লক্ষণ ও দমন ব্যবস্থাপনা

ধানের ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট কৃষকের কাছে এক আতঙ্কের নাম

মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ৯:৪৩ অপরাহ্ণ | 162 বার

ধানের ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট কৃষকের কাছে এক আতঙ্কের নাম

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য ক্রমহ্রাসমান জমি থেকে খাদ্যের যোগান এক চ্যালেঞ্জিং বিষয়। প্রতিনিয়তই উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হয়। কারণ বাংলাদেশের আবহাওয়া রোগ জীবাণুর বংশ বিস্তারের জন্য অনুকূল। যে সকল কারনে ধানের ফলন কমে তারমধ্যে রোগবালাই অন্যতম। আর এ রোগবালাই এর মাঝে ধানের জন্য ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট কৃষকের কাছে এক আতঙ্কের নাম।

 

আজকের লেখায় ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট (Bacterial leaf blight (BLB) disease of rice) নিয়ে আলোচনা করা হবে।

webnewsdesign.com

প্রায় সকল মৌসুমের ধানেই এ রোগটি দেখা যায়। চারা রোপনের ১৫-২০ দিনের মধ্যে ও বয়স্ক গাছে বেশি আক্রমণ পরিলক্ষিত হয়।

রোগের লক্ষণঃ


এ রোগে ধান গাছে দু ধরনের লক্ষণ দেখা যায়- ১) কৃসেক ও ২) পাতাপোড়া

👉 কৃসেকঃ


> চারা ও প্রাথমিক কুশি অবস্থায় গাছের নিচের দিকের পাতা প্রথমে নেতিয়ে পড়ে।
> আক্রান্ত চারা গাছের গোড়া পচে যায়।
> কাণ্ডে চাপ দিলে দূর্গন্ধযুক্ত আঠা বের হয় ও পরিশেষে গাছটি মারা যায়।

👉 পাতাপোড়াঃ


> পাতার অগ্রভাগ থেকে কিনারা বরাবর আক্রান্ত হয়ে নিচের দিকে বাড়তে থাকে।
> আক্রান্ত অংশে জলছাপ( Water shocked) ও হলুদাভ হয়ে খড়ের রঙ ধারন করে।
> শেষদিকে পুরু পাতা ঝলসে যায়।

 

রোগ বিস্তারে অনুকুল অবস্থা:


১) ব্যাকটেরিয়া বীজ, মাটি, আগাছা ও পরিত্যক্ত খড়কুটার মাঝে বেঁচে থাকে।
২) বাতাস ও বৃষ্টির ছিটায় রোগ এক পাতা হতে অন্য পাতায় ও গাছ হতে গাছে ছড়িয়ে পড়ে।
৩) সেচের পানির মাধ্যমে রোগ ছড়াতে পারে।
৪) বায়ুর তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বেশি থাকলে রোগ বেশি হয় কিন্তু গ্রীষ্মের গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায় রোগ কমে যায়।
৫) অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার ব্যবহার করলে রোগের প্রকটতা বাড়ে।

রোগের দমন ব্যবস্থা:


১) বীজতলা হতে চারা উঠানোর সময় চারার শিকড় যেন কম ক্ষতিগ্রস্থ হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
২) বিস্তীর্ণ এলাকায় একই জাতের ধান আবাদ না করা।
৩) রোগ প্রতিরোধী জাত যেমনঃ বি আর ৪, ব্রিধান ৩২,ব্রিধান ৩৩, ব্রিধান ৩৭, ব্রিধান ৩৮, ব্রিধান ৪০, ব্রিধান ৪১, ব্রিধান ৪৪ চাষ করা।
৪) সুষম সার ব্যবহার ও ইউরিয়া সার ৩ কিস্তিতে ব্যবহার করা।
৫) রোগাক্রান্ত মাঠে ঝড়ো বৃষ্টির পর ইউরিয়া সার না দেয়া।

 

৬) আক্রান্ত জমি শুকিয়ে ৫-১০ দিন পর আবার পানি দেয়া।
৭) আক্রান্ত জমিতে প্রতি বিঘায় অতিরিক্ত ৫ কেজি এম ও পি সার প্রয়োগ করা।
৮) ধান কাটার পর জমিতে নাড়া ও খড় পুড়িয়ে ফেলা যাতে পরবর্তী ফসলে রোগ দেখা দিতে না পারে।
৯) প্রাথমিক অবস্থায় ৬০ গ্রাম এমপি, ৬০ গ্রাম থিওভিট ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে।

রোগের আক্রমন বেশি হয় তাহলে প্রয়োজনে নিচের ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে।

প্রতি লিটার কিমিয়া ৪ গ্রাম অথবা কাসুমিন ২ মিলি অথবা কপার ব্লু ৩ গ্রাম অথবা ব্যাকটাফ ১.৫ গ্রাম অথবা টিমসেন ১ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

✍️  শাহ পারভেজ

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com