একের পর এক ডুবছে হাওড়, তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন

বৃহস্পতিবার, ০৭ এপ্রিল ২০২২ | ১১:১০ পূর্বাহ্ণ | 124 বার

একের পর এক ডুবছে হাওড়, তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন

দেশে একের পর এক হাওর ডুবে যাওয়ায় ফসল নষ্ট হচ্ছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকেরা। এবার উজানের পানিতে তলিয়ে গেল কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা ইটনার ধনপুর ইউনিয়নের চাচুয়ার হাওর। স্থানীয় কৃষক  জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেনএই হাওরে জমির পরিমাণ ৭০০৮০০ একর। তবে কৃষি অফিস বলছে হাওরে ডুবে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ২০০ একরের মতো।

মঙ্গলবার (৫ এপ্রিলপানি বৃদ্ধি পেয়ে তলিয়ে গেছে এই হাওরটি। হাওরে যে পরিমাণ পানি ঢুকছেতাতে মূল হাওরের জমিগুলো তারচেয়ে  মিটার ওপরে আছে। তবে ভারতের মেঘালয়  আসামে যদি বৃষ্টি হয়, আর সেই পানি যদি নেমে আসে তাহলে হাওরের অনেক জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

webnewsdesign.com

মঙ্গলবার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছিলসন্ধ্যা পর্যন্ত পানি আরও বাড়তে পারে।  ছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছিল– পানি বেড়েছেতবে মূল হাওরগুলোতে এর প্রভাব পড়বে না।

এর আগে শনিবার থেকে উজানের ঢলে সুনামগঞ্জ  নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি হয়ে নেমে আসে পানি। সেই পানিতে কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকার নিচু বোরো জমির ফসল তলিয়ে গিয়েছিল। তবে এবার তলিয়ে যেতে শুরু করেছে ধনপুর ইউনিয়নের আফাইন্নের  চাচুয়ার হাওর নামে মূল হাওর দুটি।

 

 

কৃষক রনজিৎ চন্দ্র দাস বলেন, ‘হাওরের চারদিক দিয়ে পানি ঢুকছে। কৃষকেরা নিজেরা সেখানে মাটি ফেলেছে। যেখানে বাঁধ প্রয়োজন সেখানে দিয়েছে। তারপরও বাড়তি পানির চাপে আর শেষ রক্ষা হলো না। তলিয়ে গেল কৃষকের সারা বছরের কষ্টের ফসল।’

ধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রদীপ কুমার দাস বলেন, ‘পানি বাড়ার শুরু থেকে বিভিন্ন ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যগণসহ স্থানীয় কৃষকেরা প্রাণপণ চেষ্টা করেছে বাঁধ রক্ষা করতে। ফসল রক্ষার্থে যখন যে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন কৃষকেরা সে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সারা বছরের স্বপ্নের ফসল তলিয়ে গেল নিমিষেই। এই হাওরে জমির পরিমাণ হবে ৭০০৮০০ একর। তবে গ্রামের পাশের কিছু কিছু উচু জমি ছাড়া বেশিরভাগই হাওরের ফসলই তলিয়ে গেছে।’

 

ইটনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উজ্জল সাহা বলেন, ‘এই উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধনপুর ইউনিয়নের আফাইন্নের হাওর আর চাচুয়ার হাওর। গত দুই দিন আগেও  ইঞ্চি করে পানি বেড়েছে কিন্তু মঙ্গলবার সেটা দ্বিগুণ হয়ে  ইঞ্চি বেড়েছে।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোমতিউর রহমান জানানমঙ্গলবার সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ১২ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে  ইউনিয়নের মূল হাওরের জমিগুলোতে এখনও পানি ঢুকেনি। বাঁধগুলোও এখনো ঠিক আছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছেজেলার ১৩ উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে  লাখ ৬৯ হাজার ৪শ ১৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু হাওর অঞ্চলেই  লাখ  হাজার ৯৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।

 

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোছাইফুল আলম জানানহাওরের কৃষকদের সঙ্গে আমাদের কর্মকর্তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। যে সমস্ত জমির ধান ৮০ ভাগ পেকেছে সে সব জমির ধান দ্রুত কেটে ফেলার জন্য কৃষকদেরকে বলা হয়েছে। আবারও যদি বৃষ্টি হয় তবে বিভিন্ন হাওরের ফসল তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই কৃষকদেরকে  নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

