৪৬ বছরে কৃষির সাফল্য বিপুল

রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১:৪৬ অপরাহ্ণ | 659 বার

৪৬ বছরে কৃষির সাফল্য বিপুল
কৃষিতে সাফল্য

মো. বশিরুল ইসলাম

বছর ঘুরে আবার এসেছে বিজয় মাস। আমার জন্ম সেই সময়ের অনেক পরে বিধায় আমি স্বচক্ষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় দেখিনি। তবে কৃষি বিজয় দেখছি। কৃষিতে পড়ালেখা করে, এ নিয়ে নানা তথ্য-উপাত্ত দেখে সহজে অনুমান করা যায় কৃষিতে যে বিশাল বিজয় হয়েছে তার পেছনে কৃষিবিদ, কৃষিবিজ্ঞানী ও কৃষকের অবদান সবচেয়ে বেশি। এর সঙ্গে সরকারের সময়োপযোগী কৃষিনীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের কৃতিত্বও উল্লেখযোগ্য। শুধু মাঠে নয়, নানামুখী ইতিবাচক পদক্ষেপের কারণে কৃষির আরেকটি উপ-খাত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতেও ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষকের নিরলস পরিশ্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন প্রযুক্তি।

১৯৭১ সালে এ দেশের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে ৭ কোটি। বর্তমানে জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি। ভূমির অনুপাতে জনসংখ্যা অনেক বেশি। প্রতিবছর লোখসংখ্যা বাড়ছেই। সে তুলনায় কৃষি জমি এক শতাংশও বাড়ছে না। আর বাড়ানোরও কোনো সুযোগ দেখছি না। যেসব কৃষি জমি দখল হয়ে গেছে তা ফেরানো সম্ভব নয়। কেউ স্থাপনা, কারখানা ভেঙে কৃষি জমি উদ্ধার করবে না। বরং উল্টোটা করতে সবাই আগ্রহী। এছাড়া রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন। এসবের মধ্যেও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদাহরণ। ধান, গম, ভুট্টার বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ।

স্বাধীনতার পর থেকে দেশে ধানের উৎপাদন তিনগুণেরও বেশি, গম দ্বিগুণ, সবজি পাঁচ গুণ এবং ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে দশগুণ। দুই যুগ আগেও দেশের অর্ধেক এলাকায় একটি এবং বাকি এলাকায় দুটি ফসল হতো। বর্তমানে দেশে বছরে গড়ে দুটি ফসল হচ্ছে। স্বাধীনতার পর প্রতি হেক্টর জমিতে দেড় টন চাল উৎপাদিত হতো। এখন হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হচ্ছে চার টনেরও বেশি। খাদ্যশস্যে প্রতি হেক্টরে ১০ দশমিক ৩৪ টন উৎপাদন করে বাংলাদেশের উপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের পরে রয়েছে আর্জেন্টিনা, চীন ও ব্রাজিল।

একসময় ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ কথাটি বইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, এখন তা বাস্তব। মাছ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের স্থান চতুর্থ। মাছ রফতানি বেড়েছে ১৩৫ গুণ। এফএও পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২২ সাল নাগাদ বিশ্বের যে চারটি দেশ মাছ চাষে বিপুল সাফল্য অর্জন করবে, তার প্রথমটি হচ্ছে বাংলাদেশ। এরপর থাইল্যান্ড, ভারত ও চীন। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ। আর ছাগলের মাংস উৎপাদনে বিশ্বে পঞ্চম। আম উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। আলু উৎপাদনকারী শীর্ষ দশ দেশের কাতারে আছে এ দেশ। বাংলাদেশ থেকে আলু, সবজি আর আম রফতানি হচ্ছে বিদেশে।

খাদ্য উৎপাদনে এ সাফল্য অর্জনে কৃষককে কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, তা কি আমরা কখনও ভেবেছি? দেশের মানুষের মুখে খাদ্য তুলে দিতে গিয়ে কৃষক কোথা থেকে কোথায় পৌঁছেছে তা খতিয়ে দেখা দরকার। আমাদের কৃষিতে সাফল্যের পাশাপাশি নেতিবাচক দিকও রয়েছে। কৃষকরা বছরের পর বছর তাদের বহু কষ্টে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। আমাদের কৃষিক্ষেত্রে অনেক সাফল্য এলেও বর্তমানে একটি সমস্যা ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে- আবাদি জমির সঙ্কোচন। এখন প্রতি বছর শতকরা প্রায় একভাগ চাষাবাদের জমি হ্রাস পাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে চাষাবাদ তথা খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজয়ের মাসে সরকার, নীতিনির্ধারকসহ সবার প্রতি আহবান- আসুন কৃষকের পাশে দাঁড়াই। তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করি।

মো. বশিরুল ইসলাম : জনসংযোগ কর্মকর্তা (দায়িত্বপ্রাপ্ত), শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

mbashirpro1986@gmail.com

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

কৃষি মন্ত্রনালয়ে ১১-২০তম গ্রেডে বিভিন্ন পদে নিয়োগ
শম্ভুগঞ্জ এর মোমেনশাহী এটিআই এ প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পূনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ১০৮১ জন নিয়োগ
সারাবছর চাষযোগ্য পেঁয়াজ বারি-৫, ফলন তিনগুন বেশি

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com