সারের কৃত্রিম সংকট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২২ | ৯:০০ অপরাহ্ণ | 359 বার

সারের কৃত্রিম সংকট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

Warning: Use of undefined constant linklove - assumed 'linklove' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/chasrhxr/public_html/wp-content/plugins/facebook-comments-plugin/class-frontend.php on line 99
কিছু অসাধু বিসিআইসি সার ডিলারদের অধিক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্য সরকারের কোটি কোটি টাকা কৃষি ও কৃষকের কল্যাণে ব্যয় করার পরও বঞ্চিত হচ্ছে কৃষক। নির্ধারিত জায়গায় গুদামজাত করার কথা থাকলেও নিজেদের ইচ্ছে বা খেয়াল খুশি মতো গুদামজাত করছেন সার। এতে সারের সংকট দেখা যাচ্ছে এবং উপযুক্ত সময়ে দোরগোড়ায় সার না পেয়ে হাহাকার করছেন কৃষক। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দেশে অর্থনীতির মেরুদণ্ড কৃষি। এর উত্তরোণের জন্য কৃষি ও কৃষকের কল্যাণের প্রয়াসে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করে ফেসবুক একটা পোস্ট করেন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার কর্মরত উপসহকারী কৃষি অফিসার আরিফ চৌধুরী। নিচে তার ফেসবুক পোস্টটি তুলে ধরা হলো।
দৃষ্টি আকর্ষণঃ
মাননীয় কৃষিমন্ত্রী- জনাব, মোঃআব্দুর রাজ্জাক স্যার
মাননীয় শিল্পমন্ত্রী- জনাব,নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন স্যার,বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতির মাননীয় সভাপতি- জনাব,সাজ্জাদুল হাসান স্যার।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা,কৃষক দরদী,কৃষিবান্ধব সরকারের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, দায়িত্ব গ্রহণের পর হতেই কৃষকের নিকট সার যাতে সহজলভ্য হয় এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষকগণ প্রয়োজনীয় সার ব্যবহার করতে পারেন, এজন্য নানাবিধি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো ভর্তুকি দিয়ে নাম মাত্র মূল্যে সারের দাম নির্ধারণ, তাছাড়া উৎপাদন সচল ও যথা সময়ে সারের আমদানি সর্বোপরি সারের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিতকরণের জন্য কৃষি মন্ত্রনালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয় নিবিড় সমন্বয়ে বহুবিধ ব্যবস্থা গ্রহণ চলছে। কোভিড- ১৯ বিশ্বব্যাপী যখন কঠোর লকডাউনে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল, সারের মূল্য জাহাজ ভাড়া এবং জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও, আমাদের কৃষিবান্ধব সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সারের মূল্য বৃদ্ধি করেন নি।
কৃষি তথ্য সার্ভিস ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য আনুসারে সারের আন্তর্জাতিক বাজার মূল্য এবং দেশের বাজারের মূল্য নিম্নরূপ।
কেজি / বস্তা(৫০kg)
সারের নাম  – বাংলাদেশের বাজার দর – আন্তর্জাতিক বাজার
ইউরিয়া – ১৬ টাকা(৮০০/-) –  ৯৮ টাকা (৪৯০০/-)
টিএসপি – ২২ টাকা(১১০০/-) – ৮৭ টাকা(৪৩৫০/-)
ডি এ পি – ১৬ টাকা(৮০০/-)  – ৯৬ টাকা(৪৮০০/-)
এমওপি – ১৫ টাকা(৭৫০/-) – ৬৩ টাকা(৩১৫০/-)
আজ বেশ কিছুদিন যাবৎ লিখব লিখব করে ভাবছি, আমাদের দেশের সহজ-সরল কৃষকদের সার নিয়ে আজ এই দুরবস্থা আর না লিখে থাকতে পারছি না, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় এবং মাননীয় কৃষি অর্থনীতির সভাপতি মহোদয়, আপনাদের নিজ এলাকায় বিসিআইসি কর্তৃক প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে সারের মূল ডিলার রয়েছেন, যারা সরকারকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুই লক্ষ টাকা জামানত প্রদানের মাধ্যমে ডিলার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন, তারা নিজ ইউনিয়নে সার গুদামজাত করবেন বলে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ, উনারা কি বাস্তবিকপক্ষে ইউনিয়নের মধ্যে সার মজুদ রাখেন…..?
সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা ভূর্তুকি দিচ্ছেন কৃষকের দোরগোড়ায় সার পৌঁছিয়ে দেওয়ার জন্য, কিন্তু কিছু অসাধু বিসিআইসি সার ডিলার গণ নির্দিষ্ট স্থানে সার মজুদ না রেখে অধিক মুনাফা লাভের আশায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে সারের মূল্যবৃদ্ধি করছেন এতে কৃষকগণ নির্ধারিত মূল্যে সার ক্রয় করতে পারছেন না।
দেশের উৎপাদন ব্যবস্থার ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে, এতে কৃষক গন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে,আমি একজন কৃষকের সন্তান হয়ে কৃষি অর্থনীতি ও কৃষককে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আপনাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
বিনীত
আরিফ চৌধুরী
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা
ছাতক, সুনামগঞ্জ।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments

webnewsdesign.com