ধানের ব্যাকটেরিয়া জনিত পেনিকেল ব্লাইট/শীষ পোড়া রোগ

সোমবার, ৩১ অক্টোবর ২০২২ | ৩:১৭ অপরাহ্ণ | 119 বার

ধানের ব্যাকটেরিয়া জনিত পেনিকেল ব্লাইট/শীষ পোড়া রোগ

Warning: Use of undefined constant linklove - assumed 'linklove' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/chasrhxr/public_html/wp-content/plugins/facebook-comments-plugin/class-frontend.php on line 99

ধানের ব্যাকটেরিয়া জনিত পেনিকেল ব্লাইট/শীষ পোড়া রোগটি কৃষকের মারাত্নক ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আমন ধানের জমিতে শীষ বের হওয়ার পরে ধানের দানায় ধূসর/কালো/গোলাপি রঙ ধারন করে শীষ সাদা হয়ে যেতে দেখা যায়। এটাকে ধানের ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট ( Bacterial panicle blight)রোগ বলে।

webnewsdesign.com

যেসব কারনে এই রোগটি হতে পারে:

★অনুকুল পরিবেশ: সাধারণত দিনের তাপমাত্রা ৩২° এর উপরে রাতের তাপমাত্রা ২৫° বা তার বেশি। উচ্চ আর্দ্রতা ৮০%।
★অতিরিক্ত ইউরিয়া সার প্রয়োগ।
★ফুল ফোটার সময় সকাল ১০-১২ টার মধ্যে ৩২° ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করলে।
★বীজ বাহিত বা রোগাক্রান্ত বীজ, মাটি, সেচ এর পানি এ রোগের প্রাথমিক বাহক।
★এছাড়া হঠাৎ বৃষ্টিপাত এবং রোগাক্রান্ত শিষের সংস্পর্শ সেকেন্ডারি বাহক হিসেবে কাজ করে।

রোগের লক্ষণ:
★আক্রান্ত ধানের দানা গুলো ধূসর/কালো/গোলাপী রং ধারণ করে।
★ধানের শীষে সঠিকভাবে দানা বাধতে পারে না।
★চিটা হয়ে যায় তবে শীষের সকল দানা গুলো চিটা হয় না।
★শীষ গুলো চিটা হওয়ার ফলে দুর থেকে সাদা দেখায় ও শীষ খাড়া হয়ে থাকে।
★সংক্রমিত শীষের নিচের অংশ সবুজ থাকে।
তবে তাপমাত্রাজনিত কারণে চিটা হবার লক্ষণের সাথে এ রোগের সামান্য পার্থক্য আছে।

ক্ষতির ধরন:
এই রোগের আক্রমণে ফলে ধানের প্রায় ৭০% পর্যন্ত ফলন কমে যেতে পারে।

আক্রমণের পূর্বে করণীয়:
★বীজ রোদে ভালো করে শুকিয়ে নেওয়া।
★বীজ বপনের পূর্বে ছত্রাকনাশক দিয়ে শোধন করা।
★অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার না করা।

আক্রমনের পরে করনীয়:
★আক্রান্ত ক্ষেত হতে বীজ সংরক্ষণ করা যাবে না।
★রোগের প্রাথমিক অবস্থায়
প্রতি লিটার পানিতে ৪ গ্রাম কুইকপটাশ/ফাস্ট পটাশ+৫ গ্রাম সালফার (থিওভিট/কুমুলাস) + ০.৫ গ্রাম চিলেটেড জিংক পানিতে মিশিয়ে অবশ্যই দুপুরের পর/বিকেল বেলা স্প্রে করতে হবে।
★এতেও যদি রোগের প্রকোপ না কমে তাহলে নিচের যে কোন একটি গ্রুপের বালাইনাশক অনুমোদিত মাত্রায় স্প্রে করতে পারেন।
– বিসমার্থিয়াজল+কাসুগামাইসিন গ্রুপের ব্যাকটেরিয়ানাশক যেমন: সানস্কার, কিমিয়া-২১.৫ ডাব্লিউপি যে কোন একটি বালাইনাশক প্রতি লিটার পানিতে ০৩ গ্রাম হারে মিশিয়ে বিকেলে
অথবা
বিসমার্থিয়াজল গ্রুপের বালাইনাশক ব্যাকট্রল, থায়াজল অটোব্যাক, রাদি, বিসমাজল, ব্যাকট্রোবান-২০ ডাব্লিউ পি যে কোন একটি বালাইনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করা যেতে পারে।
অথবা
স্টেপট্রোমাইসিন সালফেট+ট্রেট্টাসাইক্লিন হাইড্রোক্সইড গ্রুপের বালাইনাশক এন্টিব্যাক, ডাইব্যাকটেরিয়াল, ক্রোসিন এজি-১০ এসপি যে কোন একটি বালাইনাশক প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে বিকালে
অথবা
কপার হাইড্রোক্সাইড গ্রুপের বালাইনাশক যেমন চ্যাম্পিয়ন, জিবাল, ডলফিন, উইন, সুপারপক্স, প্যারাসল, হাইড্রেকার্ব-৭৭ ডব্লিউপি যে কোন একটি বালাইনাশক প্রতি লিটার পানিতে ০৪ গ্রাম হারে
অথবা
কপার অক্সিক্লোরাইড গ্রুপের বালাইনাশক সানভিট, অক্সিভিট, ব্লিটক্স, কপার ব্লু, হেমক্সি, অক্সিকপ, সালকক্স- ৫০ ডাব্লিউ পি যে কোন একটি বালাইনাশক প্রতি লিটার পানিতে ৪ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করা যেতে পারে।

অব্যশই প্রতি শতক জমির জন্য দুই লিটার পানি বিকেল বেলা স্প্রে করতে হবে।

– সংগ্রহ ও সংকলনে
মোঃ দুলাল উদ্দিন
সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার
কিশোরগঞ্জ সদর,কিশোরগঞ্জ।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments