বোরো ধানের ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা ও সমাধান

সোমবার, ২২ নভেম্বর ২০২১ | ৭:৩৮ অপরাহ্ণ | 104 বার

বোরো ধানের ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা ও সমাধান

বোরো মৌসুম শুরু হয় নভেম্বর মাসে ঠান্ডা আবহাওয়ায় আর শেষ হয় এপ্রিল/মে মাসে গরম কালে। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে ধান গাছ তার জীবন চক্রের মধ্যে কাইচ থোর থেকে ফুল ফোটা পর্যন্ত সময়ে অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরমে খুবই স্পর্শকাতর। উক্ত সময়ে বাতাসের তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে অথবা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে উঠলে ধানে অতিরিক্ত পরিমান চিটা পরিলক্ষিত হয়। যেমন- অংকুরোদগমের সময়-১০ডিগ্রি, চারা অবস্থায়-১৩ ডিগ্রি, কুশি অবস্থায়-১৫ডিগ্রি, থোর অবস্থায়-১৮ডিগ্রি, ফুল ফোটা অবস্থায়-২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর কম ক্রিটিক্যাল তাপমাত্রা। ফসল উৎপাদন কালে উক্ত তাপমাত্রার নীচে হলে জীবন চক্রের ভিন্নতা দেখা যায়। বাতাসের তাপমাএার উপর ভিত্তি করে এ মৌসুমে ধানের বীজ বপনের সময় নভেম্বর- ডিসেম্বর ও রোপনের জন্য ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাস নির্ধারিত হয়েছে। কিন্ত কৃষক তার পারিপার্শ্বিকতা বিশেষ করে সেচের পানির অপ্রাপ্যতা এবং বিরুপ আবহাওয়ার জন্য অনেক ক্ষেত্রে এ সময় অনুসরন করে না। আগাম (অক্টোবর মাসে) বীজ বপনের কারনে বিশেষ কিছু এলাকায় চিটার প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। এ ক্ষেএে দীর্ঘ জীবন কাল সম্পন্ন (১৫০ দিনের উপরে) ধানের জাতগুলো নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এবং স্বল্প জীবন কালের (১৫০ দিনের নীচে) জাতগুলো ১৫ নভেম্বরের পর থেকে বীজ তলায় বপন করতে হবে।

ধানের চারা অবস্থায় শৈত্য প্রবাহ হলে নিম্নলিখিত কাজ করতে হবেঃ
১) বীজতলায় ৩-৫ সেন্টি মিটার পানি ধরে রাখতে হবে।
২) সকালবেলা লম্বা বাঁশের কঞ্চি বা দড়ি টেনে শিশির ফেলে দিতে হবে।
৩) চারাতে সুসম সার ব্যবহার করতে হবে।
৪) বীজতলায় ছাই প্রয়োগ করলে তাপমাত্রা বাড়ে ও উপকারে আসে।
৫) অতিরিক্ত কুয়াশা হতে রক্ষা করতে বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। ৬)এ সময় ছত্রাক জনিত রোগ বেশি হয় তাই পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে উপযুক্ত ছএাক প্র‍য়োগ করতে হবে।

বীজতলায় ক্ষতিকর পোকা ও প্রতিকারঃ
(ক) থ্রিপস-
১)সূর্য্যের আলো উঠার পর চারার পাতা সুচেরমত সুঁচালো হয়ে যায়।
২) পাতার কিনারা সাদা হয়ে যায় ও পাতা উপর হতে শুকিয়ে যায়।
৩) বীজতলায় হাত বুলালে হাতের তালুতে ছোট কালো পোকা দেখা যায়।

পামরী পোকাঃ
আক্রমনের লক্ষনঃ
(১) পাতা সাদা হয়ে যায়।
২) চারা ক্রমানয়ে নিচের দিকে ডেবে যেচ্ছে মনে হয়।
প্রতিকারঃ সকালে বিকালে দুই বার সুইপিং করে পোকা ধরে মেরে ফেলতে হবে।

গ) পাতার মাছি- পাতায় ঘাঁয়ের মত সাদা দাগ দেখা যায়।
প্রতিকারঃ সকালে বিকালে দুই বার সুইপিং করে পোকা ধরে মেরে ফেলতে হবে।
(ঘ) উড়চুঙ্গা –
১)চারার শিকড় কাটে ফলে গাছ লাল হয়ে যায়।
২) গাছ শুকিয়ে খড়ের মত মনে হয়।
প্রতিকারঃ নিয়মিত পানি সেচ দিতে হবে।

ঙ)বাদামী দাগ
১) ছোট ছোট বাদামী দাগ চোখে পড়ে। ২)দাগের আকৃতি আলপিনেরমত মনে হয়।
প্রতিকারঃ
১) ৯নিয়মিত পানি সেচ দিতে হবে।
২) ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

(চ)রুটনট-
১) চারার বৃদ্বি কমে যায়।
২) চারা ফ্যাকাসে সবুজ দেখায়।
প্রতিকারঃ
১) নিয়মিত পানি সেচ দিতে হবে।
২) সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে।

লিখাঃ মাহবুবুর রহমান
ডিঃকৃষিবিদ(বিএজিএড)
উপসহকারী কৃষি অফিসার
উপজেলা কৃষি অফিস
সদর,কিশোরগঞ্জ।য়৮

webnewsdesign.com

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com