১১ জুলাই কবি আল মাহমুদের জন্মদিন

বৃহস্পতিবার, ১২ জুলাই ২০১৮ | ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ | 1046 বার

১১ জুলাই কবি আল মাহমুদের জন্মদিন
কবি আল মাহমুদ

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ। আজ তার ৮৩তম জন্মদিন। ১৯৩৬ সালের এই দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মৌড়াইল গ্রামে প্রবল বর্ষণের এক রাতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। তার প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। তিনি কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার সাধনা হাইস্কুল এবং পরে চট্টগ্রামের সীতাকু- হাইস্কুলে পড়াশোনা করেন।

কবি আল মাহমুদ কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনি, আত্মজীবনীসহ বিবিধ বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। কবির জন্মদিনে আজ তাকে শুভেচ্ছা জানাতে সকাল থেকেই তার বাসায় উপস্থিত হবেন কবির স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা।

১৮ বছর বয়স থেকে প্রকাশিত হতে থাকে তার কবিতা। সংবাদপত্রে লেখালেখির সূত্র ধরে তিনি ১৯৫৪ সালে ঢাকা আসেন। ঢাকা থেকে প্রকাশিত ও কবি সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত সমকাল, কলকাতার নতুন সাহিত্য, চতুষ্কোণ, ময়ূখ, কৃত্তিবাস ও কবি বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত বিখ্যাত ‘কবিতা’ পত্রিকায় লেখালেখির সুবাদে ঢাকা-কলকাতার পাঠকদের কাছে সুপরিচিত হয়ে ওঠে তার নাম। কবি আবদুর রশীদ ওয়াসেকপুরী সম্পাদিত ও নাজমুল হক প্রকাশিত সাপ্তাহিক কাফেলায় লেখালেখি ও দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায় সম্পাদনা সহকারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৫৫ সালে তিনি কাফেলায় সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত ‘লোক লোকান্তর’, ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত ‘কালের কলস’ ও ‘সোনালি কাবিন’ কাব্যগ্রন্থ তাকে প্রতিষ্ঠিত করে বাংলা কবিতার প্রথম সারির একজন কবি হিসেবে। কবি হিসেবে খ্যাতিমান হলেও বাংলা গল্পের এক আশ্চর্য সাহসী রূপকার আল মাহমুদ।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু তাকে শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের সহপরিচালক পদে নিয়োগ দেন। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর তিনি পরিচালক হন। পরিচালক হিসেবে ১৯৯৩ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

১৯৩০-এর কবিদের হাতে বাংলা কবিতায় যে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছিল, তার সাফল্যের ঝান্ডা আল মাহমুদ বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে অদ্যাবধি তুলনারহিত কৃতিত্বের সঙ্গে বহন করে চলেছেন। বাংলা কবিতাকে সমৃদ্ধ করেছেন নতুন আঙ্গিকে, চেতনায় ও বাগ্ভঙ্গির সমন্বয়ে। বাংলা কবিতায় লোকজ ও গ্রামীণ শব্দের বুননশিল্পী কবি আল মাহমুদ নির্মাণ করেছেন এক মহিমান্বিত ঐশ্বর্যের মিনার।

তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার শহরমুখী প্রবণতার মধ্যেই ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ আবহ, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ এবং নরনারীর চিরন্তন প্রেম-বিরহকে তার কবিতায় অবলম্বন করেন। আধুনিক বাংলা ভাষার প্রচলিত কাঠামোর মধ্যে স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততায় আঞ্চলিক শব্দের প্রয়োগ তার অনন্য কীর্তি।

আল মাহমুদের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে সোনালী কাবিন, অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না, একচক্ষু হরিণ, মিথ্যাবাদী রাখাল, আমি দূরগামী, দ্বিতীয় ভাঙন, উড়ালকাব্য অন্যতম। কাবিলের বোন, উপমহাদেশ, ডাহুকি, আগুনের মেয়ে, চতুরঙ্গ ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাস।

এ পর্যন্ত অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার, শিশু একাডেমি (অগ্রণী ব্যাংক) পুরস্কার, কলকাতার ভানুসিংহ সম্মাননা উল্লেখযোগ্য।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com