মোজাইক ভাইরাসের ক্ষতি কমিয়ে দ্রুত ফলন, বাড়ছে কৃষকের লাভ
নিজস্ব প্রতিবেদক | চাষাবাদ ডটকম
বাংলাদেশে ঢেঁড়স চাষে মোজাইক ভাইরাস দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হলেও ভাইরাস সহনশীল নতুন জাত ‘বাসন্তী কিং’ কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই জাতের ব্যবহার কৃষকের উৎপাদন ঝুঁকি কমিয়ে লাভ বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে মাঠ পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে।
ঢাকার কেরানীগঞ্জের হযরতপুর এলাকার কৃষক খোরশেদ আলম জানান, তিনি প্রায় সাত বছর ধরে ঢেঁড়স চাষ করছেন। তবে আগে ভাইরাসজনিত কারণে নিয়মিত ক্ষতির মুখে পড়তেন। তিনি বলেন, “ভালো জাত বাছাই করতে না পারায় লাভবান হতে পারিনি। কিন্তু গত তিন বছর ধরে ‘বাসন্তী কিং’ জাত চাষ করছি। এই জাতের গাছ সুস্থ থাকে, ভাইরাস সহনশীল এবং মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যেই ফল সংগ্রহ করা যায়। এতে এখন আমি লাভবান হচ্ছি।”
মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারাও এই জাতের কার্যকারিতা নিয়ে ইতিবাচক মত দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, মোজাইক ভাইরাস ঢেঁড়সের একটি বড় সমস্যা হলেও সহনশীল জাত ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তার ভাষায়, “যেখানে সাধারণ জাতের ক্ষেত্রে ৪৫ থেকে ৫০ দিনে ফল সংগ্রহ করতে হয়, সেখানে ‘বাসন্তী কিং’ জাতে ৩০ থেকে ৩৫ দিনেই ফল পাওয়া যায়। গাছে গিঁটে গিঁটে ফল ধরে এবং ছোট গাছেই ভালো উৎপাদন পাওয়া যায়। মাঠ পর্যায়ে এ জাতের ফলন সন্তোষজনক।”
বেসরকারি বীজ কোম্পানি -এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডি. অ্যাগ্রিকালচারিস্ট সিয়াম মাহমুদ বলেন, “ঢেঁড়স চাষে ‘বাসন্তী কিং’ জাত কৃষকদের জন্য একটি কার্যকর ও লাভজনক সমাধান। ভাইরাস সহনশীলতা এবং দ্রুত ফলনের কারণে কৃষকের ঝুঁকি কমে এবং আয় বাড়ে।” তিনি আরও জানান, আধুনিক কৃষির উন্নয়নে বিভিন্ন সবজি, তরমুজ, রকমেলন ও সুইট কর্নসহ নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণে তাদের প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে এ ধরনের উন্নত ও সহনশীল জাতের বিস্তার ঘটানো গেলে দেশের সবজি উৎপাদন আরও বাড়বে এবং কৃষকের আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার হবে।

