মিঠে কড়া সংলাপ

শুধু মিথ্যাচার নয়, দেশদ্রোহিতাও

শনিবার, ২৭ জুলাই ২০১৯ | ৫:১৭ অপরাহ্ণ | 1105 বার

শুধু মিথ্যাচার নয়, দেশদ্রোহিতাও

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে বিচার না পেয়ে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের একজন নেত্রী আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে এই মর্মে অভিযোগ করেছেন যে, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ৩ কোটি ৭০ লাখ লোককে গুম করা হয়েছে এবং তার নিজের বাড়িঘর, সহায়-সম্পত্তি জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দেয়া হলেও তিনি এসবের কোনো বিচার পাননি।

পাশাপাশি তিনি এ কথাও বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু আছেন এবং তারা তাদের নিজেদের দেশে থাকতে চান। অর্থাৎ তার বক্তব্যের সারমর্ম হল- স্বাধীনতার পর ইত্যবসরে এ দেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ সংখ্যালঘু মানুষকে হত্যা বা গুম করা হয়েছে এবং এখনও অবশিষ্ট যে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু আছেন, তারা তাদের দেশে থাকতে পারছেন না।

webnewsdesign.com

আর সে কারণেই তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে দয়া ও সাহায্য প্রার্থনা করেছেন। ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার প্রতি তাৎক্ষণিক সহানুভূতি প্রকাশ করে তার সঙ্গে করমর্দন করেছেন।

এখন প্রশ্ন হল, কেন তিনি বিচার চাইতে সুদূর আমেরিকা গিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা শক্তির কাছে নালিশ জানালেন? বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ এ দেশের বিচারালয়কে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি বিচার চাইতে সুদূর আমেরিকা চলে গেলেন কেন? আর তার ঘরবাড়ি কেউ জ্বালিয়ে দিলে বা সহায়-সম্পত্তি কেড়ে নিলে সেসব খবরই বা আমরা জানতে পারলাম না কেন?

সংখ্যালঘুদের ওপর সামান্যতম অন্যায়-অবিচার হলে মিডিয়া যেভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং সারা দেশে হইচই পড়ে যায়, প্রিয়া সাহার ক্ষেত্রে তেমনটি হল না কেন? কেন আমরা তার বাড়ি পোড়ানোর বা সহায়-সম্পদ হরণের সংবাদ ঘুণাক্ষরেও জানতে পারলাম না?

আর প্রিয়া সাহা তো যে সে ব্যক্তি নন, তিনি একটি এনজিওর মালিক, একটি পত্রিকার সম্পাদক, দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী। এ অবস্থায় প্রিয়া সাহা নিজে এবং তিনি যাদের সাংগঠনিক নেতা তারা এ দেশে থাকতে পারছেন না, এ দেশে থাকতে হলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দয়া ও সাহায্য প্রয়োজন- এমন চিন্তাভাবনা তার একার মস্তিষ্কপ্রসূত, নাকি তার দলে এমন মনোভাবাপন্ন আরও কেউ আছেন?

যদি ধরে নেয়া যায়, দেশের সমুদয় হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানের পক্ষে তিনি এমনটি করেছেন, তাহলে তো নিশ্চিত বলা যায় এ কাজে তার আরও অনেক সহযোগী আছেন। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের নাগরিক যে হঠাৎ করে এভাবে দৌড়ে আমেরিকা গিয়ে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন, তা কী করে সম্ভব? যিনি বা যারা এ কাণ্ডটি ঘটিয়েছেন, তারা তো কোনো উদ্দেশ্য ছাড়া তা করেননি।

নইলে যুদ্ধ করে স্বাধীন হওয়া একটি দেশ, বর্তমানে যে দেশটি স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদানকারী দলের লোকজন দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, স্বাধীনতার রূপকার বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা যে দেশের প্রধানমন্ত্রী, সেই দেশের বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসন, সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা হারিয়ে তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাছে নালিশ করতে যাবেন কেন?

