ঢেঁড়সের ঢলে পড়া রোগ ও প্রতিকার

রবিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২১ | ৭:১৬ অপরাহ্ণ | 505 বার

ঢেঁড়সের ঢলে পড়া রোগ ও প্রতিকার

বাংলাদেশের একটি গ্রীষ্মকালীন সবজি ঢেঁড়স। এতে অধিক মাত্রায় ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম এবং খনিজ পদার্থ আছে। ঢেঁড়সের বীজে উচ্চমানের তেল ও আমিষ আছে। আমাশয়, কোষ্টকাঠিন্যসহ পেটের পীড়ায় ঢেঁড়স অত্যন্ত উপকারী। কিন্তু এই জনপ্রিয় সবজিটি বেশ কিছু ক্ষতিকারক রোগ দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে। ওই রোগগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে ঢেঁড়সের ফলন অনেক বৃদ্ধি পাবে। নিম্নে ঢেঁড়সের ঢলে পড়া রোগ ও তার প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করা হলো।

রোগের নাম : ঢলে পড়া (Fusarial wilt) রোগ

webnewsdesign.com
  • রোগের কারণ : ফিজারিয়াম অক্সিসপোরাম এফএসপি ভ্যাজিনফেক্টাম (Fusarium oxysporum f.sp. vesinfectum) নামক ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়ে থাকে।

 

  • রোগের বিস্তার : ছত্রাকগুলো প্রধানত মাটি বাহিত এবং অন্যান্য শস্য আক্রমণ করে। মাটিতে জৈব সার বেশি থাকলে এবং জমিতে ধানের খড়কুটা থাকলে জীবাণুর ব্যাপকতা বৃদ্ধি পায়। সাধারণত মাটির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে (২৮-৩০ ডিগ্রি সে.) ও যথেষ্ট পরিমাণ আর্দ্রতা থাকলে এ রোগের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। পানি সেচের মাধ্যমে আক্রান্ত ফসলের জমি হতে সুস্থ ফসলের মাঠে বিস্তার লাভ করে।

 

  • রোগের লক্ষণ : এ রোগ ঢেঁড়স গাছের বৃদ্ধির যে কোনো পর্যায়ে হতে পারে। তবে চারা গাছগুলোতেই বেশি দেখা যায়। প্রাথমিক অবস্থায় গাছের বৃদ্ধি কমে যায় এবং পাতা হলুদ বর্ণ ধারণ করে। রোগের আক্রমণ বেশি হলে পাতা গুটিয়ে যায় এবং সর্বশেষে গাছটি মরে যায়। আক্রান্ত গাছের কান্ড বা শিকড় লম্বালম্বিভাবে চিরলে এর পরিবহন কলাগুলোতে কালো দাগ দেখা যায়।

 

  • প্রতিকার : শস্য পর্যায় অবলম্বন করতে হবে। বর্ষার আগে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসের মধ্যে ঢেঁড়শের বীজ বপন করতে হবে। রোগ প্রতিরোধী জাত যেমন-বারি ঢেঁড়স ১ চাষ করতে হবে। ফসলের পরিত্যক্ত অংশ পুড়ে ফেলতে হবে। জমিতে চুন প্রয়োগ করতে হবে। জমিতে উপযুক্ত পরিমাণে পটাশ সার প্রয়োগ করলে রোগ অনেক কম হয়। শিকড় গিট কৃমি দমন করতে হবে কারণ এটি ছত্রাকের অনুপ্রবেশে সাহায্য করে।  কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক  (যেমন-কিউবি অথবা এগ্রিজিম) অথবা কার্বোক্সিন + থিরাম গ্রুপের ছত্রাকনাশক  (যেমন-প্রোভ্যাক্স ২০০ ডব্লিউপি) প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে শোধন করতে হবে। কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক (যেমন-কিউবি অথবা এগ্রিজিম) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর গাছের গোড়ায় ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com