মসলা জাতীয় ফসল

উঠছে নতুন পেঁয়াজ, ফলনে খুশি চাষি

নাটোর থেকেঃ

নাটোরের চাষিরা নতুন পেঁয়াজ বাজারে তুলছেন। দাম ও ফলন দুটিই ভালো। এতে চাষিরা খুশি। সাতটি উপজেলার সহস্রাধিক চাষি পেঁয়াজ থেকে লাভের আশা করছেন।

এবার পেঁয়াজ চাষ করে বিঘাপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ মণ হারে ফলন হবে বলে আশা করছেন চাষিরা। এতে খরচ বাদে বিঘাপ্রতি দেড় লাখ  টাকার বেশি লাভের আশা করছেন তাঁরা।

নলডাঙ্গা উপজেলার শাঁখারীপাড়া, নশরতপুর, মোমিনপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এসব গ্রামে কিছু চাষি কৃষি প্রণোদনার আওতায় পেঁয়াজ চাষ করেছেন। কোনো কোনো কৃষক জমি থেকে পেঁয়াজ তুলতে শুরু করেছেন।নতুন পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে বিক্রি করছেন।

কৃষক আইয়ুব আলী জানান, তিনি নশরতপুর মাঠে কৃষি বিভাগ থেকে প্রণোদনার আওতায় এন-৫৩ জাতের এক কেজি পেঁয়াজবীজ পেয়ে বপন করেন। ৪৫ দিন পর সেই জমি থেকে চারা তুলে এক বিঘা জমিতে রোপণ করেন। এতে খরচ হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা।

মাত্র তিন মাসের মাথায় তিনি কিছু পেঁয়াজ তুলে বিক্রি করেছেন। মণপ্রতি দাম পেয়েছেন তিন হাজার ৬০০ টাকা। তিনি আশা করেন, এই এক বিঘা জমি থেকে কমপক্ষে ৮০ মণ পেঁয়াজ তুলতে পারবেন। বর্তমান বাজারদর অনুসারে তিনি দেড় লাখ টাকার বেশি লাভ করবেন।

শাঁখারীপাড়া গ্রামের কৃষক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, তিনি কিছু পেঁয়াজ তুলে বিক্রি করেছেন।

তিনি আশা করছেন, তাঁর জমিতে ভালো ফলন হবে। একই গ্রামের কৃষক বারকুল্লা জানান, তিনিও এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছেন। তবে তাঁর পেঁয়াজ তুলতে আরো কয়েক দিন সময় লাগবে। তিনি আশা করছেন, ৯০ থেকে ১০০ মণ ফলন পাবেন।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাতটি উপজেলায় এক হাজার ১০০ কৃষকের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের গ্রীষ্মকালীন এন-৫৩ জাতের এক কেজি বীজ, এমওপি ২০ কেজি, ডিএপি সার ২০ কেজি ও দুই হাজার ৮০০ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এই পেঁয়াজবীজ থেকে ফলনও ভালো হচ্ছে।

নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফৌজিয়া ফেরদৌস বলেন, খরিপ মৌসুমে ২০২৩-২৪ অর্থবছর উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজবীজ কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ১০০ কৃষককে প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। উপজেলায় সারা বছর গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদন করলে শুধু স্থানীয় চাহিদা নয়, দেশের চাহিদা পূরণে বিরাট ভূমিকা পালন করবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নাটোরের উপপরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘পেঁয়াজ শীতকালীন ফসল। বছরে একবার আবাদ হওয়ায় প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে ও শীতের শুরুতে পেঁয়াজের সংকট দেখা দেয়। সংকট মেকাবেলায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। ভোক্তা ও স্থানীয় কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় দুই বছর ধরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরকারি প্রণোদনার আওতায় উপজেলাগুলোতে সীমিত পরিসরে গ্রীষ্মকালীন ইনয়ান এন-৫৩ জাতের পেঁয়াজ চাষ শুরু হয়। চারা রোপণের ৯০ দিনের মধ্যে এর ফলন পাওয়া যায়। এতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদনে কৃষকরা ঈর্ষণীয় সাফল্য পেয়েছেন। গত বছর আমরা গড় ফলন পেয়েছি ১০০ মণ হারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটি পরীক্ষামূলক চাষাবাদ। আমরা পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে দেশীয় উদ্ভাবিত বারী-৫ জাতের পেঁয়াজ চাষে ভবিষ্যতে উৎসাহিত করব। যাতে দেশীয়ভাবে পেঁয়াজ উৎপাদনে আমরা স্বাবলম্বী হতে পারি।’

কালের কন্ঠ-এর সৌজন্যে।

Avatar

চাষাবাদ ডেস্ক

About Author