যদিও রাজনৈতিক কারণে বর্তমানে একটি বৃহৎ দল বা গোষ্ঠীর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা নেই, কিন্তু অভিযোগকারিণী তো সেই দল বা গোষ্ঠীর কেউ নন। বর্তমানে এ দেশে এমন একটি গোষ্ঠী আছে যারা সুযোগ পেলে বর্তমান সরকারকে শায়েস্তা করতে যে কেনো স্থানে যেতে পারেন, যে কারও সাহায্য নিতে পারেন; কিন্তু প্রিয়া সাহার ক্ষেত্রে তো এমন কিছুর প্রয়োজনীয়তা নেই বা ছিল না।

এ দেশে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হলে, দেশের আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ চোখ বন্ধ করে থাকে, এমনটিও তো নয়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ক্ষেত্রে কিছুটা পক্ষপাতিত্ব থাকলেও থাকতে পারে। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে সংখ্যালঘুদের জানমালের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো পক্ষপাতিত্ব আছে, এ কথা তো কোনো পাগলেও বিশ্বাস করবে না।

তাছাড়া যে ব্যক্তি নালিশটি করেছেন তিনি যে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক সেই হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সমিতির পক্ষ থেকে তো অভিযোগকারিণীর জানমাল ক্ষতিগ্রস্ত সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি। অথচ তাদের সমিতিটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এ দেশে কোথাও কোনো সংখ্যালঘু নির্যাতিত হলে সঙ্গে সঙ্গে তারা তার প্রতিবাদ করে থাকেন। বিশেষ করে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদককে তো প্রায় সময়ই সোচ্চার দেখা যায়।

যে কোনো বিষয়েই তিনি অত্যন্ত বলিষ্ঠতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে কথা বলে থাকেন। এত কিছু ডিঙিয়ে সুদূর আমেরিকায় গিয়ে অভিযোগ করার পেছনে যে কোনো ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত নেই, এ কথাই বা বলা যায় কেমন করে? বিশেষ করে বাংলাদেশ যখন ভেতর-বাইরের চক্রান্ত মোকাবেলা করে উন্নতির সোপান অতিক্রম করে চলেছে, ঠিক সে সময় দেশের ভেতরের এতসব সিঁড়ি ডিঙিয়ে, এতসব পদ-পদবিধারীকে উপেক্ষা করে ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়ার মতো তিনি যে কাজটি করেছেন, তাতে করে যে দেশের শত্রুদের লাভ হয়েছে বা লাভ হওয়ার সম্ভাবনা আছে, শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষতির আশঙ্কা আছে বা বর্তমান সরকারের দুর্নাম হয়েছে- এ কথা তো বলাই বাহুল্য, নাকি!

এ অবস্থায় সরকারের উচিত হবে, অভিযোগকারিণী যদি তার ঘরবাড়ি, সহায়-সম্পত্তি হারিয়ে থাকেন, কেউ যদি তার গৃহ-সম্পত্তি জ্বালিয়ে দেয় বা সহায়-সম্পত্তি জবরদখল করে, তাহলে সে সংক্রান্ত মামলার নথি, মামলা নম্বর ইত্যাদি জনসমক্ষে প্রকাশ করা।

আর তিনি যদি দেশে মামলা করে কোনো প্রতিকার না পান, তাহলে এ জন্য পুলিশ প্রশাসন বা জেলা প্রশাসন অথবা অন্য যে কেউ দায়ী হলে সে বিষয়গুলোও জনসম্মুখে প্রকাশ করা প্রয়োজন। কারণ সরকার এ নিয়ে কী ভাবছে, কী করবে, বর্তমানে তার চেয়ে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের জনসাধারণ বিষয়টি নিয়ে কী ভাবছেন।

