে নামা হবে বলেও জানান তিনি।

মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে এযাবৎ কালে সবচে বেশি জরিমানা করে আইন করা হয়েছে কাতারে। দুই সপ্তাহ আগে কাতার সরকারও পুরো দেশের কোথাও কোনো ব্যক্তিকে মাস্ক ব্যতীত দেখলে ৫ কোটি টাকা (২ লাখ রিয়েল) জরিমানা বা তিন বছরের কারাদণ্ড রেখে আইন পাশ করে দেশটির মন্ত্রিপরিষদ। গত মার্চে জরিমানা করে প্রথম মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে আইন করেছিলো ফাইন সিটি বা জরিমানার শহর বলে পরিচিত সিঙ্গাপুর। দেশটি মাস্ক না পরে বের হলে ৩শ’ সিঙ্গাপুরি ডলার বা প্রায় ২০ হাজার টাকা। 

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী  করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধ এবং পরিস্থিতির উন্নয়নের লক্ষে শর্তসাপেক্ষে ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সীমিত আকারে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসগুলো নিজ ব্যবস্থায় খোলা থাকবে। এই সময়ে শর্ত মেনে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্টসংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান ও রেল চলাচল করতে পারবে।

অফিস ও গণপরিবহন চালু হলেও রাত ৮টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত জনসাধারণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। অবশ্য জরুরি সেবা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com