রজতরেখাকে ফিরিয়ে দাও

মঙ্গলবার, ০৭ মে ২০১৯ | ৪:০৮ পূর্বাহ্ণ | 497 বার

রজতরেখাকে ফিরিয়ে দাও

রজতরেখাকে ফিরিয়ে দাও

আমাদের মুন্সিগঞ্জ তথা বিক্রমপুর সু-প্রাচীন কাল হতেই নদী বেষ্টিত ছিল । জেলার উত্তরে ধলেশ্বরী ,ইছামতি ,দক্ষিণে পদ্মা,পূর্বে মেঘনা ও শীতলক্ষ্যা, পশ্চিমে ইছামতি নদী দ্বারা বেষ্টিত ছিল । এছাড়াও ছোট ছোট কয়েকটি নদী
বিক্রমপুরের বুকে বয়ে গেছে।


তেমনি অতিব মায়াবী একটি সুন্দর ছোট্র নদী রজতরেখা । দিঘিরপাড় হতে বেশনাল-পুরা বাজার-মাকাহাটি হয়ে কাটাখালি দিয়ে একে বেকে ১০-১২কি.মি অতিক্রম করে নদীটি ধলেশ্বরীতে মিশে গেছে ।
ধবধবে সাদা উত্তাল জলরাশির জন্যই নদীটির নামকরণ রজতরেখা হয়েছে বলে ইতিহাস অনুসন্ধানে পাওয়া যায়। ৪৮০ ফুট প্রস্থের নদীটি বর্তমানে ৬০-৭০ফুট এসে দাড়িয়েছে । বছর বিশেক পূর্বেও বর্ষাকালে এই নদীতে প্রচুর পানিথাকতো এবং প্রচুর মাছ পাওয়া যেত ।ছোট বড় অনেক লঞ্চ-ষ্টিমার ,ট্রলার,
নৌকা চলাচল করত রজতরেখার বুকচিরে ।

বিক্রমপুরের ইতিহাস গ্রন্থের রচয়িতা বিক্রমপুরের গর্ব যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত রজতরেখা পারস্থ মূলচঁর গ্রামের সন্তান। অবিভুক্ত বাংলার কৃতি সাঁতারু পরেশ নাথ দত্ত ছিলেন বিক্রমপুর নশংকর গ্রামের বাসিন্দা । রজতরেখা নদীতে তিনি প্রায়ইশ সাঁতার কাটতেন ।এর ফলে পরবর্তিতে বোম্বেতে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত সাঁতার প্রতিযোগিতায় তিনি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ছিলেন ।সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের বহু লেখায় লেখায় রজতরেখা নদীর কথা উল্লেখ আছে ।

বিক্রমপুরের প্রাচীন নদ-নদী,খাল-বিল নিয়ে অনেক দিন ধরেই গবেষণা করছেন লেখক রমজান মাহমুদ । তাঁর নানাবিধ লেখায় রজতরেখার কথা বিষদ ভাবে উল্লেখ রয়েছে । বিক্রমপুরের রজতরেখা নদী ও অকৃত্রিম প্রকৃতির সঙ্গে ডোমসার নামক গ্রামে বেড়ে ওঠেন স্বর্নগ্রাম রাধানাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী গুরু প্রসাদ সেন ।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন দিঘিরপাড় এসেছিলেন তখন তিনি ও এই রজতরেখা নদীর অপরুপ সৌন্দর্ষ লীলা উপভোগ করেছিলেন । আজীবন শিক্ষা ব্রতী মৌলভী আব্দুর রহিম খান বেড়ে ওঠেন রজতরেখা নদীর পাড় ঘেসে গড়ে ওঠা রাজাবাড়ী নামক এলাকায় । বিক্রমপুরের ইতিহাস লেখক সাইদুল ইসলাম খান অপু ও জয়নাল আবেদীন খান তাঁরা বেশনাল গ্রামে জন্মগ্রহন করেন । তাঁদের বিভিন্ন লেখায় রজতরেখা নদীর নানাবিধ কথা উল্লেখ রয়েছে ।রজতরেখা নদী ও প্রকৃতির সঙ্গে বেড়ে ওঠেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত চিত্র শিল্পি কৃষ্ণা চট্র্যোপাধ্যায় । রজতরেখা পাড়ে মূলচঁর গ্রামে মোগল আমলের রাধা গোবিন্দ মন্দির রয়েছে। নদীকে ভালবেসে স্বীয় নামের শেষাংষে রজতরেখা নাম যুক্ত করেছেন কবি কৃষান বাশার রজতরেখা। রজতরেখা নদী নিয়ে তার বহু কবিতা পাঠক প্রিয়তা পেয়েছে। লেখক ও সাংবাদিক সোহেল টিটুর নানাবিধ লেখায় রজত রেখা নদীর উল্লেখ পাওয়া যায়।


অতিব সুন্দর মায়ারী রজতরেখা আর আগের মত নেই ।আজ সে নদী মৃত শীর্ণকায় ।ভূমি দস্যুরা দখল করেছে নদী। নদী গ্রাস হয়ে গেছে ।ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যাচ্ছে রজতরেখা ? একদা ভরা যৌবনের অধিকারী রজতরেখা একটি বর্তমানে নর্দমা খালে পতিত হয়েছে ।রজতরেখাকে কারা হত্যা করল ?রজতরেখা তো বাঁচতে চিয়েছিল ।

রজতরেখা কেন মরে গেল ?দিঘিরপাড় , মূলচর, কামারখাড়া,বেশনাল ,সরিষাবন ,
ধোপড়াবাসা , পুরা ,মাকাহাটির কত মানুষ যে এই রজতরেখা নদীর বুকে যাতায়েত করেছে তাঁর কোন উয়াত্তা নেই । মানুষ খুন করলে যদি খুনিদের শাস্তির বিধান থাকে তাহলে নদী খুন করলে ও কি শাস্তির বিধান রয়েছে ? যদি শাস্তির বিধান থাকে তাহলে রজতরেখা খুনিদের যথাযথ বিচারের আওতায় আনা হোক । আমরা রজতরেখাকে আগের তাঁর পরিপূর্ণ যৌবনের অধিকারী মায়ারী সুন্দর রুপে ফিরে পেতে চাই ।
ফিরিয়ে দাও ।


লেখক:
সাহিত্য সম্পাদক
সাপ্তাহিক বিক্রমপুর চিত্র।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

কৃষি মন্ত্রনালয়ে ১১-২০তম গ্রেডে বিভিন্ন পদে নিয়োগ
শম্ভুগঞ্জ এর মোমেনশাহী এটিআই এ প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পূনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ১০৮১ জন নিয়োগ
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com