সুনামগঞ্জের ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে ডুবল ৫ হাওর

সুনামগঞ্জে নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় হাওরের একমাত্র বোরো ফসল রক্ষাবাঁধের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। গত তিনদিনের ভারতের মেঘালয়-চেরাপুঞ্জি থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে কয়েকটি ছোট হাওর ডুবে গেছে। ব্যাপক ফসলহানির আশঙ্কায় রয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।

ঝুঁকিতে থাকা সুনামগঞ্জের হাওরের বোরো ফসল না ওঠা পর্যন্ত পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সচিবসহ সবাই সুনামগঞ্জে অবস্থান করার দাবি জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ।

 

হাওরগুলো হচ্ছে – তাহিরপুরের টাঙ্গুয়া, সুনামগঞ্জ সদরের ছোট কানলা এবং ছাতকের গুয়া পাকুয়া, শাল্লার বাঘার হাওর ও কলার হাওর।

যাদুকাটা, সুরমা, বৌলাই, কুশিয়ারা, রক্তি, কালনী নদীর পানি বাড়ছে। সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানি বেড়েই চলেছে। ফলে শনি হাওর, মাটিয়ান হাওর, পাকনা হাওর, হালির হাওর, সোনামোড়ল, শালদীঘা বোয়ালিয়াসহ অনেক হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধে ও ঝুঁকিপূর্ণ ক্লোজারগুলোতে পানির চাপ বাড়ছে। পানি বাড়ার সাথে সাথে বাঁধে দেয়া হচ্ছে মাটিভর্তি বস্তা ও বাঁশ। প্রায় প্রতিটি হাওরের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে স্থানীয় কৃষকরা স্বেচ্ছায় বাঁধ মেরামতের কাজ করছেন। বিভিন্ন হাওর ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

 

হাওরগুলো হচ্ছে – তাহিরপুরের টাঙ্গুয়া, সুনামগঞ্জ সদরের ছোট কানলা এবং ছাতকের গুয়া পাকুয়া, শাল্লার বাঘার হাওর ও কলার হাওর।

যাদুকাটা, সুরমা, বৌলাই, কুশিয়ারা, রক্তি, কালনী নদীর পানি বাড়ছে। সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানি বেড়েই চলেছে। ফলে শনি হাওর, মাটিয়ান হাওর, পাকনা হাওর, হালির হাওর, সোনামোড়ল, শালদীঘা বোয়ালিয়াসহ অনেক হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধে ও ঝুঁকিপূর্ণ ক্লোজারগুলোতে পানির চাপ বাড়ছে। পানি বাড়ার সাথে সাথে বাঁধে দেয়া হচ্ছে মাটিভর্তি বস্তা ও বাঁশ। প্রায় প্রতিটি হাওরের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে স্থানীয় কৃষকরা স্বেচ্ছায় বাঁধ মেরামতের কাজ করছেন। বিভিন্ন হাওর ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

 

ঝুঁকিতে থাকা সুনামগঞ্জের বোরো ফসলের হাওর নিয়ে সংসদে সোমবার সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ হাওরের ফসল না উঠা পর্যন্ত পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সচিবসহ সবাই সুনামগঞ্জে অবস্থান করার দাবি জানিয়েছেন সংসদে।

সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ হাওর এলাকা এর একমাত্র ফসল হচ্ছে বোর ফসল। ১০-১৫ দিন সময় প্রয়োজন আমাদের বোর ফসলটা ঘরে উঠার। কিন্তু এ মুহূর্তে আমাদের সুনামগঞ্জের বোরো ফসল হুমকির মুখে পড়েছে।

জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ বলেন, হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ এখন ঝুঁকিতে রয়েছে। কখন কী হয় বলা যায় না। এলাকাবাসী ও প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে বাঁধে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বলেন, হাওরের ফসল রক্ষা করতে হলে ব্যাপকভাবে নদী খনন করতে হবে। হাওরের চারপাশে প্রবাহিত নদীগুলোর নাব্যতা ও পানি ধারণ ক্ষমতা নেই। তাই ঢলের পানিতে নদীর দুই কূল উপচে পানি ওঠে। জরুরিভাবে নদীগুলো খনন করা দরকার।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: জহরুল ইসলাম বলেন, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেই পানি বিভিন্ন নদী দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে পানির চাপ বেড়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো: জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে নদীর পানি বাড়ছে। প্রতিটি বাঁধেই সজাগ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন জেলা প্রশাসন এলাকাবাসী সবাই বাঁধে কাজ করছেন। যে বাঁধে যে রকম সমস্যা হচ্ছে সেখানে তেমন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ফসল রক্ষাবাঁধ রক্ষা করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। আর ১০ দিন পরে হাওরে ধান কাটা শুরু হবে। বাঁধের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাঁশ, বস্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com