ধানের নতুন রোগ ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট (Bacterial panicle blight)

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০ | ৮:৫২ অপরাহ্ণ | 1697 বার

ধানের নতুন রোগ ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট (Bacterial panicle blight)
ব্যাক্টেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট এ আক্রান্ত ধানের শীষ। ছবি-সোহেল রানা

Warning: Use of undefined constant linklove - assumed 'linklove' (this will throw an Error in a future version of PHP) in /home/chasrhxr/public_html/wp-content/plugins/facebook-comments-plugin/class-frontend.php on line 99

BPB রোগ এর পরিচিতিঃ
ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট ব্যাকটেরিয়া জনিত দানা পঁচা রোগ বা দানা ঝলসানো রোগ নামেও পরিচিত। ব্যাকটেরিয়াটি হলুদ পিগমেন্টেড বিষাক্ত টক্সোফ্লাভিন উপাদান নিঃসৃত করে ফলে এই রোগ ছড়ায় এছাড়া বাতাসের আদ্রর্তা ৮০ শতাংশের উপরে, খুব ঘন আকারে চারা রোপন ও অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার এ রোগের প্রার্দুভাব বাড়ায়।

BPB রোগের কারনঃ
Burkholderia glumae নামক এক ধরণের ব্যাকটেরিয়া এবং জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব।

webnewsdesign.com

BPB রোগের লক্ষণঃ
ধানের শীষ বের হ‌ওয়ার সময় ও দানা গঠনের সময় কোন পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই এই রোগের লক্ষণ দেখা যায়। শিষের ছোট ছোট ধান গুলো সঠিকভাবে দানা বাধতে পারে না এবং চিটা হয়ে যায় তবে শিষের সকল দানা গুলো চিটা হয় না। আক্রান্ত ধানের দানা গুলো ধূসর/কাল/গোলাপী রং ধারণ করে।
শিষে চিটা হওয়ার ফলে ওজন থাকে না বিধায় শিষগুলো খাড়া হয়ে থাকে। সংক্রমিত শিষের নিচের অংশ সবুজ থাকে। মাঝে মাঝে খোলপচা বা চারা ঝলসানো রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

BPB কিভাবে ছড়ায়ঃ
ব্যাকটেরিয়াগুলো ধান গাছের পাতা এবং খোলে অবস্থান করে এবং তারা প্রতিকুল পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে। ধানগাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে ব্যকটেরিয়াগুলো গাছের উপরের দিকে উঠতে থাকে। ব্যাকটেরিয়া টি ধানের শিষ বের হওয়ার সাথে সাথে সেখানে আক্রমন করে। ফুলের রেনূ গুলো নষ্ট করে ফলে ধানের দানা গুলো চিটাতে পরিনত হয়। ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট সাধারণত গরম ও আর্দ্র আবহাওয়াতে বেশি ছড়ায়। যখন দিনের তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রী সেলসিয়াস এর উপরে এবং রাতের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের উপরে এরকম আবহাওয়া এই রোগ ছড়ানোর জন্য উপযুক্ত। এছাড়া অতিরিক্ত নাইট্রোজেন ব্যবহার এই রোগের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে।

BPB রোগের বাহকঃ
ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট একটি বীজ বাহিত রোগ। রোগ আক্রান্ত বীজ হতে চারা উৎপাদন করে আবাদ করলে তা নিয়ন্ত্রনের বাস্তবিক কোন উপায় নেই।

BPB দমনে সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনাঃ
১. আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি যেমন বীজ বপনের পূর্বে তা শোধন করা,আদর্শ বীজতলায় বীজ বপন, সঠিক বয়সের চারা রোপন, রোপনের সময় লাইন ও লোগো পদ্ধতি অনুসরণ করা, সঠিক মাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহার করা।
২.বীজ বপনের পূর্বে ৫ থেকে ৬ দিন কড়া রোদে বীজ শুকিয়ে নেওয়া।
৩.অক্সালিনিক এসিড দিয়ে বীজ শোধন করা। (বাংলাদেশে এ জাতীয় বালাইনাশক বাজারে নেই)
৪.রোগ প্রতিরোধী জাতের চাষাবাদ করা। জাপান ইতোমধ্যে ৯ টি এবং আমেরিকা ৬ টি BPB প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন করেছে।
৫. জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জৈব সার(যেমন-ভার্মি কম্পোস্ট, ট্রাইকো কম্পোস্ট, কুইক কম্পোস্ট, খামারজাত সার, মুরগির লিটার ইত্যাদি) ব্যবহার করা।
৬. অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার না করা।
৭. কপারঅক্সিক্লোরাইড (কপার ব্লু) , কাসুগামাইসিন (কাসুমিন ২%) , বিসমার্থিওজল (ব্যকট্রোবান), ক্লোরোআইসোব্রমাইন সায়ানুরিক এসিড (ব্যকটাফ) (বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া যায়) এ জাতীয় বালাইনাশক প্রয়োগ করে এই রোগ নিয়ন্ত্রন করা যায়।

কৃষি বিষয়ক যে কোন সমস্যার সমাধান পেতে নিকটস্থ “কৃষক তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্র (ফিয়াক)” অথবা “উপ সহকারী কৃষি অফিসার” এর সাথে যোগাযোগ করুন।

লেখকঃ সোহেল রানা
উপসহকারী কৃষি অফিসার
হালুয়াঘাট,ময়মনসিংহ।

[তথ্যসূত্রঃ NSW, Government of Australia, সোহেল রানা(উপ সহকারী কৃষি অফিসার) এবং আলী আখছার খান(উপ সহকারী কৃষি অফিসার)।]

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

Powered by Facebook Comments