বেবি তরমুজ/রকমেলন/সাম্মাম/মাস্ক মেলন চাষাবাদ

রবিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২১ | ৫:২৬ পূর্বাহ্ণ | 312 বার

বেবি তরমুজ/রকমেলন/সাম্মাম/মাস্ক মেলন চাষাবাদ

🍈খুবই মিষ্টি, সুস্বাদু & দামি বিদেশি ফল, আমাদের দেশেও সফলভাবে চাষ হচ্ছে৷

🍈বারোমাস চাষযোগ্য
🍈৬৫-৭০ দিনে ফলন
🍈ছাদ বাগানে চাষ উপযোগী
🍈বানিজ্যিক ভাবে চাষ উপযোগী

webnewsdesign.com

🍈🍈🍉🍉ছাদ বাগানে বেবি তরমুজ /রকমেলন/সাম্মান/ মাস্ক মেলন চাষ পদ্ধতিঃ

🍈🍉মাটি প্রস্তুতঃ
বেবি তরমুজ/রকমেলনের জন্য মাটি প্রস্তুত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক মতো মাটি প্রস্তুত না করে চারা লাগালে গাছে ফল ছোটো থাকতেই গাছ ঢলে মারা যেতে পারে এবং বিভিন্ন ধরনের রোগ দ্বারা গাছ আক্রান্ত হবে।

বড়ো হাফ ড্রামের চার ভাগের তিন ভাগ মাটির সাথে একভাগ জৈব সার, ১২০-১৫০ গ্রাম/তিন মুঠো ডলোচুন মিশিয়ে রোদে ভালো করে শুকাতে হবে। এবার সপ্তাহ খানেক পর ১৫০ গ্রাম/ তিন মুঠো টিএসপি , ৫০ গ্রাম/ এক মুঠো পটাশ, ১০০ গ্রাম/দু’মুঠো ইউরিয়া, ১ কেজি কোকোডাষ্ট, ১০ গ্রাম সলুবোরন- মিশ্রিতি শুকনো মাটির সাথে মিশিয়ে ড্রামে ভরে রাখুন। ১০ দিন পর আলাদা পাত্রে বীজ রোপন করুন। চারার পাতা আনুমানিক ৪/৫ টি হলে ড্রামে দিয়ে দিন। চারা রোপনের দু তিন দিন আগে বেশি করে সেচ দিতে হবে এতে ড্রামে আর্দ্রতা থাকবে। ড্রামের মাটিগুলো আলগা করে বিকেলের দিকে চারা রোপন করে অল্প সেচ দিয়ে দিন।
এভাবে বারোমাস ছাদে চাষ করা যায়। উল্লেখ্য যে চারা গজানোর কিছুদিন পর গাছকে নিয়মিত রোদে রাখতে হবে। নিয়মিত পানি দিতে হবে। অতিরিক্ত পানি আবার গাছের গোড়ায় পচন ধরিয়ে গাছ মেরে ফেলে। গাছ কিছুটা বড় হওয়ার পর মাচা দিতে হবে৷ গাছে ফল আসলে প্রতি গাছে দুটোর বেশী ফল রাখা উচিৎ নয়৷

🍈🍈🍉🍉বানিজ্যিক বেবি তরমুজ /রকমেলন/সাম্মান/ মাস্ক মেলন চাষ পদ্ধতিঃ

🍈🍉জলবায়ু ও মাটিঃ উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া, সুনিষ্কাশিত দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি, মাটির পি এইস ৭+ অর্থাৎ কিছুটা ক্ষারীয় মাটি উপযোগী৷
🍈🍉জাতঃ ব্ল্যাক বেবি, ব্ল্যাক সুগার, ইয়েলো ড্রাগন, ইয়েলো হানি, জেসমিন-১,২,৩, প্রিন্স ইত্যাদি৷
🍈🍉আবাদের ভালো সময়ঃ ১৫ ই মার্চ-শীতের আগ পর্যন্ত৷

🍈🍉বীজ হারঃ বিঘা(৩৩) প্রতি ৭০-৮০ গ্রাম৷ সাধারণত ১২০০-১৩০০ টি চারা প্রয়োজন৷
🍈🍉জমি তৈরিঃ ৫/৬ টি আড়াআড়ি চাষ দিয়ে মাটি ভালোভাবে ঝুরঝুরে করতে হবে৷ শেষ চাষের সময় বিঘা প্রতি ৫০ মন গোবর দিয়ে দিতে হবে৷
🍈🍉বেড তৈরিঃ ৬ ইঞ্চি উচ্চতার ১.৫ হাত চওড়া বেড তৈরি করতে হবে, তারপর ১ হাত নালা রেখে আবার ৬ ইঞ্চি উচ্চতার ১.৫ হাত চওড়া বেড তৈরি করতে হবে৷ তারপর ৬ হাত চওড়া ফাঁকা জায়গা রেখে আবার ৬ ইঞ্চি উচ্চতার ১.৫ হাত চওড়া বেড তৈরি করতে হবে, ২ পাশ থেকে গাছ মাচায় উঠবে৷ এজন্য ভালোভাবে মাচা তৈরি করে নিতে হবে৷

🍈🍉সার ও বালাই ব্যবস্হাপনা ও মালচিং শিট প্রয়োগঃ বিঘা প্রতি ড্যাপ ৪০ কেজি, এমওপি ২৫ কেজি, জিপসাম ১৫ কেজি, ম্যাগনেসিয়াম ৩ কেজি, কার্বোফুরান ২ কেজি, কার্বেন্ডাজিম ২০০ গ্রাম, সলুবোরন ১ কেজি, চিলেটেড জিংক ১ কেজি সমপরিমাণ বেডে সমভাবে ছিটিয়ে দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে অথবা এ পরিমান সার পুরো জমিতে ছিটিয়ে দিয়ে শেষ চাষ দিতে হবে তারপর বেড করে ফেলতে হবে, তারপর বেডে হালকা সেচ দিয়ে বেড মালচিং শিট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে৷ ড্যাপ এর পরিবর্তে টিএসপি দিলে বিঘা প্রতি ৫ কেজি ইউরিয়া সার দিতে হবে৷

🍈🍉চারা রোপনঃ ১০ দিন পর মালচিং শিটে ১ হাত পরপর পাইপ দিয়ে ছিদ্র করে চারা বা বীজ রোপন/বপন করে দিতে হবে৷
🍈🍉আন্তঃপরিচর্যাঃ চারা রোপন এর ৩/৪ দিন পর কপার গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমনঃ হেমোক্সি(হেকেম)/চ্যাম্পিয়ান(পেট্রোক্যাম)/সানভিট(ম্যাকডোনাল্ড) ২ গ্রাম/১ লি অথবা কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমনঃ অটোস্টিন (অটো) ১ গ্রাম/১ লি পানি আকারে গোড়া ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে ৭-১০ দিন পরপর৷ শোষক পোকা যেমনঃ জাব পোকা, সাদা মাছি, লিফ মাইনর এর জন্য হলুদ ফাঁদ ভালো কার্যকরী অথবা ইমিডাক্লোরোপিড গ্রুপের ঔষধ যেমনঃ ইমিটাফ ০.৫ মিলি অথবা নোভা স্টার(পদ্মা) ১ মিলি/ ১লিঃ পানি আকারে পাতার উপর নিচে ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে৷ মাকড় ও থ্রিপস এর জন্য আঠালো নীল ফাঁদ ভালো কার্যকরী৷ এছাড়াও ইন্ট্রাপিড (পদ্মা) ১ মিলি/১ লি পানি বা এবামেকটিন ও সালফার গ্রুপের ঔষধ ২ গ্রাম/১ লি পানি আকারে পাতার উপর নিচে ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে৷ এছাড়াও জৈব বালাইনাশক বায়োট্রিন/কে-মাইট(ইস্পাহানি) বা সাকসেস(অটো) ১ মিলি/১ লি পানি আকারে খুব ভালো কাজ করে৷

🍈🍉উপরি সার প্রয়োগঃ চারার বয়স ১৫ দিন হওয়ার পর বিঘা প্রতি ২০ কেজি ইউরিয়া ও ১০ কেজি পটাশ /এমওপি সার দিতে হবে৷ ফুল আসার পর ১ গ্রাম/১ লি পানি আকারে চিলেটেড জিংক ও সলুবোরন ফুলে স্প্রে করতে হবে৷
🍈🍉ফল পাতলাকরনঃ প্রতি শাখায় ১ টি সুস্থ সবল ফল রেখে বাকীগুলো ছিঁড়ে ফেলতে হবে, নাহলে ফলের আকার ছোট হবে৷
🍈🍉নেটের ব্যাগঃ ফলের ওজন ৪০০-৫০০ গ্রাম হলে নেট ব্যাগ দিয়ে মাচার সাথে বেঁধে দিতে হবে৷
🍈🍉ফসল সংগ্রহঃ চারা রোপন এর ৬০-৬৫ দিনের মাথায় ফসল সংগ্রহ করা যায়৷

🍈🍉ফলনঃ বিঘা প্রতি ৫/৬ টন ফলন পাওয়া যায়৷ ১২০০ টি গাছ থেকে ২ টি করে ফল পেলে আর প্রতি ফলের ওজন গড়ে ২ কেজি হলে ৪৮০০ কেজি ফল পাবেন৷ প্রতি কেজি ৪০/- ধরলে বিক্রয় ১,৯২,০০০/-
🍈🍉খরচঃ ৫০,০০০ হলে নীট লাভঃ ১,৪২,০০০/-
🍈🍉বি.দ্রঃ একই জমিতে একই মালচিং শিটে ২/৩ টি ফসল চাষ করা যায় বিধায় সহজেই আরো বেশি লাভ করা সম্ভব৷ তবে শেষ কথা হলো, ভালো বীজ, সার, সেচ, যত্ন তাহলেই মিলবে রত্ন৷
🍈🍉🍈🍉🍈🍉🍈🍉

 

লেখকঃ
কৃষিবিদ শিবব্রত ভৌমিক
কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি ইউনিট
পিকেএসএফ এবং সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা
ইমেইলঃ siba_bau@yahoo.com

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com