মেসি এবং বার্সেলোনা: ভালোবাসা থেকে শত্রুতায়?

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২০ | ১:৫৪ পূর্বাহ্ণ | 420 বার

মেসি এবং বার্সেলোনা: ভালোবাসা থেকে শত্রুতায়?

১৫টা বছর। লিওনেল মেসি এবং বার্সেলোনা যেন সমার্থক দু’টো শব্দে পরিণত হয়েছে। গল্পটা তো সবারই জানা। হাতের কাছে পাওয়া টিস্যু পেপারে তড়িঘড়ি চুক্তির কাজ সেরে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে রোজারিও ছেড়ে এই লা মাসিয়ায় ছোট্ট মেসির আগমন। জন্মগত হরমোন সমস্যার সমাধানটাই ছিল তখনকার চাওয়া। যেন আজন্ম সাধের ফুটবলটা নিয়ে হেসেখেলে কাটাতে পারেন এক জীবন। সেই পায়ের বলটাই তাকে বানিয়েছে জাদুকর। 

এই বার্সেলোনাও কি কম পেয়েছে? বছরের পর বছর জাদু দেখিয়ে, পায়ের তলে বলটার পরিবর্তে ট্রফির পর ট্রফি এনে ফেলেছেন লিওনেল মেসি। সম্ভাব্য সব শিরোপাই তো জিতিয়েছেন ক্লাবটিকে! প্রিয় ক্লাব, প্রিয় লা মাসিয়া ছাড়তে লিওনেল মেসির কতোটা কষ্ট হবে সেটি কল্পনা করাও দুঃসাধ্য ব্যাপার। 

webnewsdesign.com

লিওনেল মেসি পরিণত হয়েছেন বিশ্বসেরায়। গেল এক যুগে বিশ্বসেরাকে পেতে হাত বাড়িয়েছিল শীর্ষ সব ক্লাবই। স্বাভাবিকভাবেই, বিশ্বসেরাকে নিজেদের তাঁবুতে পেতে চায়না কে? গুঞ্জনও উঠেছে প্রতি মৌসুমেই, তবে কৃতজ্ঞতা কিংবা ভালোবাসার প্রতিদানস্বরূপ সেসব গুঞ্জনকে সত্যে রূপান্তরিত হতে দেননি মেসি। অর্থের ঝনঝনানিতে গা ভাসাননি। ক্লাবের প্রতি তার নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তোলার সাহসও করতে পারেননি কেউ কখনো।

এই যে গায়ে লেপ্টে যাওয়া জার্সিটা এবার সরিয়ে ফেলতে চাইছেন, কতোটা কষ্ট থেকে? বরাবরই বলেছেন, এই ক্লাবেই তার উত্থান, এখানেই শেষটাও করতে চান। তারপরও কেন এমন?

উত্তরগুলোও এতক্ষণে হয়তো সবাই জেনে গেছেন। তবে বুকের গহীণে ভালোবাসার বদলে যে জমেছে বিষাদের কালো মেঘ, সেটি সরাবে কে?

ক্লাব এবং মেসির মধুর সেই সম্পর্ক সহজেই শেষ হয়ে যেতে পারতো। তবু শেষ হচ্ছেনা। কিংবদন্তির জন্য স্মরণীয় কিছুর কথাই হয়তো ভাবছিলো ক্লাব, সেখানে এখন তিক্ততার আভাস।

মেসি জানিয়েছেন, তিনি ছাড়তে চান। ক্লাবও তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়েছে, যেকোনো মূল্যে তারা তাকে রাখতে চায়। কিন্তু থাকতে না চাইলে কি জোর করে রাখা যায়? আবার মন উঠে গেলে সে মনে জোড়া লাগে কিভাবে?

কিন্তু বিদায়টা তিক্ততায় ভরে উঠবে কেন? মেসি এবং বার্সেলোনার টানাপোড়েনের রেশ যে গড়াতে পারে আদালত পর্যন্তও। কাগজে-কলমে চুক্তিটা আগামী মৌসুম পর্যন্ত। আবার চুক্তির কথা অনুযায়ীই, চাইলেই ক্লাব ছাড়তে পারেন ক্ষুদে জাদুকর। কিন্তু সেটি জানাতে হবে মৌসুম শেষে। সেই মৌসুম যদি করোনা ঝড়ে আগস্ট পর্যন্ত টানতে হয় তার দোষ কি মেসির কাঁধে বর্তায়? তার আইনজীবির কথা এমনই। আবার সেরা খেলোয়াড়কে ধরে রাখতে বিভিন্ন মারপ্যাঁচে ফেলার চেষ্টা করছে ক্লাবও। কিন্তু এই টানাহেঁচড়া কি শেষমেশ রেষারেষিতে রূপ নেবে? এই এক দলবদলের ঘটনায় কি আজন্ম প্রিয় ক্লাব কি চলে যাবে শত্রু ক্লাবের তালিকায়? সেটি কি ঠিক হবে?

যে ক্লাবের জন্য এতো ত্যাগ কিংবা যে ক্লাব তাকে মহীরূহে পরিণত হতে সাহায্য করেছে, সবই কি ঠুনকো হয়ে যাবে এই ক’দিনের বিষাদী ক্ষণে? দেখা যাক..

Somoynews.TV Logo
এর সূত্র ধরে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com