তবে কথার ফাঁকে বলে রাখি, দেশের মানুষ কিন্তু বিষয়টি নিয়ে ভীষণ সিরিয়াস। তারা কিন্তু ঘটনাটিকে মোটেই হালকাভাবে দেখছেন না। সরকার এ বিষয়ে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, দেশের সাধারণ মানুষ কিন্তু তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে চলেছেন। এ বিষয়ে অভিযোগকারিণীর অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হলে সরকারকে তার দায় স্বীকার করতে হবে।

আর অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হলে আমেরিকা গিয়ে সে পদশের প্রেসিডেন্টের কাছে মিথ্যা মনগড়া অভিযোগ দাখিলের জন্য দেশের আইন অনুযায়ী অভিযোগকারিণীকে শাস্তি পেতে হবে। যদিও এ বিষয়ে দু-দুটি মামলা খারিজ করে দেয়া হয়েছে, তবুও দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও অনেকে মামলা করেছেন বলে সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে।

আর সাধারণ মানুষের সেন্টিমেন্ট হল, ইতঃপূর্বে অনেক সাধারণ ঘটনায় অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং অনেক বাঘা বাঘা লোকও সেসব মামলায় জেল খেটেছেন। আর এ ক্ষেত্রে তো একটি দেশের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আপত্তিকর, ক্ষতিকর ও ভয়ংকর অভিযোগ আনা হয়েছে। তাও আবার আমেরিকার মাটিতে গিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাছে!

পরিশেষে এ দেশ থেকে জনসংখ্যার ডিসঅ্যাপিয়ার নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে সে বিষয়ে সংক্ষেপে কিছু কথা বলতে চাই। অভিযোগে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ দেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ লোক ডিসঅ্যাপিয়ারড হয়েছেন। এখানে ডিসঅ্যাপিয়ারড বলতে গুম বোঝানো হয়েছে।

কারণ অন্য অর্থে শব্দটি ব্যবহৃত হলে তাতে অভিযোগ বা নালিশের প্রশ্ন উঠত না। তবে অভিযোগকারিণী এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত চতুরতার আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে একটি ভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে তা অপব্যবহার করেছেন। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত এ দেশ থেকে যে দুই-তিন কোটি লোক চলে গেছেন, এ কথাটি সত্য। তবে সেসব মানুষের সবাই হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান নন। তাদের বেশিরভাগই মুসলিম সম্প্রদায়ের। আর তার পরই রয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়।

অনেক বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকও দেশত্যাগ করেছেন। আর তারা সবাই জীবিকার প্রশ্নে দেশ ছেড়েছেন। তাদের কেউ হত্যা বা গুমের শিকার হননি। সবাই স্বেচ্ছায় মাইগ্রেটেড হয়েছেন। আমি এ বিষয় সুস্পষ্ট দু-একটি উদাহরণ দিতে চাই। ঢাকার ১২০নং কলাবাগানের ডা. মাহতাবউদ্দিন, তার ছোট ভাই ফরিদউদ্দিন এবং তাদের পরিবারের দুই

প্রজন্মের সব সদস্যই গত ২০-২৫ বছর আগে দেশ ছেড়ে আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড চলে গেছেন বিধায় ওই দুই পরিবার এবং তাদের সন্তানদের পরিবারের প্রায় ৪০ জন এ দেশ থেকে ‘ডিসঅ্যাপিয়ারড’। তারা কেউ আর দেশে ফিরবেন না। কারণ তারা তাদের সব সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছেন।

মৃত্যুর পর ডা. মাহতাবের দাফন হয়েছে নিউজিল্যান্ডে এবং ফরিদ আহমেদের দাফন হয়েছে নিউজার্সিতে। অর্থাৎ পরিবার দুটির এক জেনারেশন আগের দুই ব্যক্তির লাশ পর্যন্ত দেশে ফেরেনি। এভাবে হাজার হাজার পরিবার এ দেশ ছেড়ে ভিনদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, আর তারা গেছেন স্বেচ্ছায়। তাছাড়া এ দেশের অসহিষ্ণু ও নীতিহীন রাজনীতির কারণে, মাঝে মাঝে রাজনৈতিক দাঙ্গা-হাঙ্গামার কারণেও অনেক মুসলিম পরিবার এ দেশ ছেড়েছেন।

