শা’বান মাসের শেষ সময়গুলো পার করছি, সময়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

রবিবার, ২৭ মার্চ ২০২২ | ২:৫৯ অপরাহ্ণ | 111 বার

শা’বান মাসের শেষ সময়গুলো পার করছি, সময়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

শা’বান মাসের শেষ সময়গুলো পার করছি আমরা৷ এই সময়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শয়তান এই সময়টায় আপনাকে অনেকবেশি জ্বালাতন করবে। সে আপনাকে ফিসফিসিয়ে বলবে, ‘আর ক’দিন বাদেই তো রোজা। রোজা রেখে তুমি তো অমুক কাজটা করতে পারবে না। সেই কাজটা এখন করে নাও’।

webnewsdesign.com

‘রোজা রেখে তুমি অমুক মুভিটা দেখবে কীভাবে বলো তো? এখনই বরং দেখে ফেলো ঝটপট’।

‘ওই যে নাটকটা নতুন এলো, রোজা রেখে নাটকটা না দেখাই ভালো হবে, বুঝলে? তারচে বরং এখন দেখে ফেলো সেটা’।

শয়তান আপনাকে এভাবেই প্রলুব্ধ করবে। শুধু তো তা-ই নয়, যদি কোন গোপন পাপাচারে লিপ্ত থাকেন আপনি, হতে পারে অশ্লীল কোন বিষয় সেটা, শয়তান আপনাকে ফুসলাবে অধিকহারে সেটা উপভোগ করে নেওয়ার জন্যে। সেই পাপাচারে আপনাকে ডুবিয়ে রাখতে শয়তান ঢাল বানাবে রামাদানকে। ‘রামাদানে করা যাবে না’ ‘রামাদানে দেখা যাবে না’ ইত্যাদি নানান বাহানায় সে আপনাকে ভুলিয়ে পাপের রাজ্যে অবগাহন করিয়ে ছাড়বে।

শয়তান এই ফুসলানিটা শা’বানের শেষ সময়গুলোতেই বেশি দেয়। কারণ— সে চায় না আপনি পূর্ণ উদ্যম নিয়ে রামাদানকে বরণ করেন।

বুঝলেন না তো, তাই না? বুঝিয়ে বলছি।

শয়তান চাইবে না আপনি শা’বান মাসে অধিক পরিমাণ তাহাজ্জুদ, অধিক পরিমাণ যিকির-আযকার, অধিক পরিমান সিয়াম, অধিক পরিমাণ সাদাকাহ করতে করতে রামাদানকে বরণ করেন। শয়তান খুব ভালো করেই জানে— আপনি যদি পূর্ণ উদ্যমের সাথে রামাদানকে বরণ করেন, অর্থাৎ শা’বান মাসে ব্যাপক আমল করতে করতে রামাদানে ঢুকেন, তাহলে রামাদানে আপনার আমলের মাত্রা বহু বহুগুণ বেড়ে যাবে। এটা একেবারে ধ্রুব সত্য কথা! শা’বান মাসজুড়ে আপনি তাহাজ্জুদ-যিকির-আযকার-সাদাকাহতে কাঠিয়েছেন, কিন্তু রামাদান কাটাচ্ছেন একেবারে যেন-তেন ভাবে, এমনটা কখনোই হবে না। শা’বান মাসটাকে যদি আপনি আমল-ময় রাখতে পারেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া’তায়ালা আপনার রামাদান মাসটাকে আরো অধিক আমল-ময় করার সুযোগ তৈরি করে দেবেন।

 

শা’বানে অনেক বেশি আমল করতে করতে পূর্ণ উদ্যম নিয়ে যদি আপনি রামাদানে প্রবেশ করেন, তখন রামাদানে আপনাকে ঘায়েল করা শয়তানের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। যদিও আমরা জানি রামাদান মাসে শয়তানকে শেকলবন্দী করে ফেলা হয়, কিন্তু সারাবছরজুড়ে দিয়ে আসা তার ওয়াসওয়াসাগুলো আপনার কিন্তু পিঁছু ছাড়বে না। সেইটা হলো আপনার নফস। যখনই আপনার শা’বান মাসটা ভালো কাটবে, শয়তানের সেই ওয়াসওয়াসা তখন আপনার বেলায় অকেজো হয়ে পড়বে অনেকটাই।

 

ঠিক এই কারণেই শয়তান আপনাকে শা’বান মাসে অধিক বেশি বিভ্রান্ত করবে। অধিক পরিমাণে আপনাকে পাপের গহ্বরে ডুবাতে চাইবে সে।

ভাবুন তো— কেউ একজন রামাদানের আগের দিনও ইন্টারনেটে অশ্লীল ছবিতে চোখ ডুবিয়ে রেখেছে, তার দ্বারা কি সম্ভব পরের রাত থেকে বিনয়-বিগলিত হয়ে তাহাজ্জুদে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানো? অনেকটাই অসম্ভব। কারণ— ইবাদাতের জন্য যে তাড়না দরকার, যে মধুরতা না পেলে ইবাদাত পানসে লাগে, সেই তাড়না, সেই মধুরতা তার অন্তরে বিদ্যমান থাকে না। ফলে সে ভাবে— ‘রামাদান তো মাত্রই শুরু হলো। পুরো একমাস হাতে আছে। আস্তেধীরে শুরু করবো সব আমল। এই তো আগামিকাল থেকে…’।

 

সেই ‘আগামিকাল’ অনেকক্ষেত্রেই আর আসে না তার কাছে। একসময় সে আবিষ্কার করে— রামাদানের আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি, অথচ তার এখনো তেমন কিছুই করা হয়ে উঠেনি!

এই যে একটা উদ্যম নিয়ে সে আসতে পারেনি, ঠিক এই কারণেই সে রামাদানটাকে হারিয়ে ফেলে।

নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রামাদান মাসের বাইরে শা’বান মাসেই সবচেয়ে বেশি সিয়াম রাখতেন। তিনি কেনো এটা আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেলেন, বুঝতে পারছেন তো?’

শা’বানের শেষ সময় চলছে। শয়তানকে আর কোন সুযোগ নয়। পূর্ণ উদ্যম নিয়ে রামাদানকে বরণ করতে আজ থেকে লেগে পড়ি, চলুন…

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com