সবজি চাষে ভাগ্য বদলে গেছে হাটখোলার কৃষকদের

বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ | 579 বার

সবজি চাষে ভাগ্য বদলে গেছে হাটখোলার কৃষকদের

জাহিদুল ইসলাম

সিলেট শহর থেকে মাত্র দশ কিলোমিটার দূরের জনপদ সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়ন। ইউনিয়নের পাগইল গ্রামের কৃষক নিজাম উদ্দিন। ইউনিয়নের বাকি কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণার গল্প এই নিজাম উদ্দিন। একযুগ আগে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে নিজাম উদ্দিন কুঁজো হয়ে যান। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারেন নি। কিন্তু দমে যান নি নিজাম। ঘুরে দাঁড়িয়েছেন নিজের চেষ্টায়। কৃষিকে করেছেন নিজের দিন বদলের হাতিয়ার। ফলও পেয়েছেন। আজ তিনি ইউনিয়নের একজন সফল কৃষক। ৫ বিঘা জমিতে ক্ষীরা ফলিয়েছেন এবছর। খরচ বাদেও প্রায় লাখ তিনেক টাকা লাভ করেছেন। ক্ষীরা তুলে ফেলার পরেই নেমেছেন নতুন সবজি চাষের জন্য জমি প্রস্তুতে।

কথা হয় কৃষক নিজাম উদ্দিনের সাথে। নিজাম উদ্দিন জানান, আগে বছরে একবারমাত্র চাষ হতো। তাও শুধু ধান। এলাকার দুই একজন কৃষক তখন সবজি চাষ করতো। আমি যখন শুরু করি তখন প্রথম বছরে খুব একটা লাভ পাইনি। তবে আমি আশা ছাড়িনি। জমি থেকে ধান কাটার পর পরই সবজি চাষ শুরু করি। ধীরে ধীরে লাভের মুখ দেখি। সরকারী সুযোগ সুবিধা কেমন পেয়েছেন, জানতে চাইলে নিজাম উদ্দিন বলেন, সুযোগ সুবিধা বলতে তেমন কিছুই পাই না। কৃষি কার্ডও পাই নি, প্রশিক্ষণও পাই নি। একবার বেগুন চাষের জন্য সার ও বীজ দিয়েছিল। তবে এসব না পাওয়ার জন্য আক্ষেপ নেই নিজাম উদ্দিনের। নিজের প্রচেষ্টাতেই বিশ্বাস রাখেন তিনি।

একইরকম গল্প ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের নুরুল আহমদের। সৌদি প্রবাসী নুরুল দেশে ফিরে আসেন বছর দশেক আগে। দেশে এসেই শুরু করেন শিম চাষ। প্রথম বছরের শিমের ফলন আর লাভ দেখে বিদেশ ফেরেন নি তিনি। জমির পরিমাণ বাড়িয়ে মনোযোগ দেন সবজি চাষে। বছরজুড়ে শিম, করলা, শসা, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, টমেটো চাষ করে দুইবার জেলার সেরা কৃষক হয়েছেন। তার সফলতায় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা আরও তিন ভাইও এসে যোগ দেন তার সাথে। পাঁচ ভাই মিলে প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে সবজি ফলান বছরজুড়ে। বিদেশের হাড়ভাঙ্গা খাটুনির চেয়ে দেশের মাটিতেই জীবন পাল্টে দেয়ার গল্প তাদের এমন অনেক গল্পই এখন হাটখোলা ইউনিয়নজুড়ে। কৃষিতে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, সার-বীজে নানারকম সরকারি ভর্তুকি আর কৃষি কর্মকর্তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা পাল্টে দিয়েছে পুরো জনপদের চেহারা। একসময় সিলেটের অন্যতম অবহেলিত এই এলাকা এখন কৃষি বিপ্লবের প্রতিচ্ছবি। হাটখোলা ইউনিয়নের সচিব মো. আফতাব উদ্দিন জানান, এই এলাকা আগে বেশ অনুন্নত ছিল এলাকার লোকজনের মূল পেশা কৃষি হলেও তারা বছরে মাত্র একবার ফসল পেতেন। তখন বোরো মৌসুমেই শুধু চাষবাস হতো। কিন্তু গত কয়েকবছর ধরেই সবজি চাষে মনোযোগ বাড়ে কৃষকদের। তাছাড়া সরকারি সুযোগ সুবিধা অব্যাহত থাকায় কৃষকরাও সঠিক সময়ে সঠিক ফসল ফলাতে পারছেন, আর তার সঠিক মূল্য পাচ্ছেন। এত সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন অনেকে।

হাটখোলা ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি অফিসার ফজলে মঞ্জুর ভূঁইয়া বলেন, এ অঞ্চলে সত্যিকারের কৃষি বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে। সবজি চাষে দিন ফিরেছে বহু কৃষকের। আগে বছরে এক ফসল ফলানো কৃষকেরাই এখন বছরে তিন চারটি ফসল ফলাচ্ছেন। এতে লাভ দেখে নতুন করে কৃষিতে আগ্রহী হচ্ছেন অনেকে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ইউনিয়নের ২৪শ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে প্রায় ৬০০ হেক্টরে সবজি চাষ হয়। নতুন নতুন জাত আর সঠিক পরিচর্যার কারণে এখন আর কৃষককে হতাশ হতে হয় না। একটি ফসল খারাপ হলে পরের ফসল দিয়ে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেন।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com