কারণ ওইসব মানুষের পক্ষে রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে বিব্রতকর অবস্থা সহনীয় হয়নি। দেশের পরিস্থিতি তাদের পছন্দ হয়নি। আর এভাবে অনেক ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, অধ্যাপক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মাইগ্রেটেড হয়ে অন্য দেশে চলে গেছেন।

আমি নিজে ইউরোপ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি দেশ ভ্রমণের সময় তাদের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি তারা আর কোনোদিন এ দেশে আসতে চান না। এমনকি আমার নিজের পুত্রটিও নয়। সে নিজে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী আর আমার কন্যাটিও আমেরিকান ইমিগ্র্যান্ট। ফলে চল্লিশ বছর আগে আমার নিজ পরিবারে যে সদস্য সংখ্যা ছিল, বর্তমানে তা অর্ধেকে নেমে আমরা দু’জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা এ দেশে আছি।

কথাগুলো এভাবে বলার উদ্দেশ্য হল, অনেক অসহায় বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে রেখে অনেক সক্ষম সুশিক্ষিত সন্তান এ দেশ ছেড়ে চলে গেছেন, যারা আর কোনোদিন ফিরে আসতে চান না। আর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের ক্ষেত্রেও এমন সংখ্যা প্রচুর। কারণ মাইগ্রেশনের ক্ষেত্রে তারা সবসময়ই অগ্রগামী। স্বাধীনতার আগে থেকেই তারা এ বিষয়ে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ছিলেন।

আবার হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি শ্রেণি তো সবসময়ই কলকাতা বা আশপাশে ‘সেকেন্ড হোম’ তৈরি করে রাখেন। আর সময় সুযোগ বুঝে একদিন কাউকে কিছু না জানিয়েই কেটে পড়েন। আমার ছেলেবেলায় যেসব অমুসলিম ছেলেদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিল, তাদের পরিবার পরিজনও পরিকল্পিতভাবেই পশ্চিমবঙ্গে পাড়ি জমিয়েছেন।

সবকিছু বিক্রি করে দিয়ে একরাতে টুক করে কলকাতা, কৃষ্ণনগর চলে গেছেন। এ বিষয়ে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা তুলে ধরতে চাই। আমার জন্মস্থান পাবনায় সমরচন্দ্র নামে এক ব্যক্তি রাজনৈতিক আশীর্বাদে অর্থবিত্তে ফুলেফেঁপে উঠলে প্রথমে তার ভাইকে কৃষ্ণনগরে সেটেল করে নিজেও অর্থবিত্ত নিয়ে সেখানে চলে গেছেন।

ছোটবেলায় সহপাঠী অচিন্ত পাবনায় ব্যবসা করে ফুলেফেঁপে উঠে সবকিছু বিক্রি করে একরাতে কলকাতায় পাড়ি জমিয়েছেন। ঢাকার স্নেহভাজন শান্তিরঞ্জন কলকাতার বেলেঘাটা চলে গেছেন। আর এসবই হল পরিকল্পিত মাইগ্রেশন।

স্থানাভাবে আরও অনেক জানা ঘটনা বলা সম্ভব হল না। তবে শুধু এটুকু বলে রাখি যে, এমন অনেক ঘটনা আমার জানা আছে। যেমন পাবনারই অনেককে চিনি, যারা এখানে আয়-রোজগার করে ভারতে সম্পদ গড়েন আর এভাবে তারা এক পা ভারতে দিয়েই রেখেছেন।

সুতরাং অভিযোগকারিণীর ডিসঅ্যাপিয়ারড তথ্যটি মেনে নেয়া সম্ভব হল না বলে দুঃখিত। কারণ দেশের প্রতি এটা একটি বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কিছু নয়!

মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন : কবি, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com