সেলিম রেজা কৃষি বিভাগের এক কিংবদন্তির নাম

মঙ্গলবার, ১১ জুন ২০১৯ | ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ | 1326 বার

সেলিম রেজা কৃষি বিভাগের এক কিংবদন্তির নাম

এ. কে. আজাদ ফাহিম।। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় কর্মরত উপসহকারী কৃষি অফিসার মো. সেলিম রেজা। হাজারও সফলতার কাহিনী রচনা করে কৃষি ক্ষেত্রে সোনালী স্বাক্ষর রেখে চলেছেন এই কর্মবীর কৃষি কর্মকর্তা।

সেলিম রেজা ৮ ডিসেম্বর ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে জামালপুর সদরের মহেশপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম আলহাজ্ব নায়েব আলী মন্ডল ও মাতা মোছাঃ সুফিয়া বেগম।

বর্নাঢ্য কর্মজীবনের প্রতিটি পৃষ্ঠায় সফলতার ছবি একে নিজেকেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বহুবার প্রমাণ করেছেন। ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে যোগদানের মধ্য দিয়ে তার কর্মজীবনের শুরু হয়। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, জৈব সার উৎপাদন ও ব্যবহার, জৈবিক কৃষি ব্যবস্থাপনা, মাটি পরীক্ষার মাধ্যম মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, বীজের আর্দ্রতা ও অংকুরোদম পরীক্ষার মাধ্যমে বীজ শিল্পের উন্নয়ন, ফলবাগান স্থাপনের মাধ্যমে পুষ্টি চাহিদাপূরণ, ফসলের বালাই সনাক্তকরণ, কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ ও নিরাপদ ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে তার নিজ উদ্যোগে ও অর্থায়নে গড়ে তুলেছেন এক ব্যতিক্রম পেস্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও শস্য হাসপাতাল।

তার পেস্ট ডায়াগনস্টিক ও শস্য হাসপাতাল পরিদর্শনে বিভিন্ন সময়ে সচিব, তার দপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক, উপপরিচালক, বিভাগীয় কমিশনার, উচ্চ পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন গবেষক, বৈজ্ঞানিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরা অধ্যাপক, বিশ্ববিদ্যালের শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার কৃষক-কৃষাণী তার শস্য হাসপাতাল পরিদর্শণ করে ভূয়সী প্রশংসা করেন।

পরিবর্তনশীল বিশ্বে কৃষির আধুনিকায়নে আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা ও এশিয়ার ৪৭ টি দেশে পরিবেশ বান্ধব জৈবকৃষিকে উৎসাহিত করা এবং সঠিক সমস্যা নিরূপণ পূর্বক কম খরচে অধিক ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে প্লান্ট ডক্টর ক্লিনিক কার্যক্রমে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ৩০ জনের মধ্যে মো. সেলিম রেজাও প্লান্ট ডক্টর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।

কৃষির প্রতি হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ছড়িয়ে মাটি ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করার যথার্থ প্রেরণা নিয়ে শত প্রতিকূলতার মাঝেও বাউবি’র অধীনে ১ম শ্রেণিতে বিএজিএড, আমেরিকান ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি, ক্যালিফোর্নিয়া, ইউএসএ (স্টাডি সেন্টার বাংলাদেশ) থেকে সফলতার সাথে এমএসসি ডিগ্রী অর্জন করেন।

সেলিম রেজার কিংবদন্তি হয়ে ওঠার ইতিকথা হলো- তিনি একজন সৎ, পরিশ্রমী, আন্তরিক ও সৃজনশীল মানুষ। তার দীর্ঘ ২৯ বৎসরের চাকুরি জীবনে কাজের সফলতার মূল্যায়নেরও কমতি নেই। অর্জন করেছেন অনেক নামী দামি স্বীকৃতি ও পুরস্কার। দুবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার, দুবার প্রযুক্তি সম্প্রসারণে বিভাগীয় জাতীয় পুরস্কার, বিভাগীয় ইনোভেশান পুরস্কারসহ মোট ২১ টি পুরস্কার লাভ করেন। মননশীল এই প্রযুক্তি শিল্পীর কাজের সফলতায় তার অধিদপ্তর তাকে ১০ দিনের বিদেশ সফর (ফিলিপাইন) করিয়েছেন।

জীবনে অনেক কিছু পাওয়ার মাঝেও চরম শূণ্যতা হলো- দীর্ঘ ২৯ বৎসর চাকুরি জীবনে একটিও পদোন্নতি জোটেনি। এমন কি বাকী চাকুরি জীবনে আদৌ পদোন্নতি পাওয়ার সম্ভাবনাও খুবই ক্ষীণ। বাংলাদেশের সকল দপ্তর, অধিদপ্তরের সকল চাকুরীজীবিদেরই নির্দিষ্ট সময় অন্তর পদোন্নতি হয়। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও জাতীয় উন্নয়নে নিয়োজিত কৃষি উন্নয়নের প্রথম সারির সৈনিক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হয় চাকুরি জীবনের শেষ প্রান্তে। বাস্তবতা হলো- সর্বোচ্চ ১ মাস থেকে ১ বৎসরের বেশি চাকুরির বয়স থাকেনা। তাছাড়া সিংহভাগের কপালে প্রমোশন জুটেই না!

যাক সেলিম রেজার কথায় ফিরে আসা যাক। তার সহজ সরল সাদামাটা জীবনধারণ যেমন সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যতিক্রম করে তুলে তেমনি সুতীক্ষ্ণ দৃষ্টি গভীর সচেতনতা, অশুভ অসুন্দরের বিপরীতে অপ্রতিরোধ্য পথচলা তাকে সকলের মাঝে অসাধারণ করে তুলে। তার ভালোবাসা সহকর্মীদের বিমোহিত করেছে সব সময়। ছাত্র জীবনে কলেজ ছাত্রসংসদের সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদকসহ বিভিন্ন সময়ে তার পেশাজীবি সংগঠনের বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত হয়ে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সেলিম রেজা সৃজনশীলতার ছাপ রেখেছেন তার লেখনিতেও। তার প্রবন্ধ- চাষী আবুল হাশেমের সুখ, রাহেলা সংসার, সুখ তুমি কার সাথী, বাড়ি হবে খামার ইত্যাদিসহ বিভিন্ন কৃষি বিষয়ক লেখা ও কবিতা পত্র-পত্রিকায় স্থান পায়। বৃক্ষের অবদান শিরোনামে তার লেখা একটি চটি বইও প্রকাশিত হয়।

বিটিভি, চ্যানেল আই, মাছরাঙাসহ জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠান, কৃষিবিষয়ক সাক্ষাৎকার, টকশো, প্রতিবেদনে অংশগ্রহণ করেন তিনি। কৃষিতে রাসায়নিক বস্তু ব্যবহারের ফলে মানব দেহে যে কু-প্রভাব পড়ছে তার বিরুদ্ধে এবং জৈবকৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনয়নে সেলিম রেজা যে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন একজন কিংবদন্তি মানুষের পক্ষেই তা সম্ভব।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com