পাটের দুটি নতুন শাকের জাত উদ্ভাবন

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০ | ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ | 904 বার

পাটের দুটি নতুন শাকের জাত উদ্ভাবন

Warning: Use of undefined constant linklove - assumed 'linklove' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/chasrhxr/public_html/wp-content/plugins/facebook-comments-plugin/class-frontend.php on line 99

এবার শাকের সাথ যুক্ত হলা সোনালী আঁশ পাটের দু’টি নতুন জাত। জাত দুটি হচ্ছে বাংলাদশ পাট গবষণা ইন্সিটিটিউট (বিজেআরআই) কর্তৃক সদ্য অবমুক্তকৃত-বিজেআরআই দেশী পাটশাক-২(ম্যাড়া লাল) ও বিজেআরআই দেশী পাটশাক-৩ (ম্যাড়া সবুজ)। দীর্ঘ ৫ বছরর গবষণায় জাত দুটি উদ্ভাবন করেন বিজ্ঞানী মো. জ্যাবলুল তারেক। বুনো পাট থেকে শাকের এ দুটি জাত উদ্ভাবন করা হয়।

জ্যাবলুল তারেক বলেন, স্বাদ তিতাহীন বলে এটি অধিক সুস্বাদু ও সুুমিষ্ট। পুষ্টিগুণসম্পন্ন হওয়ায় মানুষের শাকের চাহিদা মেটানার পাশাপাশি পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করবে। শাকটি মালভেসি পরিবারের, যার বৈজ্ঞানিক নাম (Corchorus capsularis)। নতুন পাটশাকের জাত দুটিতে গড়ে প্রায় ক্যালসিয়াম (২.১৫%), পটাশিয়াম (১.৬৪%), আয়রন (৭৯০.৫ মিলিগ্রাম/কেজি), প্রোটিন (২০.৫০%), ভিটামিন-এ (১২৬.৪৫ মাইক্রোগ্রাম/গ্রাম) এবং ভিটামিন-সি (৭৫.১৭ মিলিগ্রাম/১০০গ্রাম) বিদ্যমান।

webnewsdesign.com

এ সম্পর্ক গবেষক মো. জ্যাবলুল তারেক বলেন, দীর্ঘদিন বাংলাদেশ পাট গবষণা ইন্সিটিটিউটের বাস্তবায়নাধীন পাট বিষয়ক মৌলিক ও ফলিত গবেষণা প্রকল্পে চাকুরীর সুবাদে প্রায়ই বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে গবেষণা মাঠ পরিদর্শন কিংবা মাঠ দিবসে যাওয়ার সময় এক ধরনের বুনো পাট দেখতে পেতাম। রংপুরর তৎকালীন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আইয়ুব খানের পরামর্শ নিয়ে গবেষণা শুরু করি। এই বুনো পাট থেকে উন্নত মানের আঁশ পাওয়া যায় কিনা সেটাই ছিল আমার গবেষণার লক্ষ্য। দেখা গেল, বীজ বপনের ৪০-৪৫ দিনের মধ্যই শাখা-প্রশাখা হয়ে ফুল-ফল আসতে শুরু করে। ফলে এ জাত থেক কোনা লাভজনক আঁশ পাওয়া সম্ভব হয় না। তব উক্ত প্রকল্পের আওতায় শাক হিসেবে ব্যবহারের লক্ষে নতুন করে গবেষণা চলতে থাকে। অবশেষে ৩ বছর ধরে গবেষণার পর এটি তিতাহীন সুস্বাদু সুমিষ্টযুক্ত শাকের ন্যায় সকল পুষ্টিগুণ ও বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকায় অতি সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক ম্যাড়া লাল ও ম্যাড়া সবুজ লাইন দু’টি শাকের জাত হিসেবে অনুমোদিত হয়। এ কাজে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেন উক্ত প্রতিষ্ঠানের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, ড. মো. আইয়ুব খান, ড. মো. সামিউল হক এবং প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আবুল ফজল মোল্লা, ড. মো. শহিদুল ইসলাম। গবষণালব্ধ উপাত্ত বিজেআরআইয়ের প্রজনন বিভাগ কর্তৃক উপস্থাপনের মাধ্যমে জাত দু’টি পাটেরশাক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়া পুষ্টিমান ও অন্যান্য তথ্যসম্বলিত একটি গবষণা প্রবন্ধ Taylor & Francis গ্রুপের আমরিকান ভিত্তিক আন্তজার্তিক জার্নাল ‘International Journal of Vegetable Science’ এ ইতোমধ্য প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি আরোও বলন, বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী দিনের আলো নিরপেক্ষ স্বল্প জীবনকাল উদ্ভিদ বলে এটি সব ধরণের জমিতে প্রায় সারা বছর চাষ করা যায়। এমনকি এটি অল্পমাত্রার লবণাক্ত এলাকাতেও আবাদ করা সম্ভব। পোকামাকড় ও রোগবালাই কম হয় বলে ভালোভাবে পরিচর্যা করলে এই শাকগাছ থেকে কয়েকবার শাকপাতা সংগ্রহ করা সম্ভব। বীজ বপনের ২৫-৩৫ দিনের ভেতরই শাকপাতা সংগ্রহ করা যায় এবং ফলন হেক্টরপ্রতি ৩-৪ টন পাওয়া সম্ভব। বুনােজাত থেকে বাছাইকৃত বলে বর্তমানে এ শাক এটি-অক্সিডেন্ট ও ক্যানসার প্রতিরাধী উপাদান এবং পরিমাণ নির্ণয়র উদ্দশ্য গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments