২০ হাজার টাকার ধানি জমিতে দেড় লাখ টাকার মাল্টা

শনিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১১:১১ অপরাহ্ণ | 1768 বার

২০ হাজার টাকার ধানি জমিতে দেড় লাখ টাকার মাল্টা

Warning: Use of undefined constant linklove - assumed 'linklove' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/chasrhxr/public_html/wp-content/plugins/facebook-comments-plugin/class-frontend.php on line 99

বাড়ির পাশের জায়গাটি মূল্যবান হলেও সেখানে কাঙ্খিত ফসল ফলানো হয়ে ওঠে না কোনো কৃষকেরই। অনেকটা অযত্ন অবহেলায় পড়ে থাকে সেটি।

এমনই প্রায় পরিত্যক্ত একটি জমিতে মাল্টা চাষ করে কৃষি বিভাগকে চমকে দিয়েছেন সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার হালঘাট গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন।
ইসমাইল হোসেন জানান, জকিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের উপ সহকারী মাঠ কর্মকর্তা বলাই বিশ্বাস প্রথম তাঁকে মাল্টা চাষের পরামর্শ দেন। ২০১৬ সালের এপ্রিলে স্থানীয় কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ৬০ শতক জমিতে মাল্টা চাষ শুরু করেন তিনি। মাল্টা গাছের চারা, সার, কীটনাশক, পরামর্শ- সবই বিনামূল্যে দেয় কৃষি বিভাগ। মাত্র দুই বছরের মাথায় আশাতীত ফলন পেয়ে যার পর নাই খুশি ইসমাইলের পরিবার।

webnewsdesign.com

যে জমিতে সব মিলিয়ে বছরে ২০ হাজার টাকার ধান পাওয়া যেতো সেখান থেকে এবার প্রায় দেড় লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করে এলাকায় রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন ইসমাইল। প্রতিদিন দৃষ্টিনন্দন মাল্টা বাগান দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসে লোকজন। কৃষি বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জের কৃষকগণ দফায় দফায় পরিদর্শন করেছেন প্রদর্শনী বাগানটি।

জকিগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন বলেন, সাইট্রাস ফসলের মধ্যে মাল্টা অন্যতম।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ২০০৩ সালে ‘বারি মাল্টা-১’ নামে মাল্টার যে উন্নত জাত উদ্ভাবন করে তা দেখতে সবুজ, খেতে সুস্বাদু ও রসালো। শুষ্ক মাঝারি উঁচু জমি যেখানে রোদ পড়ে সেটি মাল্টা চাষের জন্য উপযুক্ত।

সিলেট অঞ্চলে শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় জকিগঞ্জ উপজেলায় ৬০ শতক জমির ১২টি এবং রাজস্ব খাতের অর্থায়নে ৩০ শতকের ২০টি মাল্টা বাগান করা হয়েছে। তবে ইসমাইল হোসেনের বাগানটি শুধু সিলেট বিভাগ নয় দেশের অন্যতম একটি মাল্টা বাগান। যার বাগান থেকে এবার প্রায় ১২০০ কেজি মাল্টায় দেড় লাখ টাকা আয় হয়েছে।

ইসমাইলের বাবা আসাব আলী জানান, জমিতে মাটি ভরাট ছাড়া তাঁর নিজের খরচ হয়েছে মাত্র হাজার বিশেক টাকা। মাল্টা বাগানে ইসমাইলের সঙ্গে পরিচর্যার কাজ করেন তাঁর বাবা আসাব আলী, ভাই আলী হোসেন ও কাওছার আহমদ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজন কুমার সিংহ বলেন, ‘উচ্চ ফলনশীল মাল্টা বাগানটি দেখে আমি অভিভূত। প্রতিটি গাছের ডাল ফসলের ভারে নুয়ে পড়েছে। মিষ্টি জাতের এ মাল্টা যারাই একবার মুখে নিয়েছেন তারাই প্রশংসা করেছেন এর।

বিষমুক্ত পুষ্টিকর লাভজনক মাল্টা চাষের দৃষ্টান্ত ইসমাইল হোসেন। সিলেটের পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনতে অন্যদের কাছে অনুকরণীয় হতে পারেন ইসমাইল। খামার বাড়ি ফার্মগেট ঢাকা থেকে মাল্টা চাষের ওপর যে পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়েছে তার প্রচ্ছদে ব্যবহার করা হয়েছে জকিগঞ্জের ইসমাইলের মাল্টা বাগানের ছবি।

উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ বলেন, ‘জকিগঞ্জের কৃষক ইসমাইল আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন জকিগঞ্জের মাটি মাল্টা চাষের উপযোগী। নতুন একটি সম্ভাবনা তিনি উপস্থাপন করেছেন আমাদের সামনে। সঠিক পরামর্শ, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, সদিচ্ছা আর আন্তরিকতায় সফলতা সম্ভব- ইসমাইলই তার দৃষ্টান্ত। ‘

সূত্রঃ কালের কন্ঠ

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments