গ্রীষ্মকালীন সবজি- ঝিঙ্গা চাষ

রবিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২১ | ৬:১৫ অপরাহ্ণ | 137 বার

গ্রীষ্মকালীন সবজি- ঝিঙ্গা চাষ

বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় গ্রীষ্মকালীন সবজি-ঝিঙ্গা। তবে গ্রীষ্ম ও বর্ষা উভয় মওসুমে চাষ করা যায় এটি। ঝিংগায় প্রচুর পরিমান ক্যারোটিন ও ক্যালসিয়াম রয়েছে। আমাদের দেশে প্রায় সব এলাকাতে কম-বেশি ঝিঙ্গা চাষ করা হয়। ঝিঙ্গা চাষের সুবিধা হচ্ছে এটি যেকোন মাটিতে চাষ করা যায়। আসুন ঝিঙ্গার চাষাবাদ প্রযুক্তি জেনে নেই।

ঝিঙ্গা চাষ উপযোগি মাটিঃ

ঝিঙার বাড়বাড়তি ও ভালো ফলনের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া দরকার হয় সুনিষ্কাশিত উচ্চ জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দোঁআশ ও বেলে দোআঁশ মাটি ঝিঙ্গার সফল চাষের জন্য উত্তম। বীজ গজানো ও গাছের বৃদ্ধির জন্য গরম আবহাওয়ার দরকার হয়। ঝিঙা চাষের জন্য তাই সারা দিন রোদ পড়ে ও খোলামেলা এমন জায়গা নির্বাচন করতে হবে।

webnewsdesign.com

ঝিঙ্গার জাতঃ

আমাদের দেশে বর্তমানে দুই ধরণের ঝিঙ্গা চাষ করা হয়। ১। উফশী জাত ও ২। হাইব্রিড জাত।

দেশী জাতের ঝিঙা আকারে ছোট, দ্রুত আশ হয়ে যায় এবং ফলন কম। অপর দিকে হাইব্রিড জাতের ঝিঙ্গা আকারে বড় লম্বা, সুস্বাদু এবং বীজ নরম ও রসালো। তাই বর্তমানে আমাদের দেশের চাষিরা হাইব্রিড জাতের ঝিঙ্গা চাষ করার প্রতি বেশি আগ্রহী। তবে হাইব্রিড জাত থেকে বীজ রাখা যায় না।

চারা তৈরি করবেন যেভাবেঃ

সরাসরি মাদায় বীজ বুনে ও চারা লাগিয়ে ঝিঙার চাষ করা যায়। ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। তবে ঝিঙার চাষ করার ক্ষেত্রে আগে আলাদা করে চারা তৈরি করে নিতে হবে। পলিব্যাগে, কলার খোলে বা বেড তৈরি করে চার তৈরি করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে পলিব্যাগে চারা তৈরি করা নিরাপদ। অর্ধেক গোবর এবং অর্ধেক মাটি মিশিয়ে জো অবস্থায় সেই মাটি পলিব্যাগে ভরতে হবে। তবে খেয়াল রাখবেন পলিব্যাগ পুরোপুরি ভরা যাবেনা। অর্ধেক খালি রেখে বীজ রোপন করতে হবে। এরপর একটি ব্যাগে একটি করে বীজ বুনতে হবে।  পলিব্যাগের মাটির রস শুকিয়ে গেলে বা কমে গেলে ঝাঝরি দিয়ে সেচ দিতে হবে।  বীজ বোনার আগে ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখলে বীজের খোসা নরম হয় ও ভালো গজায়।

জমি তৈরি ও  চারা রোপণঃ

যেসব জমি উঁচু ও বৃষ্টির পানি আটকে থাকে না এমন জমি প্রথমে আগাছা মুক্ত করতে হবে। এরপর ভালভাবে ৪ বার থেকে ৫ বার চাষ দিয়ে এবং মই দিয়ে নিতে হবে। ঝিঙ্গা চাষ করার জন্য নির্ধারিত জায়গা কোঁদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটি নরম ও ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। তারপর মাটিতে ভালকরে জৈব সার মিশিয়ে দিয়ে মাদায় তৈরি করে বীজ রোপণ করতে হবে। প্রতিটি মাদাতে ২-৩ টি বীজ লাগাতে হবে। কারণ সকল বীজ এক সাথে নাও গজাতে পারে। এই বীজ গজাতে ৫-৭ দিন লাগে। তার কিছু দিন পর ঝিঙ্গা গাছের জন্য সুন্দর করে মাচা তৈরি করতে হবে।

সার প্রয়োগঃ

প্রতি মাদায় নিম্নোক্ত সার প্রয়োগ করতে হবে-

গোবর সার- ৫ থেকে ১০ কেজি

ইউরিয়া- ৫০০ গ্রাম

টিএসপি- ৪০০ গ্রাম

এমওপি- ৩০০ গ্রাম

বোরণ- ২ গ্রাম।

সময়ঃ

ঝিঙার বীজ রোপণের উপযুক্ত সময় ফ্রেবুয়ারি মাস হতে মার্চ মাস পর্যন্ত।

ফল সংগ্রহঃ

গাছ লাগানোর দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে ঝিঙ্গা সংগ্রহ করা যায়। ঝিঙ্গা চাষ করে যেমন পরিবারের চাহিদা মেটানো যায় তেমনি বাজারে বিক্রয় করে বেশ লাভবান হওয়া যায়।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com