গমের ফলনে এবার উচ্ছ্বসিত দক্ষিণ চট্টগ্রামের কৃষকেরা

শনিবার, ১৩ মার্চ ২০২১ | ৯:৩৭ অপরাহ্ণ | 342 বার

গমের ফলনে এবার উচ্ছ্বসিত দক্ষিণ চট্টগ্রামের কৃষকেরা

প্রথমবারের মতো বাড়ির পাশে গম ফলিয়ে রীতিমতো উচ্ছ্বাসিত সাতকানিয়ার মধ্যম গারাঙ্গীয়ার কৃষক মফিজুর রহমান। তিনি এবার গম চাষ করে আশানুরূপ ফলন পেয়ে খুশি। তার মতো পটিয়ার লালারখীল গ্রামের কৃষক শফিউল আলমও এবার প্রথমবারের মতো গম চাষ করে খুশি। পটিয়ার শফিউল আলম ও সাতকানিয়ার মধ্যম গারাঙ্গীয়ার কৃষক মফিজুর রহমানের মতো দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী, আনোয়ারা, সাতকানিয়া ও পটিয়ার অন্য কৃষকরাও প্রথমবারের মতো গম চাষ করে সফল হয়েছেন।

জানা যায়, দেশে প্রতি বছর গমের চাহিদা বেড়েই চলছে। চলতি বছর দেশে গমের চাহিদা নিরূপণ করা হয়েছে ৭২ লাখ মেট্রিক টন। তার বিপরীতে রবি মৌসুমে তিন লাখ ৫৫ হাজার ৩৩৪ হেক্টর জমিতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত রবি মৌসুমে ২০১৯-২০ অর্থবছরে তিন লাখ ৪২ হাজার ২৫২ হেক্টর জমিতে (প্রতি হেক্টরে ৩.৬৪ মেট্রিক টন উৎপাদন হিসাবে) উৎপাদন হয়েছে ১২ লাখ ৪৬ হাজার ৩৩২ মেট্রিক টন। গত বছরের তুলনায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে মাত্র ৫২ হাজার ৪২১ মেট্রিক টন।

webnewsdesign.com

আরো জানা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অধীনে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার রবি মৌসুমে দেশব্যাপী গম ও ভুট্টার অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে কাজ করছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে স্বতন্ত্রভাবে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের গোড়া পত্তন হয়। সেই থেকে গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট গমের আরো তিনটি উন্নতমানের জাত উদ্ভাবন করে। বারি গম-২৫ থেকে ৩৩ পর্যন্ত কয়েকটি উন্নতমানের গম বীজ রয়েছে, এর মধ্যে লবণাক্ততা সহিষ্ণু বারি গম ২৫ নামে একটি উন্নতমানের গম বীজ রয়েছে এসব বীজে প্রতি হেক্টরে উৎপাদন হয় চার থেকে পাঁচ মেটিক টন। তবে সমগ্র দেশে বর্তমানে গড়ে প্রতি হেক্টরে উৎপাদন হয় ৩.৬৫ মেট্রিক টন।

দেশে গম ও ভুট্টার বিপুল পরিমাণ চাহিদার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউশনের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুন্নবী মণ্ডল বলেন, সরকার সমগ্র দেশের গম ভুট্টার উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নানামুখী পদক্ষেপ নেয়ার কারণেই মূলত প্রতি বছর গম ও ভুট্টার উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে তিনি জানান।

গমে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে। সমগ্র বিশ্বেই গমের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। দেশে খাদ্যপণ্যের মধ্যে ধানের পরেই রয়েছে গমের স্থান। গম দানা একটি গুরুত্বপূর্ন খাদ্যপণ্য-যা-থেকে তৈরি করা হয় রুটি। এ ছাড়া গম দানার তৈরি আটা দিয়ে নানা ধরনের বিস্কুট কেক, পিঠা, নুডুলস তৈরি হয়।

গম ও ভুট্টার চাগিদা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে দেশব্যাপী গম ও ভুট্টা চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন ধরনে প্রকল্প প্রণয়ন করেছে। এর মধ্যে নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে এই প্রথমবারের চট্টগ্রাম জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে গম ভুট্টার আবাদ। ওই প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপজেলায় প্রথমবারের মতো ভুট্টার পাশাপাশি গম চাষও কৃষের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

পটিয়া কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান জানান, কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৩ শতক করে পাঁচটি প্লটে গমের প্রদর্শনী করা হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে।

আনোয়ারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান জানান, তার উপজেলায় ওই প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৩ শতক করে পাঁচটি প্লটে গমের আবাদ করা হয়েছে। একইভাবে সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বাবু প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, উপজেলায় প্রথমবারের মতো হলেও গমের উৎপাদন ভালো হওয়ায় কৃষকের মধ্যে গম চাষ নিয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক জানান, তার উপজেলাতেও গম চাষ নিয়ে কৃষকের মধ্যে বেশ সাড়া পড়েছে। চলতি রবি মৌসুমে ৩৩ শতক করে পাঁচটি প্লটে গমের আবাদ করা হয়েছে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com